মৃধা আলাউদ্দিনের কবিতা
আদরের সাদা ঘাস
গতকাল গভীর রাতে পূর্ব-পশ্চিমের প্রকট
প্রজ্বলিত রোদের রাজর্ষি থেকে আমি দেখে
নিলাম কীভাবে বৃষ্টি হয়; ঝড় আসে
চেখে নিলাম কিছুটা পলিময় বিদ্যুৎ, পরিশীলিত প্রজ্ঞার
পরাগের পারদ। আদরের সাদা ঘাস। কৈতর।
খুলে গেল নবোঢ়া নদী—অন্ধতম প্রদেশের
গহিন দুয়ার; অন্দরের গলিঘুঁচি—
আমি দেখে নিলাম প্রার্থনায় নত না হওয়া সগন জলের শিশির
আমি দেখে নিলাম আকাশে উড়াল দেয়া ডানা ভাঙা আহত পাখি
মানুষের ক্রোধ ও ধর্ষণ—রোহিঙ্গার মাটি এবঙ মানুষ— বর্বর আচরণ
মানুষের চিৎকার এবং আমি দেখে নিলাম আমাজন
অস্টেলিয়ার পোড়া বন—বনাঞ্চল।
এবঙ এখানে একদিন গাছেরা ফিরে পায়
বাতাস; সারাদিন রঙ-রৌদ্দুর— সিঁড়ি
সরে যায় কালো মেঘ, চির্ণিত চা; প্রতারক
পামসু— যেনো মিলোসেভিচ, শ্যারন, বাজপেয়ী
বুশেরা খুঁড়ে খায় ঘৃর্ণিত ঘাম, পচা রৌদ্দুর
বেইমান বাদশা, তুরুপের তাস।
আর আমি, আমরা চলে যাই যথেষ্ট আষফল
আকাক্সক্ষার আগুনের আকরিক মেশানো বিশুদ্ধ বনে
পাখনায়…। যেনো অর্জুন-আপেল, রৌদ্দুরে
রাতদিন; মরশুম থেকে শিরনি ও শরবত
মরশুমে চলে যায়, যেতে থাকে এক প্রেমময়
বৈদগ্ধ দেহ। আর পূর্ব-পশ্চিমের প্রকট প্রজ্বলিত
ডালপালা ধুয়ে দেয় দিগন্ত থেকে দারুণ দিগন্ত,
পরশীলিত পাখনায় মসৃণ মার্বেল; পরাগের পারদ;
আদরের সাদা ঘাস। কৈতর।
গতকাল গভীর রাতে…
কচি ঘাস-ফুল, সুন্দর ভোর
ওঠো, সামনে যাও
শত সূর্যের ঢাকনা খুলে রৌদ্রে বাড়াও হাত
ঢেকে দাও ঘৃণিত ঘাম—চির্ণিত চা— মরা পিঁপড়ে
এবং অনাগত শিশুর জন্য তুলে রাখো
তুলে রাখো ওই দূর মঞ্জিলে একা একটি
ল্যাম্প, ল্যান্ডস্কেপ…
যেনো গোয়াল, গরুগুলো— আমাদের গাভি
ফিরে পায় কচি ঘাস, ফুল
ফলবান বৃক্ষের সুন্দর ভোর।
অস্থির হয় না প্রেম অথবা আমাদের রেলগাড়ি
ক.
তুমি রোজই তাকে খোঁজ
যেহেতু পানোচ্ছ্বল— নদীর থেকে পাওনি পিপাসার পাখি
খ.
প্রেমের পাগল তুমি
যেহেতু সুন্দর সন্ধ্যা থেকে দূরে।
গ.
শে তুমি শিশির খোঁজ
যেহেতু কোমল ঘাস কখনো দেখোনি।
ঘ.
এবঙ ঝরনার সখি আমি
পৃথিবীর রাগ-রক্ত, রাত্রি-দিনে অস্থির হই না।
একসাথে ধ্বংস আর বর্ধিষ্ণু গ্রাম
হ্যাঙ্গারে ঝুলে আছে বিশাল টি-শার্ট
বন্দুকে ঝাঁঝরা করা বুক
আর বুকের ভেতরে মাটিতে দেখা যায় অসংখ্য লাশ।
না, এ লাশ নয়; সবুজের পতাকায় মেশানো
মানুষের পাতায় মোড়ানো হাত-নাক মুখ
চোখের অর্ধেক
পা-গোড়ালি
যেনো একটা সবুজ গ্রামের পাশে মরা ধানক্ষেত
কাঁটাতার ধর্ষণ ও রাইফেল… তারপর নদী
এবঙ আরো দূরে বাতাসে মিশে আছে
ভাঙা রেলগাড়ি
রৌদ্দুর
যেনো যুদ্ধ; একসাথে যুদ্ধ আর আমাদের বর্ধিষ্ণু গ্রাম।
ফিরে আসে বৃষ্টির গন্ধ
বৃষ্টি ভেজা রাত
খেলে যায়, হেসে যায়
আমার কষ্টের কারুকান্ত আল্পনা
মনে পড়ে বৃষ্টিভেজা মাতাল গন্ধের রাত
তোমার চুলে লাগানো লেবুর সুবাস
আমার চারপাশে আষ্টেপৃষ্ঠে লেপ্টে থাকে অহর্নিশ
নারীর চুলের ভেজা গন্ধ
জোছনা অথবা শাওনের জল
রাত গভীর হলে আমার ঘরে ফিরে আসে ঝিরঝিরে বৃষ্টির গন্ধ…
জোছনার জল
সন্ধ্যা শেষ হয়ে গেল। অথচ সে এখনও এলো না।
সখি ! আজ তোরা জোছনার জলে আগুন জ্বালিয়ে দিস।
সমুদ্র নাবিক আমি
জাহাজের মাস্তুল, বৈঠা আর বাঁশি নিয়ে সাগরে ফেনা তুলি।
কামনার জলেভেজা এক সমুদ্র নাবিক আমি…
জলেভেজা ডাহুক…
সাগরে না সাঁতরালে আমার ঘুম হয় না
জলেভেজা ডাহুক আমি…
মেঘ ও জলছবি
তোমাকে দেখি প্রায়ই জোছনা রাতে, সন্ধ্যা নদীর তীরে বাঁশি বাজাও
অথচ বৈশাখী ঝড়ে প্রায়ই ভেঙে যাচ্ছে আমার মাটির মেঘ ও জলছবি।
বাঁশির সুর
বৃষ্টির ঝঞ্ঝা-বাতাসেও বেজে উঠছে তোমার সেই বিরহ ব্যথার সুর।
আমার যে আর ভালো লাগছে না…
পৃথিবীতে একমাত্র বাঁশির সুরই পারে নারীকে ঘর থেকে বের করে আনতে।
আমাদের অনুষ্ঠান
চঞ্চলা হরিণীর মতো আমরা ভেসে গেলাম
সমুদ্র থেকে সমুদ্রে,
পূর্ণিমার উদ্ভাসিত আলোয়
রৌদ্দুরে…
অবশেষে নাচসহ এক জটিল রসায়নের মধ্য দিয়ে
শেষ করলাম আমাদের তাবৎ অনুষ্ঠান।
সংযোগ
বিধাতা এমন করেই আমাকে নির্মাণ করেছেন
তোমার ঘুম ভাঙলে, ভাঙে আমারও ঘুম।
তুমি ছাড়া
চাষি
আমারে জড়াও বাহুযুগলে
উর্বর করো ভূমি
চাষির কর্ষণ ছাড়া দেশ সুজলা, সুফলা হয় না।
তুমি ছাড়া আমি বড় একা, খুবই একা
চারপাশে ব্যর্থ বারিপাত হচ্ছে
পুড়ে যাচ্ছে হৃদয়ের তলদেশ…