সন্দীপ রায়ের কবিতা
নীল আকাশের নীচে
ভিতরে মেঘ জমেছে অনেককাল আগেই
মেঘের পরে মেঘের পরত, বিদ্যুত চমক ,
বাইরে দ্রুত গড়াচ্ছে সময়
সময়ের হাতে মুঠোবন্দি উদ্বেগ-
উচ্ছ্বাসে ভাসল না কেউ,
শুধু একটি দু’টি বক,মেঘের চাদরে
অজানার সন্ধানে মেলে দিল ডানা ।
জীবন মৃত্যুর চেয়ে অনেক অনেক বড়
কিছুই নেই ,তবু যেটুকু আছে তাই স্বর্গ।
গৃহস্হালী সামলে—অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম …
স্বপ্নের আকাশে মাঝ রাতে ঝড় ওঠে
ছবি আর ছবি থাকে না
ছায়া হয়ে দূরে সরে সরে যায় ,
দিশেহারা ঝরা পাতা নিষেধের কাঠগড়ায়
তাণ্ডব বলে যায় শতাব্দী প্রাচীন ধ্বংস-কথা ।
পা আছে অথচ মাটি নেই, শুধুই জল
মাথা আছে— ছাদ নেই,সবটাই খোলা আকাশ …
অভাবী মানুষগুলোর চোখ খোলা আকাশের স্থির।
অনুরাগ
সন্ধ্যা গাঢ় হলে নিমেষে দুটি ছায়া
কাঁধ ছুঁয়ে আরও ঘনিষ্ঠ, মুখোমুখি…
ভারী ঠোঁট অন্ধকার হাতড়ে
নম্র ঠোঁটের নিবিড় স্পর্শ সুখ,
সেই কবে যৌবনের অসমাপ্ত চুম্বন—
সেদিনও ছিল ধবধবে সাদা
জ্যোৎস্না মাখা তারা ভরা রাত ।
অজান্তেই হাত কাঁপে আবেশে
নড়ে যায় মূর্তির অবয়ব ,
রঙ তুলির গাঢ় প্রলেপ
অপূর্ণ চক্ষু দান পর্ব।
খোলা আঁচল মাটিতে লুটোপুটি
ঘন নিশ্বাসে বাতাস ভারী
মাধবী লতা জড়িয়ে কোমর
সন্ধ্যা মালতীর চোখে অমৃত তৃষ্ণা…
একমুঠো খোলা হাওয়ায় নিরাভরণ শরীর।
কলঙ্ক দাগ রেখে যায় কলঙ্কিনী চাঁদে…