লুৎফুন নাহারের কবিতা
পুরোনো ছক
মেহিনী যামিনী শেষে
নিশান্তের শোকতারার সাথে মিথ হয়ে-
জেগে উঠি আমিও
দাওয়ায় ঝুলে থোকায় থোকায় বেহেশতি আঙ্গুর
তখনো বাঁধা আমার হাঁত-পা এবং আঙুল-
পরওয়ারিশের শেকলে;
অভুক্ত থেকেই আবির নামাই বদনে, বিনা চেখে।
নিঃশ্বাসে বেদনা উড়ে, অন্তরানলে পুড়ে সুখ…
ক্রমেই ফুঁ দিয়ে দিয়ে উড়াই অসুখের ছাই রোজ।
এতো যে কাছে রাখি… হৃদয়ে বেঁধে হৃদয়
কনফিউশন ভীষণ!
মন দিয়েছি তোমায়, না-কি নিয়ে এসেছি মন?
হেরে যাই নিত্যদিন নিজের কাছে
নিজের খেয়ালে, নিছক আবেগে।
অথচ—
জীবন এখনো বাঁধা-ই আছে পুরোনো ছকে!
এলেবেলে যাপন
টেবিলে রাখা মাঝবয়সী হাত
সংসারের যাবতীয় সার থেকে ক্ষণিক বিশ্রাম
কপালে জমা বিন্দু বিন্দু ঘামে একটু আরামের আবেদন-
আরও গাঢ় করে তোলে,
আঙুলের চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে লুকানো শ্রম।
কয়েদী হাওয়ায় ভাসতে থাকে শুকনো
পাইন-কোনের সুমিষ্ট গন্ধ
আবেশে চোখ বুজে আসছে আসছে… ব্যাপারটা
বোঝার আগেই বেজে ওঠে প্রেশার কুকারের সিটিটা।
তখনো শাবক ছানার ছুটোছুটি চলে ডিসকভারি
চ্যানেলে, কবে যে নড়ে গিয়েছিলো কোমরের ডিস্কটা
একটানা দাঁড়িয়ে থাকলেই জানান দেয়-
শিরদাঁড়া’র এপিডিউরালের পেইনটা।
অথচ, বড় নিপুন হাতে অবয়বে পেইন্ট
করা হয় হাসি, নিরুপন করতে অনুপম নিষ্ঠার বীজ।
গোপন তত্ত্ব
পৌষ-পাতার শিরায়
লুকিয়ে থাকে শিশিরের শীতল ঘুম
হতাশ হতে নেই; পানির তলায়
ডুবে থাকা পাথরও জ্বালতে জানে আগুন
শুধু দরকার উপযুক্ত ঘর্ষণ।
সব প্রিয়জনই অংশ গ্রহণ করে না শব দাফনে
কেউ কেউ আছে—
মৃত্যুর আগেই দাফন করে রেখেছে সম্পর্ক; গোপনে।
মহামারি রুখতে ভ্যাকসিনের চেয়েও কার্যকর
নিয়মানুবর্তিতা; অথচ অনিয়মের মুখোশ পরে
গোপনে তুচ্ছ করা যায় নির্ধারিত কানুন
মুখে মুখে আমরা বেশ আইনের কথা বলা মানুষ!
বেশভূষা দেখে যাচাই করা যাচে না
উৎসব পার্বন বাদেও কিন্তু- স্যুটের দোকানে লেগেই থাকে ভিড়
নগ্ন হৃদয়ে, বাহারি সজ্জায় অভ্যস্ততার
প্রবণতা বরাবরই প্রবল!
বাইরে বাইরে তুখোড় সবাই
গোপনে নির্ণীত হয় নির্বোধ সমীক্ষার নিশান।