সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা
কেমন আছ?
কঠিন বাস্তবতাকে ভুলতে,
বেশি কথা না বাড়াতে,
তেতো সত্যকে এড়াতে,
নিজেকে লুকোতে
আমরা সকলেই যে প্রশ্নের মিথ্যা উত্তর দিই সেটা হল,
‘কেমন আছ?’
বুকের গভীরে যন্ত্রণা লুকিয়ে ভাল থাকি।
জামার অস্তিনে রক্তের দাগ লুকিয়ে ভাল থাকি।
সব ইচ্ছেগুলোকে এক এক করে মরে যেতে দেখে ভাল থাকি।
‘ভাল আছি’ কথাটার উচ্চারণের মধ্যেই কোথায় যেন একটা যন্ত্রণার মোচড় লেগে থাকে।
মিথ্যের মুখোশ খুলে ওই ছোট্ট কথা দুটির মধ্যেই উঁকি মেরে যায় আমাদের দোমড়ানো মোচড়ানো খারাপ থাকা।
আমরা জানি কেউ ভাল নেই
কেউ ভাল থাকে না,
তবুও জিজ্ঞাসা করি-
‘কেমন আছ?’
অঙ্গীকার
মৃত্যু যতই এসে ধমকানি দিক
দুঃখের কথামালা থেমে যাবে ঠিক।
সেইদিন আর নেই খুব বেশি দূরে
আবার উঠবো গেয়ে পুরানো সে সুরে।
বন্ধু গো দেখা হবে পরশু বা কাল
অতিমারী শেষে হবে খুশির সকাল।
বাক্যহারা
বুঝতে পারনি বুঝতে চাওনি বলে,
সুরের ইশারা ক’জনে বা বলো বোঝে?
কত কত মেঘ রোজ চলে যায় ভেসে
অবুঝ মনটা তবুও তোমায় খোঁজে।
নদী ছুটে চলে, মেঘেরাও ভেসে যায়-
পাহাড়ের থেকে ঝর্ণারা এসে নামে,
তবু একা একা বিষন্ন সন্ধ্যায়
না বলা কথারা থেকে যায় নীলখামে।
গুমরে গুমরে এ কেমন বেঁচে থাকা?
চারদিক জুড়ে নীরবতা, গিরিখাত
সময় চলে না, থমকে থেমেছে চাকা,
ঘিরে ঘিরে ধরে অমাবস্যার রাত।
ভাঙা ডানা নিয়ে তবুও তো পথ চলি,
শীতের বিকেলে ক্লান্ত রোদের মত
বিষাদ রাঙানো নদী আর কানাগলি,
দিগন্ত জুড়ে মন খারাপের ক্ষত।
আলবিদা
আমাকে এবারে দূরে যেতে হবে পাখি
এতটাই দূরে, ফেরা তো হবে না আর
এত এত স্মৃতি কীভাবে যে ঢেকে রাখি,
এগোতে গেলেই ঘিরে ধরে বারবার।
কত ভাল হত, তুমি যদি উড়ে যেতে
শ্রাবণ আকাশে চাতক যেভাবে ওড়ে
নতুন মেঘেতে কত না সঙ্গী পেতে
খুব ভালবেসে রাখতে আপন করে।
গুমরে গুমরে মনমরা দিন-রাত
চারদিকে শুধু থমথমে আর কালো
এগোতে পারিনা, পিছোলেও গিরিখাত
সেসব জেনেও কেন যে বেসেছ ভাল!
ডানা ভেঙে গেছে, দুচোখে আসে না ঘুম,
আমাকে এবার বিদায় জানাও পাখি।
যদি ফিরে আসে ভাল কোনও মরসুম
খুব ভাল থেক, জীবন অনেক বাকি…
যে ফুল ঝরেই গেছে
কী হবে তাকে মনে রেখে?
নতুন কুঁড়ি ফুটুক
নতুন সূর্য উঠুক
নতুন ভোরের ছবি নাও এঁকে।
অনুরাগ
বয়ে চলুক নদী
সেই ঝরা ফুলের স্মৃতি
তবু্ও ফিরে ফিরে আসে যদি
যতই জ্বলুক আগুন দাউ দাউ
ঝরা ফুল বেঁচে থাকে
কোথাও না কোথাও…