ফারজানা শারমিনের কবিতা
বৈষ্ণবী
আকাশ নদী ও সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে
ভোরের শিউলি ঝরা হাওয়ায় আঁচল উড়িয়ে
আমি বাতাসে কান পেতে শুনেছিলাম তোমার ভালোবাসার কথা
তুমি কি চাঁদের পালকি নিয়ে আমার দুয়ারে এসেছিলে ?
কাল রাতে শুধু নয়,
প্রতি রাতেই প্রতি মধ্যরাতে যেন তুমি হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ো হে সন্ন্যাসী,
এসে বলো এই যে আমি এসেছি বৈষ্ণবী আমি এসেছি,
তোমার ভালোবাসার গেরুয়া আঁচলে জড়িয়ে নাও আমায়
অনন্ত আকাশ সারা রাতে চেয়ে দ্যাখে,
তোমার আমার নীরব প্রেমের ইতিকথা
চুপিচুপি বিনি সুঁতোর মালা গাঁথা,
লাইট হাউসের আলো সমুদ্র জলস্রোতে ভেসে যায়
সময়ের স্রোত নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে ইস্তাম্বুলে পৌঁছায়,
পরিযায়ী পাখিরা ভোররাতে বিলীন হয় শেষ দিগন্তে,
কাল রাতে শুধু নয়,
প্রতি রাতেই প্রতি মধ্যরাতে যেন তুমি হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ো হে সন্ন্যাসী,
আর পায়ের চিহ্ন রেখে পথ হেঁটে যাও তুমি
যাবার আগে বলে যাও
আবার আসবো রাতে দরজা রেখো খোলা রেখো বৈষ্ণবী…
প্রেমিক পুরুষ
রুপের জৌলুশ্য সবটুকু দিয়েছি তোমায়
সমর্পণ করেছি উতপ্ত হৃদয় উৎসর্গ করেছি শ্রেষ্ঠ সময়
কতো বেপরোয়া চুম্বনে মিটিয়েছি তোমার কাতর ঠোঁটের তৃষ্ণা,
ছুঁয়েছি তোমার স্পর্শের আঙুল, নগ্ন দেহাবয়ব,
তোমার কাছে আমি হয়েছি নিঃশেষ নতজানু
নির্জন নির্লজ্জ সুখে যেন এখনো কাটেনি ঘোর,
তোমার প্রশস্ত বুকে লেগে আছে আমার ঠোঁটের চিহ্ন
পূর্ণিমার বাসর রাতে,
রমণ ক্লান্তির পরে হৃদয়ে আর কতোটুকু প্রেম ঢেলে দিলে
অতঃপর তুমি শান্ত হবে হে প্রেমিক পুরুষ ?
রাত ভোর হয়েছে, নিভে গেছে প্রদীপ
পড়ে আছে কাঁচের ভাঙা চুড়ি নষ্ট টিপ,
অগোছালো বিছানায় এসে শুয়ে আছে রোদ,
আড়ষ্ঠ চিবুকে কতোটুকু স্পর্শ মেখে দিলে
অবশেষে তুমি শান্ত হবে ?
চোঁখ বুজলেই দেখি তোমার প্রেমের রোশনাই
নির্জন নির্লজ্জ সুখে যেন এখনো কাটেনি ঘোর…
হে হৃদয় শিকারী
হে হৃদয় শিকারী,
আমার অবাধ্য ইচ্ছেগুলো কি তুমি দেখতে পাও ?
আমার ইচ্ছেগুলো কতো ভাবে আলপনা এঁকে দিয়ে যায়
তোমার হৃদয়পটে তুমি কি তা অনুভব করতে পারো ?
বলতে পারো অভিমানের উৎস কোথায় ?
এটা খুব বেশি ভালোবাসি বলে ?
নাকি খুব বেশি অধিকার দিয়েছো বলে ?
কেন জানতে চাইছো আমার সুগভীর চাহনিতে কেন এতো মায়া ?
কেন জানতে চাইছো কতোটা ভালোবাসি তোমায় ?
যতোটা কাছে থাকলে শরীরের গন্ধ পাওয়া যায়,
হাজার মাইল দূরে থেকেও তোমার গায়ের গন্ধটাকে আমি ঠিকই শুকে নিতে পারি,
ততোটাই কাছে রয়েছি দিনের পর দিন, থাকবো অনন্তকাল,
তোমার কাছে থাকতে থাকতে
তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাসের উত্তাপ আমি ঠিক
অনুভব করতে পারি,
ততটাই কাছে থাকা অভ্যেস হয়ে গেছে,
ঠিক ততটাই ভালোবাসি যতোটা ভালোবাসলে
তোমার শার্টের সবকটি বোতাম আমার চেনা,
তোমার পড়ার টেবিল অগোছালো বইপত্র সে খবরও আমার আছে জানা,
ঠিক ততটাই ভালোবাসি যতোটা ভালোবাসলে
বুকের বাঁ পাশের হৃদপিন্ডের স্পন্দন অনুভব করতে পারি,
এক ছাতার নিচে বহুবার বৃষ্টিতে ভিজেছি আমরা,
তোমার বৃষ্টিভেজা শার্ট আর আমার নীল শাড়িটা
সেদিন একে অপরকে ছুঁয়ে দিয়েছিলো নিবীড়ভাবে,
আমরা একে অপরকে ছুঁয়েছি অন্তর আত্মায়,
গভীর থেকে গভীরে কাছাকাছি থেকে রোজ আমরা ভালোবেসেছি নির্দ্ধিধায়,
তুমি খোঁপায় ফুল গুঁজে দিয়ে বললে একমাত্র বিশ্বাসই ভালোবাসা,
তুমি মায়া ভরা চোখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললে
মৌ তোমার বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দুটো যেন আমাকে টানছে চুম্বকের মতো,
আমি চোখে চোখ রেখে তোমার কথায় হারিয়ে গেলাম,
তুমি বললে মৌ তোমাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি,
তোমাতেই আমার অস্তিত্ব,
আমার অবাধ্য অগোছালো চুলগুলোকে সরিয়ে বললে সুগন্ধিটা তুমি দারুণ মেখেছো,
কন্ঠে তোমার দৃঢ়তা,
আমায় বিদ্ধ করতে চাইছো তুমি কামনার শাণিত ফলায়,,
প্রটিতি নিঃশ্বাসে যেন আগুন ছুঁয়ে যায় আমায়
আমি এড়িয়ে যেতে চাইলাম
কিন্তু তোমার ভালোবাসার মন ও শরীরকে আমার কাছে থেকে আলাদা করা দুস্কর,
পরক্ষণেই পরম মমতায় বুকের মধ্যে লুকিয়ে বললে
ভালোবাসার তীব্রতা বুঝো তুমি মৌ ?
আমার রক্তে মরফিনের নেশা তুমি,
যতোটা ভালোবাসলে পৃথিবীতে স্বর্গ নেমে আসে,
মানুষের চরমতম সুখানুভূতির ভাষা আজ অবধি তৈরি হয়নি,
তুমিই আমার সুখানুভূতি তুমিই আমার স্বর্গ মৌ…