পিঙ্কু চন্দের কবিতা

হৃদয়ের খুঁজে
অস্থি পাঁজরে শূন্য কলসি
গোপন স্রোতে ভেসে যায়
নরম হৃদপিণ্ডে চৈত্রের খরা
ভাবনা জগতে বিস্তর ফারাক
যত দূরে ভেসে যায় কলসি
নিরব বাতাসে বয় দীর্ঘশ্বাস
শেষ বিকেলের ঘন্টা শুনি
নেমে আসে ঘাসফুল রাত
ও আমার রাতের আকাশ
আমারে নির্ঘুম চোখের তারা
খুঁজে দেখো হারানো হৃদয়
কোন সে সাপের পেটারায়।
কাকতাড়ুয়া
মস্ত এক খোলা আকাশ
তার নিচে আমি কাকতাড়ুয়া
রোদ মেঘ মাখা শরীরে
ছাই চূণে লেখা ভাগ্যলিপি
ছুঁয়ে দেখে সূর্য প্রতিদিন
দেখি মানুষ আর পাখি
পাখিরা পাশে আসে না আমার
পাখির জন্য হাপিত্যেশ করি
আমারও খুব ইচ্ছে করে
ভেঙে দিয়ে খড়ের শরীর
একদিন আমিও মিছিলে যাবো
রাজার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে।
মানুষ একা
মানুষ একা, একা সমূহ বিষ্ময়
শেকড় বাকড় যত প্রোথিত হোক
বৃক্ষেরা তবু নিঃসঙ্গ এবং নিথর
ঘুরপথে এদিক-ওদিক যাবে
আঁধারে আলোকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভারে
ফিরে আসা সেই পরিচিত মাটিতে
হাজার ওয়াট আলোর কোলাহল
চরাচর ব্যাপ্ত করে দহনের শিখা
সময় যেন সরীসৃপের আস্ফালন
মানুষ যদিও একা একাকী ভ্রমণ
তবু বৃক্ষলতা আঁকড়ে ধরা জীবন
শেষ অবধি খুঁজে ফেরে অবলম্বন।