সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা
পুনরুত্থান
নিভু নিভু আকাশে যেই ঘনিয়ে এল মেঘ
তোমার চোখের তারায় তারায় দেখেছি উদ্বেগ।
অনেক চেনা কেমন করে খুব অচেনা হয়
জীবনখাতা গোলকধাঁধা সরলরেখা নয়।
শান্ত জলে হঠাৎ হঠাৎ ছলকে ওঠে ঢেউ
ঘুমের মাঝে চমকে দেখি পাশেতে নেই কেউ।
নেই তাতে কি, একলা বাঁচি, একাই টানি দাঁড়
স্বপ্ন দেখি আকাশ ছোঁব, সমুদ্দুরের পার…
বিরহ
সেটা স্পষ্ট ভাবে খোদাই হয়ে আছে
সেটা মরতে গিয়ে আবার বেঁচে ওঠে
তাকে মারব বলে মিথ্যে ছোটাছুটি
সেটা রোজ সকালে পদ্ম হয়ে ফোটে ।
সেটা হারিয়ে গেলে দারুণ ভাল হত
সেটা অনেক বেশি কষ্ট বয়ে আনে
সেটা দিনের শেষে নিদ্রা কেড়ে নেয়
সেটা কাঁটার মত বিঁধেই থাকে প্রাণে ।
তাকে এড়িয়ে যেতে দু’হাতে চোখ ঢাকি
তাকে ভুলব বলে মিথ্যে ছুটে মরি
তার মায়ার জালে বদ্ধ আমি আজও
তার গভীর জলে ডুবে আমার তরি ।
তার শীতল বিষে জ্বলছে গোটা দেহ
তাকে ভুলব বলে তিলক মাটি আঁকি
তার আবছা মুখে কাপড় ঢেকে দিলে
তার স্মৃতির কথা বলে ভোরের পাখি।
আমাদের বেঁচে থাকা
“And gentle wishes long subdued
Subdued and cherished long”- Coleridge
সব ইচ্ছেগুলো তোলাই থাকল
অবাস্তব ভবিষ্যতের সোনালি খাতায়
এটা খারাপ ওটাও ভাল নয়-
ইত্যাদি বিভিন্ন বিধিনিষেধের পৃথিবীতে
বেঁচে থাকাটাও আসলে নিষিদ্ধ।
বলব বলব করে মনের কথাগুলো
বলাই হল না কোনোদিন ।
কাঁচা বয়সের অদম্য আবেগ-
সেটাকেও দমন করেছি তিলে তিলে।
আসলে আমরা বাঁচি নি কোনোদিনও ।
তিল তিল করে মরতে মরতে
এগিয়ে চলেছি মরণের সীমানায়…