মৌসুমী ভৌমিকের কবিতা

মৌসুমী ভৌমিকের কবিতা

সুতা ছিঁড়ে স্বপ্ন ও বুননে

এই যে যে মানুষটা বুননে বুননে ঢেকে দেয় লজ্জা,
জননী কিংবা জন্মভূমির।

এই যে যে মানুষটা আদিম সভ্যতাকে উঠিয়ে নিলো আরও এক ধাপে, ছেঁড়া জামায় খালি পায় কি রুক্ষ
চুল !

ঘরে নেই চাল,চালে নেই খড়কুঁটো। নিজের মুখ
ঢাকে লজ্জায়। হারিয়ে গেছে সোনালী অতীত।
ছানি পড়া চোখে,বয়সের ভারে,শরীরটা গেছে বেঁকে।

প্রতিদিন একটু একটু কোরে মৃত্যুকে পান করে প্রজন্মকে দিতে এক পেয়ালা ভরা রোদ।

খটাখট্ খটাখট্ তালে ছন্দ তুলে তুলে মাথা দুলায়
উপাসনার ভঙ্গিতে।

ওরা তো সুতার বুননে সুতা ছিঁড়ে গেলে জোড়েনি
আঁঠায়,ওদের রক্ত ঘাম হয়ে ঝরে ঝরে জোড়া লাগে
সুতায়। ওদের ঐতিহ্যের ধারায় অশ্রু দিয়েই গেঁথে
যায় দৈনন্দিনের কল্পগাঁথা অল্প অল্প করে একনিষ্ঠ
সাধকের মত।

একি খেয়ালি মনের ভাবনা নাকি ভেতরের কোনো
স্পষ্ট তাগিদ ?
মানব চেতনার সূক্ষ্ম প্রকাশ বিকশিত করে চলেছে আজও এক একজন যুগন্ধর শিল্পীকে।

এ যে তাঁর নান্দনিক প্রবৃত্তি,এটাই তাঁর শিল্পভাবনার
বুনিয়াদ, এ যে তাঁর সাংস্কৃতিক চেতনার অকৃত্রিম
প্রকাশ,এ যে তাঁর সামগ্রিক জীবনবোধ,যা আদি অনন্ত কাল থেকে সমাজের রক্ত সঞ্চালিত করে চলেছে শিরায়-উপশিরায়।