প্রবীর রঞ্জন মণ্ডলের কবিতা
আলোহীন ছায়ায়
যৌবনের সেই সাড়াজাগা জীবন
কে যেন ছায়ার ভেতরে ডেকে নিয়ে গেল
এইমাত্র শীতের বরফ ঢাকা চাদর দিয়ে ;
তবে কী শীতের জাবরকাটা শুরু হলো?
বাইরে পারদঘষা কাঁচে চোখ ঘষে গেল
একটি দৃষ্টিভ্রষ্ট নাগরহীন চড়ুই পাখি
ওর বুকে আর চোখে কী উত্তাপ কমে গেছে?
তাহলে ও দিকভ্রষ্ট কেন যৌবনদীপ্ত জীবনের মতো?
যত পেঁপের বিবর্ন ডাল,খসেপড়া চোখ
ধূসর গামছায় বসে জাবর কাটে আর উগরায়;
ফেলে যাওয়া স্মৃতিরা সব আবছা হয়
মাঝে মাঝে ধরা দেয় আলোহীন ছায়ায়।
কী যেন এক মায়া পেয়ে বসে শরীর জুড়ে!
শরীরের কাম ক্রোধ মোহ বিবস হয়ে পড়ে
ধীরে ধীরে স্নেহানুভূতিটুকু গচ্ছিত থাকে।
কথার বীজ
কথার গাঙচিল এপাড়া ওপাড়া ঘুরে বেড়ায়
খড়কুট মুখে তার থাকে
কোনো এক নির্জন গাছের কোঠরে
স্বপ্নের বাসা বুননের গল্প শোনায়।
প্রত্যেক ঘরের কোণায় কোণায় কথার ঠেস দিয়ে রাখে,
সুযোগ পেলে জলকাদায় ঠোঁট খোঁজে
মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্ব খোঁজে;
নিরিবিলি সময় পেলে যায় গাছের কোঠরে।
বোনা বাসার তাবায় জাঁকিয়ে বসতে
দুঠ্যাঙ গুটিয়ে নিয়ে পাখার তলায়
কথার চোখে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠে
নতুন অঙ্কুরিত কথার বীজ।
নতুন পথ
নিঃস্ব চিলের মতো
রাত্রি ডানা হয়ে উড়ে যাচ্ছে
আমার এক একটা গান।
পরপারের ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে
হারিয়ে ফেলছে পথ।
আকাশ গঙ্গায় চমকে দিয়ে
লিখে নিয়ে আসছে
নতুন বসবাসের ঠিকানা।
চলো,একসাথে সহবাস করি
ওই নতুন ঠিকানায়।
নতুন ভোর
কান্নার ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলি সব
বর্নহীন বাতাসের বুকে
রৌদ্র জলের ছটায় মুছে ফেলে দিক
যা কিছু অঙ্গার লুকানো আছে
একটা সীমাহীন সকাল চাইছি এখন
নতুন সংকল্পের বোঝা বুকে নিয়ে
মনের অভীপ্সাকে গেঁথে রেখে যেতে
তোমাদের নতুন ভোরের সন্ধানে।
এসো শৈশব,এসো তরুণ
বুঝে নাও সেই আলোকদিশার পথ;
উড্ডীন পতাকা হাতে তুলে নাও
গুপ্তধনের সন্ধান লিখে রাখা আছে
মাথা তুলে রাখা ওই পতাকার গায়ে।
তুলে নাও তুমি,তুলে নাও বুকে
উড্ডীন পতাকাখানা।
হলুদ বিকেল
বিষণ্ণ বিকেল জুড়ে ডেকে চলে চাঁদ
হলুদ পাখির মতো পা ছুঁয়ে দেখি তার বুক
পুবের বারান্দা জুড়ে উঠে আসে ভরা চাঁদ
সে যেন আমাকে ছুঁতে হয়েছে বুঝিবা উন্মুখ!
আমিও কাছে যাই ঘ্রাণে মাখি তাজা নিমফুল
হলুদ বিকেল জুড়ে এঁকে যাই কত রূপটান
তুমিও মোহিনীরূপ চাঁদের মতোই বুঝি বিলকুল
ভেসে যায়,ভেসে যায় দক্ষিণ বাতাস জুড়ে বিরহের গান।