অজন্তা রায় আচার্যের কবিতা

অজন্তা রায় আচার্যের কবিতা

আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ

তখন উঠানের পরিমাপ ছিল না ,ঝাড়ঝাঁটা সাফসুতরো ,
আর সীমানা জুড়ে সারি সারি গাছ ,
আম জাম লিচু কাঁঠাল সবেদা নারকেল সুপারি আরো কত
গাছের কলাটা মুলোটা গৃহস্থের সাধ-আহ্লাদ।
আম গাছে ঝুলছে দোলাটা ,
এক এক করে দোল খাচ্ছে ছেলে মেয়ে, কিচির মিচির
কি সহজাত তাদের প্রীতি! বিধুরতাহীন মুখ
গায়ে মাটির গন্ধ , কত রকমের খেলা
গোল্লাছুট,গাদ্দি,এক্কাদোক্কা,ঝালঝাল,কিতকিত।
একধারে ঢলঢল করছে সন্ধ্যামালতী,
বোঁটা খুলে ফেলে ফুঁ দিলে দিব্যি বাঁশী বাজে,
এ এক সরল খেলা, অথবা দণ্ড কলসের মধু চুষে খাওয়া
অথবা কোণাকানচিতে লুকোচুরি খেলা
নিশ্চিন্ত, সেখানে কোনো দৈত্যদানো লুকিয়ে নেই
এবাড়ি ওবাড়ি অবাধ অনায়াস যাতায়াত,
সেসব সবুজ, প্রজাপতি, রেণু মাখা ছেলেবেলা,
এখন আলাদীনের প্রদীপেও নিখোঁজ ।

একাকিত্বের গান

ট্রেনের জানালায় যেমন একে একে অদৃশ্য হয়ে যায়
ঘরবাড়ি গাছপালা প্রান্তর
তেমনি কৌশলে মানুষও
আর সময় চলছে ট্রেনের চেয়েও দ্রুত গতিতে
ছোট ছোট কামরায় বাজে একাকিত্বের গান
ঘরের শরীরে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে
আর সেই তাপে পুড়ে ছারখার মন ।

জলের অপচয়

মেঘবৃষ্টির আঁতাত হলে , উদ্ভট সব মাথায় আসে
কি যে ভাবি আনমনে , কার কী ই বা যায় আসে
মনের ভেতর জল ভাঙে , উপচে পড়া ঢেউ গুলি
একপা দুপা পা ফেলি , জল থৈ থৈ কানা গলি
অতীত চিঠি, হলুদ রঙ , ছেটায় সব মুক্তোদানা
মেঘ বৃষ্টির ছাতার তলে, অপেক্ষায় কত জনা
কথা তো দাওয়ার জন্য , কত লোকে দিয়ে যায়
বাড়তে থাকে কথার ভার , অন্দরে আর না কুলায়
এসব রাত ঘুম আসেনা , রাত জাগা দৃষ্টি প্রহর
দু এক কলি গাইছে গান ,ভেজা গাঁ , একলা শহর
দু এক জোড়া কদম ফুল , ছড়িয়ে এধার ওধার
এক রাধা ফাঁসলো বুঝি , বুকে্র ভেতর জলের ভার
ঝাপসা দিন আগেই ছিল ,এখন কেমন অবসাদ
বর্ষামঙ্গল, একটা গান , সাধলো বুঝি সব বাদ
এসব রাতে কাঁদতে নেই, জানি জলের অপচয়
বৃষ্টি, জড়িয়ে নিও , হঠাৎ যদি কান্না পায় ।