এলিজা খাতুনের কবিতা
প্রহসন মঞ্চ
আলাপের তাঁবু টানিয়ে
চিড়ের মত চিবিয়ে যাচ্ছ কথার-কথা
বাজি ধরেছো আসরে কারো হাজিরা নিয়ে
জমে ওঠা মঞ্চখেলায় নির্বাকচিত্র গ্রহণ-পূর্বে
স্থির থাকে সজ্জিত চেয়ার ;
অতিথি বদল হয় মিনিট দুই ব্যবধানে
ক্যামেরা অপশনের ক্লান্তিহীন কার্যক্রমে
বাদ পড়ে না কেউই, আগে পরে মিলে দারুণ ফটোসেশন !
মুখস্ত স্বভাবে তুমি ও তোমরা করে চলো-
মঞ্চে বসার প্রতিযোগীতা, মানসিক ঠুকাঠুকি
আমি দর্শক মাত্র ; তবু আঁচ করা যায়-
মাকড়সার জালের মত ফাঁদের কীর্তি
অনুষ্ঠানের মাঝে তালি বাজে প্রতি দর্শকের হাতে
আর আমার মনে বাজে-
“বরং নিজস্ব ফাঙ্গাস মুছে দ্যাখো-
নিজেকে নিজেই দিচ্ছো কত চাকচিক্যময় তঞ্চকতা”
শিঘ্রই আসবে এম্বুলেন্স
ওরা অহেতুক বেলুন ওড়াচ্ছে, আর সাদা পায়রার ঠোঁট থেকে
শান্তিটুকু কেড়ে নিয়ে মুক্ত করছে ডানা
খুব রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে দেখা আমাদের স্বপ্ন শরীরে-
ছুরি বসিয়ে ওরা ঘর ঠান্ডা করা মেশিন কিনছে
ওরা স্বেচ্ছার জলোচ্ছ্বোসে ভেসে চাষ করছে বিদেশি ফুল
অথবা মঞ্চ সাজাতে আমদানি করছে পারস্যের বসরার গোলাপ
আর আমাদের উঠোনে ঘাসের গালিচায়
রোলার চষে উত্তপ্ত পিচ ছিটিয়ে যাচ্ছে
আমরা দাঁড়িয়ে আছি নিজস্ব সংস্কৃতির ক্ষতস্তুপের পাশে
তারই পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ওরা রহস্য রুমাল নাকে চেপে
স্বপ্ন-শরীর ছটফট করছে, কাতরাচ্ছে ভীষণ
অবশেষে মারা যাবে হয়ত ঘাম চোয়া ক্ষত-বিক্ষত স্বপ্নরা
চার রাস্তার মোড়ে কিছু জীবন্ত স্বপ্নদের
অপেক্ষা-আহাজারী তবু দারুণ বিশ্বাসে !
তোমারা তুলে দিতে প্রস্তুত হও ; আমাদের আহত স্বপ্নের-
অসাড় অস্তিত্ব নিয়ে যেতে শিঘ্রই আসবে সম্ভাবনার অ্যাম্বুলেন্স