কাঞ্চন রায়ের কবিতা

কাঞ্চন রায়ের কবিতা

অকালবোধনের স্বপ্নগুলি

আমার স্বপ্ন দেখার রাতে—
একটা তারা, বাজি হয়ে
ফেটে গেছে
আকাশের গায়…

কত শব্দ তারপর ! রামধনুর কাটাতার…
হাওয়াই ঘুড়ি, ‘নীলাম্বরী’
জল জমা স‍্যাঁতস‍েঁতে মেঘ,
আর জ‍্যোৎস্নায় ভেজা কিছু ধুমকেতু—
অনেক গল্প লিখে গেছে,
আমার আলস‍্যেমি কবিতায়…

কোনোটা বৃষ্টির দিনে
কোনোটা শুধু নির্বাক মনে,
কোনোটাবা অকালবোধনে
চোখ ছুঁয়ে গেছে;
আমার ঘুম ভাঙানোর প্রতীক্ষায়…

জীবন ছুটি চায়

ডানা থাক জমা তোমার কাছে
একটা দিন ভাড়া দাও ;
জীবন ছুটি চায়…
আমি ফিরে আসবো খাঁচায়,
আবার মুখস্থ করে নেব দিনলিপি
কথা দিলাম,
একবার ছুটি দাও;
ফেলে আসা কিছু স্মৃতি
ক্ষণিকের এলোমেলো কিছু মুহূর্ত,
বেঁধে নিতে দাও—
আমার নতুন ডায়েরির পাতায় ।

একটা পাগল পাগল মন
কিছু অবুঝ প্রশ্ন
সমুদ্র পাড়ে, ঝিনুক কুড়িয়ে কাটানো একটা সকাল
ঠাকুরমার ঝুলি থেকে তুলে আনা, গল্পের দুপুর
মাঠে মাঠে ঘুড়ি ওড়ানো একটা বিকেল
সন্ধ্যায় ফিরে না আসা একটা পাখির বাসা
তারা গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়া, একটা রাত
আর কুড়িয়ে পাওয়া এক টুকরো ভালোলাগাকে—
ছুঁয়ে যেতে দাও আমার ঠোঁট ।

চোখের কার্নিশের সাদা পাতায়
মনের ছোঁয়া লাগা রাতজাগা কবিতায়
ক্লান্ত শরীরে নরম বিছানায়
ব্যস্ত-ভরা দিনের শেষে একটু নীরবতায়
আমায় ফিরে পেতে দাও—
আর একটা শৈশব ।

তারপর ?
তারপর তো আছেই, কাঁটাতার—
রোজ বন্দি হবার !
অজস্র মানুষের কোলাহলে,
এই একলা একলা পথ চলার…

তবুও আমি ফিরে আসবো,
আবার চার দেওয়ালে বাঁধবো নিজেকে
মুখস্ত করে নেব দিনলিপি, কথা দিলাম !
শুধু একটা দিন ভাড়া দাও
এ জীবন ছুটি চায় !
পুষিয়ে নিতে চাই কিছু মধ্যবিত্ত লোভ ।
একবার তারাখসা দেখি;
মুছে যেতে দাও আমার
কাটাকুটি ভরা ব্ল্যাকবোর্ড ।