আহমেদ ছহুলের কবিতা
কোন চিহ্ন থাকবে না আমার
আমার এমন কোনো গান নেই
যা গাইতে পারি এ সভায় ।
এমন কোন স্মৃতি নেই ,যা বর্ণনা করলে
আপনারা হা-হুতাশ করে দুঃখ করবেন
হৃদয়ের গহীনে জমে যাবে একটি নিশ্বাস।
বা হাসতে হাসতে পেটে কিল ধরে যাবে
পিছন থেকে কেউ না কেউ কিছু বিদ্রুপ করবেন ।
আমার কোন উল্লেখযোগ্য অবদান নেই
যা আপনি বা অনাহুত মানব সন্তান
স্মরণ করে একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে
কোনো এক সভায় দাঁড়িয়ে জানাবে আমার প্রস্থান।
এসে ছিলাম
…আবার চলে যাবো
মর্ম-কমল, পৃথিবীর শান- শওকত একটুও হবে না মলিন
শুধু কোন আঁকর থাকবে না আমার ।
এক পাহাড়ের চুপচাপ কান্না
কী যেন বলতে চেয়ে থাক, বলে একটি দীর্ঘ নিশ্বাস
রেখে উঠে গেলে আর ফিরলে না কোনোদিন
অই যে পাহাড়টা চুইয়ে চুইয়ে অবিরাম জল নামত
তুমি বলতে দেখো পাহাড়ের কি চুপচাপ কান্না
আমি দেখতাম একটি স্বচ্ছজল ধারা
শুনতাম জলের আওয়াজ,লোকে যাকে ঝর্ণা নামে চিনে ।
বহু দিন পর ঠিক একই স্থানে একলা দাঁড়িয়ে দেখি
সেই পাহাড় জন্ম দিয়েছে এক মস্ত বড় নদী।
ভাগ করে দিয়েছে আমাদের সীমা একটি সমতল ভূমি।
সেতু আছে, আছে পারাপার
তবু প্রতিদিন ওপাড়ের উঠে ঢেউ
এপাড়ে ভাঙ্গে পাড়
খড়কুটার মতো ভাসায় বারবার ।
বাউরি বাতাস
দীর্ঘশ্বাস নিতে নিতে প্রায় থেমে যাও
কাঁপে ঠোঁট অনাহুত আগ্রহে তোমার
ঠিক ধান পাতার মতন
আমার হৃদয় নাচে এ কেমন বাউরি বাতাস।
বয়ে যায় দুয়ারে দুয়ারে আমারই আঙিনায়।
যখনই বলি এক মুঠো স্বপ্নের মতন একমুখ হাসি
শাড়ীর আঁচল আকাশে উড়িয়ে বলো
ঘর গৃহস্থলি ছাড়া কি বুঝি আমি।
আকাশে মেঘের ডাকা-ডাকি
তোমার নিশ্বাস বড় বাঙময়
হয়ে যায় বারবার । কি এমন লুকানো রহস্য তোমার!
ঘর বাঁধ ,মেলে ধর সেই চুল মেঘের মতন
হাসি দিয়ে কান্নাকে আড়াল করতে যেন সব কিছু তোমার
হয়তো’বা ভুল আমার-ই ছিল
সেই থেকে দুফোটা অশ্রু ভেজা পথে যাত্রা আমার
অনেকটা রানারের মতো তার কাঁধেতে খবরের বোঝা
আমার কাঁধে ফুলে মোড়ানো কার যেন একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ।
পায়ে-পায়ে এগিয়ে যাই, পথ যেন ফুরোয় না আমার
পিছু পিছু ধেয়ে আসে সচল -অন্ধকার
কার অই পবিত্র -অভিশাপ কিছুতেই সঙ্গ ছাড়ে না আমার ।
হয়তো বা ভুল আমারই ছিল,কেন যে ফুলের গন্ধ নিতে গেলাম ।
তবুও উঁকি দেয়
কাল রাতে কে যেন আবারও এসে ছিল জানালায়
চিত্রকর তার মুখ আঁকতে গিয়ে আঁকলেন চাঁদ
রাতভর কবিতা লিখে কবি কাটালেন এক নির্ঘুম রাত
তিনিও লিখলেন চাঁদের মতো তুমি নাকি শুধু-ই দেখার ।
মরমী কবি গেয়ে ছিলেন তাঁর লেখা জীবনের সেরা গান
বসন্ত হাওয়ায় বনফুলের মতো ঝরে ছিল নামহীন আবেগ
তোলপাড় করে ভেঙ্গে ছিল রাতের স্তব্ধতা।
দুষ্প্রাপ্য তবুও চাঁদ উঁকি দেয় ,দখিনা হাওয়া বয় জানালায়
বৃক্ষে বৃক্ষে ফুলের সওদা হয় ,কেউ আবার ফুলহীন হাতে
একাকী ফিরে যায় ,কেউ দাঁড়িয়ে থাকে নির্জন আঙিনায়।