সফিয়া জাহিরের কবিতা
নিতলে হারায় প্রাণের কোলাহল
আকাশ থেকে শিশুরা হামাগুড়ি দিয়ে নেমে আসতেই
সবুজ দূর্বাঘাস খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে
শিশিরগুলো হয়ে যায় স্রোতস্বিনী নদী
দুকূল তার ভরা ফসলের মাঠ,
পড়ে নেয় বুকের হরফ
ঝুমঝুম ছন্দে বাজে কিশোরীর নুপুর
অলকানন্দা বনে
গুটিসুটি মেরে কখন যে আসে আততায়ী
কেড়ে নিতে শুদ্ধ প্রাণ, বুঝতে পারেনি কেউ
দেখেনি দূর্বাদল, নদীর জল, উতল বাতাস
লাল ছোপ ছোপ রক্তে ভেসে যায় মাটির শরীর, নেমে আসে অন্তহীন অন্ধকার –
নিতলে হারিয়ে যায় প্রাণের কোলাহল।
কাসুরি মাখা মাংস
কাসুরি মেথি মাখা খাসির মাংসের ঘ্রাণ
স্ট্রিট ফুডের পোড়া গন্ধ
প্রেমিকেরা ঢলে পড়ে পাতানো বেঞ্চে
গালে গাল ঘেষে কি কথা হয়, কে জানে
রাতের আহারে সিরাজের সাথে
আলতো করে ছুরি দিয়ে কেটে মুখে পুরে মাংস
মানব মানবী দেখে স্বপ্নের সেতু
কেউ দেখে মৃত্যুর চিরকুট
কেউ পেয়ে যায় ভালোবাসার লাল গোলাপ
কাঁচের দালান, ওয়াকি টকি বিল্ডিং
রুপটপ গার্ডেন সেখানেও ভিড়
সুখ যেন পায়রার শরীর উড়ে বেড়ায় সবখানে
রাতের শরীরের মেদে জমে হাহাকার
গ্রাফিটিরা দেয়ালে দাঁড়িয়ে করে চিৎকার
করুন সে চিৎকার ভেসে বেড়ায় দূষিত ধোঁয়ায়
কালো পথে ঘামের সাথে ঝরে তাজা রক্ত।
আততায়ী
নীল টবে রোপণ করেছি কলমিলতা
খাদ্য তালিকায় শুধুই নিরামিষ
ভিগান বলতেও পারেন
ডিমের হলুদ কুসুম দেখলে মনে হয়
একটা বাচ্চা মোরগের হাড় খাচ্ছি চিবিয়ে
সুপার স্টোরে সেলফে রাখা সাজানো দুধের বোতল দেখে ভাবি
বকনা বাছুর থেকে কেড়ে নিয়ে পান করছি
ক্রিম মাখানো দুধ
বিষাক্ত মাশরুম দখল নিয়েছে টবের জমিন
যেন মহাজনের ছাতা
চেনা বড় কঠিন, মোহগ্রস্ত হই
ওত পেতে থাকা আততায়ী
কৌশলে ঢেলে দেয় বিষ দেহের প্রতিটি রক্তকণায়