অনঞ্জনের কবিতা

অনঞ্জনের কবিতা

হঠাৎ লাবণ্য নয়

মৃত্যু কোন হঠাৎ লাবণ্য নয়, অনিবার্যতার সুরের ঝঙ্কার,
জীবনকে মরীচিকা মনে হয়, ভেজা-ভেজা মাটিতে হঠাৎ রোদ্দুর,
কবিতার সুখস্বপ্ন শেষ হলে ছায়ামেদুর সুর কাঁপুনি দেয়,
মনে হয় কতবার শোনা সুর- ঋষিকল্প উচ্চারণে স্তব্ধ ভয়
ঝড়ের মুহূর্তে জারিত বেদনে, বিশ্বাসী শোকের শান্ত নীরবতায়,
এক অসহায় টলমলে শিশিরে ভোরের সূর্যালোকের মতো বাঙময়।

মৃত্যু কোন হঠাৎ লাবণ্য নয়, দ্রুততম স্বপ্ন যেমন ছুটে আসে
উল্কার মতো রক্তবিন্দু যেন, অসীমের সুসংবাদে ঘোর অবিশ্বাসে,
ফেটে যায় আকাশে সব বুদবুদ- খামচানো সময়ে ওটুকুই জীবন;
অপরূপ মুহূর্তকে ভালোবেসে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দাও ক্লান্ত আগুণ,
তারপর, অবিরল অন্ধকারে সময়ের মৃদু মৃদু প্রশ্রয়ে বসে থাকো-
এ লাবণ্য দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, আর কোন তাড়া নেই, চিন্ময়কে দেখো।

ব্যথার অভ্যেস

ব্যথার একটা পাশেরবাড়ির সিঁড়ি থাকে
ফোঁটা ফোঁটা অন্ধকারের তান,
ব্যথার মাঝে, একটা সত্য-স্নিগ্ধ ঘর আছে
একলাবেলা্র হাপুসজলে স্নান;
বারান্দাতে, কি শব্দগোপন পুকুরপাড়ে
অলস আলোর নরমদুপুর,
খরস্রোতার ভিজেচুলে গোপন আলো
করমচা গাছে রোদালি অদূর;
ব্যথার বুঝি চিলেকোঠায় সদা-হেমন্ত,
মস্তিষ্কে ভাঙা-চাঁদের সম্ভ্রম,
একলা-খাটে ঘুমিয়ে পড়া আলগা অভ্যেস
না-শুকোনো ক্ষত, মিথ্যে বিভ্রম;
সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টিচারার আদুরে মাথা
চাগিয়ে ওঠে বুকের আনচান
ব্যথার আলো সুর ঘনিয়ে সময়জ্ঞানে
পাঁজর ছেঁচে বান ডাকে যে, বান!

মানুষ দেখেছ

তুমি মানুষ দেখেছ? মাটিতে পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ!
সে ক্ষমা করতে জানে, ব্যক্তির চেয়ে ঢের বেশী সূর্য সেখানে,
নিজের বিষণ্ণতা ভুলে নগণ্যকে গণ্য করে, দু-বাহু ছড়িয়ে-
যেন একটি ঝর্ণার ধারা; বুকে আগুণ আগলে রাখে ফুলকি উড়িয়ে,
সে ক্ষমতায় সহজ, তার মোটে মতি নেই অজাতশত্রুতে,
মানুষ দেখেছ তুমি, পালাতে পারেনা সে যে, গুহার পিছনে।