মনিদীপা দাশগুপ্তের কবিতা
অন্য জীবন
যদি দাও পুনর্জন্ম
তবে কয়েক পশলা বৃষ্টি কোরো আমায়
পড়ব ঝরে, তৃষ্ণাতুর বুকে
শরীর জুড়ে, ঠোঁট, চোখের কোনায়।
অথবা কোরো মহাপ্লাবন জলরাশি
ভাসিয়ে দেবো গ্রাম, গঞ্জ, ফুটিফাটা জমি
স্পর্শ করে ধরিত্রী দেহখানি
অন্য জীবনে ধন্য হবো আমি।
মহাকালের ছন্দ দোলার নাচে—
ঘর্মময় ক্লান্ত যখন পদ্ম পদ খানি
ভীষণ রকম প্রলয়ের পরে
স্বর্গ রাজ্য শান্তি পাবে জানি,
তখন তার শরীর ভেজা ঘামে
সৃষ্টি কোরো মন্দাকিনী আমায়
শুষ্ক পৃথিবীর ধুয়ে দেব পাপ
ভাসিয়ে দিয়ে উলঙ্গ যতো অন্যায়।
ভগীরথের শূন্য কমণ্ডলু
পূর্ণ করে ভাগীরথী করো আমায়
হে ঈশ্বর তোমার কাছে আমার
এই প্রার্থনা পুনর্জন্ম দাও শান্তি বারি ধারায়।।
ওগো বাঁশরিয়া
সে কোন জন্মের ভোরে
ভোরের আহেলি ভৈরবীর সুরে
ঘর ছেড়েছি—
বাঁশরিয়াকে পাব বলে।
অনন্ত জন্ম চলে যায়
পৃথিবীর বার্ষিকী কালের চাকায়
খুঁজে যায় মসৃণ—
বিষণ্ণতা, অন্ধকার অমানিশা তলে।
এই জন্মের কোন গভীরতায়
ডুবে থাকা মনের অন্তহীনতায়
বিদগ্ধ গোধূলির সুর—
বাঁশরিয়া আজও বাজায়।
আজও আমার হলো না ঘর বাঁধা
সন্ধ্যার বেহাগের সুরে সাধা
এই জন্মের অন্ত্যমিলে—
শুধুই ভালবাসা এখনও যর খুঁজে যায়।
সূর্য তোরণ
সেদিন যখন ভৈরবীতে,
তানপুরায় ধরলাম তান
নীল আকাশের সাদা মেঘের
ভেসে যাবার গান।
স্পর্শ করলাম পূব আকাশের
সিঁদুর রাঙা ভোর।
মেঘ বলল ঝলমলিয়ে হেসে—
নে, এবার আকাশ খানা তোর।
নীলচে হীরের আকাশ মুকুট
যেই নিয়েছি পরে—
সূর্য্যি সাগর পেরিয়ে এলো
সপ্ত-ঘোড়ার রথে চড়ে।
শিশির কণা সূর্যমুখী ভালবাসা
নিলাম হৃদয় ভরে।
জীবন গানের স্থায়ী, সঞ্চারী
ছড়ানো আনন্দ ঝঙ্কারে।।
কেন ছুঁয়ে দিস
আর একটু সরে বস
ছুঁয়ে দিস না।
তুই ছুঁয়ে দিলে আমার শরীর নদী
দুরন্ত বহমানা।
এত কথা বলিস না
আমার হৃদয়ে জ্বর।
শিশিরের মতো ঝরে কথা
ভেজায় বুকের ভেতর।
সূর্যোদয়ের মতো আসিস
আলোর স্পর্শে জেগে ওঠে সব
চলে গেলেই সূর্যাস্ত
মনের মধ্যে কষ্টের অনুভব।
তবু তোর হাতে হাত রাখি
অবুঝ ভালবাসায়
চোখ বুজে মাথা রাখি বুকে
কোনো গোপন নির্ভরতার আশায়।
পাঁচ কাহন
পুরানো কথা থাক আজ তার নেই তো কোন মানে
আসলে সাতকাহনের পাঁচ কাহন তো সব্বাই জানে
চোখে চোখে ইশারা আর কানে কানে ফিসফিস
তোমার আমার ভালবাসা ওদের কাছে বিষম বিষ
বলছে যে তাই আমায় ওরা বেশরম লজ্জাহীনা
চোখের মাথা খেয়েছি,না কিছুই বুঝতে পারছি না
জানে কি আর তোমার আমার ভালবাসার দুই-কাহন
চাপা আছে মনের মধ্যে, রৌদ্র ছায়ায় সর্ব ক্ষণ।।
প্রথম প্রেম
আকাশ কালো, ঘূর্ণি বাতাস,
ঝড়ো হাওয়ায়
ইচ্ছে হলো পথ হারাতে
তোকে পাওয়ায়।
দুই বিনুনি, স্কুলের শাড়ি
আঁচল এলোমেলো
কখন যেন দস্যি সে মেয়ে
পথ হারালো।
বিদ্যুৎ ঝলক, বৃষ্টি ফোঁটা
চোখে মুখে
পথ হারানো, ইচ্ছে ডানায়
প্রজাপতি সুখে।
রুমঝুমঝুম বর্ষা প্রেমের
গুনগুনানির সুরে
হঠাৎ দেখে, দুষ্টু প্রেমিক
দাঁড়িয়ে আছে দূরে।
লেপটে যাওয়া শাড়ি খানি
চিত্ররেখা উর্বশীর
আলতো করেই মুখচুম্বন
থরো থরো প্রেয়সীর ।
সেই তো প্রথম ভিজে যাওয়া
শরীর ছোঁয়া স্পর্শ খানি
আলোড়নে শ্বাসঘন মন
এলিয়ে পড়া আদোরিনী।
সেই সেদিনের স্মৃতির মাঝে
আজও সেই উচ্ছ্বাস
বারিধারায় ছলকে ওঠে
প্রথম প্রেমের সুবাস।
হাত বাড়িয়ে এখনো যদি
বৃষ্টি ধারা ছুঁই
মনের মধ্যে ধরা দিস
সেই সেদিনের “তুই ‘।