ফারাহ্ নাজের কবিতা
ধুসর মৃত্যুর শহর
কেন যেন আমার আর এখন
এই সব মৃত্যুতে কষ্ট হয় না ।
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও জীবনের নিরাপত্তাহীন
ইট পাথরের এই শহরের অন্যায়কে
আমি মেনে নিয়েছি একটু একটু করে প্রতিদিন।
নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি নিভৃতে এই বলে…
‘আমার তো কিছু হয়নি,
এতো চিন্তা করলে কি চলে,
একটু আধটু মানিয়ে নিলে তো হয়,
দুর ছাই মানুষ কেনো যে আইন মানে না
কিচ্ছু হবে না এই দেশের, মূর্খ জাতি !’
তারপর কোন এক দিন ঘুম ভাঙা শহরে
আমি বা আমরা খবরের শিরোনাম হবো !
পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন
ছবি ছাপা হবে বিভিন্ন পত্রিকায়।
লাইভ টিভি কভারেজ হবে আমার
পোড়া অথবা রক্তাক্ত, থেঁতলে যাওয়া,
আঁচড় পরা ও পচা, গলিত দেহের ।
আহ্, খবর দেখে কেউ খুব আবেগী হবে,
কেউ বা ফেলবে দু’ফোটা চোখের জল,
ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে
এক একটা দারুণ স্ট্যাটাস দিবে কেউ কেউ
বলবে আমি কতো প্রিয় ছিলাম তাদের।
হয়ত ছিলাম, হয়ত ছিলাম না!
তারপর দুদিন যাবে,
আমিও ম্লান হব তাদের স্মৃতি থেকে
আবার যা তাই!
আরেকটা মৃত্যুর অপেক্ষা…
আমরা সবাই এসব হত্যাকান্ডের জন্যে দায়ী ।
অনুধ্যায়
তোমাকে আমি আর দেখতে পাই না,
তুমিও ঠিক আমাকে পাওনা দেখতে
আগের মত যেমন দেখতে,
অথচ এক সময় আমরা ঠিকই
দেখতে পেতাম একজন আরেকজন কে।
দু’জন, দু’জন কে দূর নক্ষত্রের মাঝে,
চোখে জ্বলজ্বল করতো সীমাহীন বিস্ময়!
বুকের ভেতর গড়ে উঠতো এক বিশাল বৃক্ষ
যার রোদ্দুর ও ছায়ায় আমরা চাষ করতাম
ভালোবাসার ফসল, আলোকিত হতো আকাশ
নিঃসঙ্গ পথিক পথ খুঁজে পেতো আমাদের আলোয়…
কে জানতো আমাদের কাছে আসার গল্প
আমাদেরকে যোজন দূরে ঠেলে দিবে।
কাছে এসে বুঝলাম ভালবাসা গ্রহণ করতে নেই,
যে জিনিষ বিলিয়ে দেওয়ার তাকে কি
দেনা-পাওনার হিসাবের খাতায় লিখে রাখা যায়?