অসিকার রহমানের কবিতা

অসিকার রহমানের কবিতা

আচ্ছাদিত লাশ

“এই তো এখানেই ছিল বসার ঘর, ড্রইংরুম
ঘরের মধ্যে মধ্যবিল, অবাধ স্বাধীনতা —
বাতায়নে বসতো পাখি
শিশু ও পাখির কুজনে মুখরিত উপকণ্ঠ্য

এখানে ছিলো পড়ার ঘর
কালি ও কলমে স্বাধীনতার ছোটাছুটি
জন্ম নিতো এখানে শীর্ষ তাজমহল
নরম পালকের উচ্চারণ ফুল হয়ে ঝরতো
মাতাল হাওয়ার নীলাকাশ ছিলো এই ঘর
এখন কিছু নেই, কেউ নেই আমার… “

কথাগুলো বলতে বলতে
একা একা অনেকক্ষণ ঝরে গেলো সে
তারপর ধপ করে লুটিয়ে পড়লো কালো আচ্ছাদিত লাশে
হাউ হাউ করে কেঁদে বললো
‘ওদের কতো করে বললাম, এ ঘরে মানুষ আছে মানুষ,
মেরো না মেরো না…

ইরণ হাওয়া

পৃথিবীর প্রান্তরেখায় জেগে ওঠে ঝড়
ইরণ হাওয়ায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকে উট
সর্বাঙ্গ ঢেকে ফেলে তাড়িত রেণু —
আদিগন্ত পার হতে চেয়েছো তুমি
ঝঞ্ঝানীলের ওপারে হয়তো তোমার বাস

সাগর খাদের দৃশ্যমিছিল দেখতে
অথই জলে মন্থন করেছো নদ
ডুবের শেষে সূর্যমুখী হয়ে
জানান দিয়েছো মাটিতে আবাস

ঘন জঙ্গলে ভূমি অসূর্যম্পশ্য
ধূসরিত সমুদ্র-সুড়ঙ্গে তুমিও কি তাই?
আজও অজ্ঞাত তোমার অবস্থান
তৃষ্ণার্ত পেলো না তোমার তুমি
কালচক্রে ঘটে গোপন সর্বনাশ…

এমন নরম রাতে

এখন উঠোন ফাঁকা
সকলেই চলে গেছে দ্রুত ঘরমুখো
এখানে একপাশে এঁটো শালপাতা রাখা
একফোঁটা বৃষ্টি নেই, কে জানে এবারও সুকো
হবে কি না !
ঠেলাগাড়িতে পাতা চলে বিষণ্ন মুখে —
বাবা থাকলে বলতে পারতেন কি জানি না
কোন বাতাসে বৃষ্টি থাকে সুখে !

দিগন্তে মেঘ আসা যাওয়া করছে ঘুরে ঘুরে
অনাবৃষ্টির দিনেও হয়ে গেলো ভোজ নির্বিঘ্নে
সুর বাজে ছেঁড়া নোংরা শালপাতার শরীর জুড়ে
শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছে রাত্রি কুহরণে

এমন নরম রাতে মনটা ভিজিয়ে দাও
শুকনো শরীর আনুক জন্মলীলার খেলা
যারা পারো যতো খুশি রত্ন কুড়াও
অলীক বর্ষণে মনের মুকুরে বাড়ুক বেলা ।

অলৌকিক

মেঘের মধ্যে জেগে আছে প্রলম্বিত চুল
অণুতরঙ্গে তার লুকিয়ে আছে শিশু
ভালোবাসার শিশু গেয়ে চলে জীবনের গান

মানুষ ছুঁয়ে আছে অলকচূড়া
চূর্ণ চুলে চুর জ্যোৎস্নার ভাঙা গড়া খেলা
স্পষ্ট দেখা যায় দুটি মুখ
মুখের আদল ভেঙে ফুটে ওঠে শিশুর ছবি
অলীক এক আলো আঁধার খেলা করে
মেঘের গভীরে নষ্ট চাঁদে
ঘন চুলে কত কাণ্ড ঘটে যায়

দেখতে দেখতে ওরা পৃথিবীর সামনে আসে
পাতক মাটিতে পা রাখতে গিয়েও রাখে না
সরে যায় আচম্বিতে
ঢুকে যায় অন্তরালে গভীর অমাবস্যায়

পৃথিবীর মানুষ অলক-চরণ ছুঁয়ে থাকলো বটে
শুনতে পেলো না অমোঘ জীবনের গান।