তাপসকিরণ রায়ের কবিতা
আগুন
সর্বনাশা আগুনের মাঝে প্রতিক্রিয়া আছে
তোমার ভ্রূণ জন্ম নিচ্ছে
ভালবাসার অগ্নিসাক্ষী অতঃপর মরে যেতে যেতে
জন্ম দিচ্ছে অন্য আর এক ভালবাসা
আপেক্ষিক শব্দের মাঝে ডুবে আছে তোমার সত্ত্বা
শ্বাসের তাগিতে আবার বুঝি ভেসে ওঠা
এক একটা রাতভাঙা সকাল, পাখির গান ও রঙের মাঝে
আবার জ্বলে ওঠে বাতি ঘর।
লাস্য রাত ছায়ায় তোমায় ভুলে যাবার ভ্রান্তি
বাসনার টানাপোড়েন দেখি,
ভালবাসার সজ্ঞাগুলি ক্ৰমশঃ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে
ব্রহ্মাণ্ডের ছিদ্রে বুঝি ধরা ছিল কিছু মানুষের বীজ
প্রমাণহীন জন্ম নিচ্ছে কত শত মনুষ্য ক্লোন।
আকর্ষ লতা
আমার দিকে তাকাও-
ভালোবাসার কথা না হয় থাক-
ভাল লাগলে আমি উদ্বুদ্ধ হই।
এই যে সময় বয়ে যায়, উৎফুল্ল রংগুলি
তোমার মধ্যে জমা থাকে।
যে ফুলদানি সাজিয়েছো ফুলে
উড়াল রংপাখি বাঁধা পড়ে তোমার খাঁচায়,
বন্ধ কিছু কথা বলার অপেক্ষায় থাকে না।
তুমিও তো চাও আকর্ষ লতায় তোমিও জড়িয়ে যাও।
ঈষৎ ছুঁয়ে যাওয়া মনটুকু হোক না অলীক,
তোমার অনাবিল উৎস থেকে অনর্গল খুলে আসছে
প্রজাপতি দল, তোমার সজ্জার রং চকোর,
তার সজাগ দৃষ্টি কেড়ে নিতে তুমি উজাগর।
বন্ধ আয়নায় কোথাও তো জড়ানো আছে সোনালী
আকর্ষ লতা। কোথাও তো জীয়ন কাঠি
মাঝে মাঝে জীবনকে ছুঁয়ে গেলে
আগামীর আনন্দ গানে তুমি ধরে থাকো সঞ্জীবনী।
মরশুমি
স্বপ্নগুলি লাল আপেলে ঝেঁকে আছে
তবু চৈত্র খরায় তুমি ঠায় দাঁড়িয়ে
বস্তুত দীর্ঘ অপেক্ষাগুলি বহুক্ষণ থেমে থাকে
ছুঁতে ছুঁতে ভালবাসাগুলি আবার নিরাশ্রিত
প্রতীক্ষার পর আবার মরশুমি নামা আপেল জন্ম নিচ্ছে
গাল তার লালাভ, তোমার চোখে মুখে ভালবাসার দাগ
ফুটে উঠছে, আবার মিলিয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলিত কথাগুলি
যে শব্দ দিয়েছি তোমায়, যে ছবি দেশান্তর,
তা দিয়ে কবিতা বানিয়ে দাও বুক,
ছায়া নিয়ে ছায়াতীত ভাবনা,
ঝংকার নিয়ে সমস্ত গানের স্বরলিপি,
বাতাস নিয়ে বৈশাখী ঝড়,
মাটির ফাটলে উদাসী খরার চিত্র আঁকা আছে দেখো !
ঘূর্ণ ফুঁৎকারে তোমার চরিত্র আঁকা—
নৈর্ব্যক্তিক ভাবনার আন্দোলিত কথাগুলি
তোমার কবিতা হয়ে যায়।
কান্না
খুব কান্না পেলে একজন কেউ এসে তোমায় সান্ত্বনা দিক,
এমনটা ভাবতেই পারো তুমি।
কেউ এসে একটু ছুঁয়ে দেবে ভালোবাসা তোমার,
কিংবা অবলম্বনের স্নেহহাত তোমার কাঁধে এসে ঠেকাবে।
তবেই বুঝি সে কান্নার সার্থকতা খুঁজে পাবে তুমি।
যদি তুমি অঝোরে কেঁদে যাও—
তোমার পাশে দাঁড়ানো আপনজন তবু আসে না পাশে—
না দেখার ভানে অথবা আপন বোধের অভাবে।
তুমি নিজের রুমালে মুছে নাও নিজের কান্নাজল-
সেই জল শুকিয়ে একটা সময় তুমি কি হৃদয়হীন হয়ে যাবে?
নাকি তোমার মধ্যে জন্ম নেবে অভিমান
আর সে অভিমান জমে জমে কঠিন পাথরের সৃষ্টি হবে—
তখন তোমাকে আর কেউ খুঁজে পাবে না-
তুমি শক্ত এক কষ্টিপাথরের মূর্তি হয়ে যাবে।