নির্মাল্য ঘোষের কবিতা

নির্মাল্য ঘোষের কবিতা

অন্য শারদীয়া

যে সুপ্ত বাসনাকে তুমি প্রেম ভাব সে
তোমার যমজ নয়…
একটা করোনার কাশফুল শারদীয়া
আঁকে বহুদূরে…
ঢাকির দুরুদুরু বুকে যে ঢাক বেজে চলে
তার আওয়াজ কেউ শুনতে পায় না…
শুধু তার স্ত্রী মাঝে মাঝে অশ্রু সিক্ত চোখে
কান পাতার চেষ্টা করে..
মৃৎশিল্পী করোনার মূর্তি আঁকে মনে মনে…
স্বপ্ন দেখে করোনা পুজার..
যদিও সে জানে মহালয়া অন্য বার্তা বয়ে
নিয়ে আসবে…
সর্বনাশও যে এত সুন্দর করে আসে…
সে জানত না…

মহাকাল

তখনো আমি মনের দাস…
ওই স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় নিজেকে
খুঁজে পাই না তখনো…
নিজের আইডেন্টিফিকেশন নিয়ে
বিভ্রান্ত
ক্লান্ত
বিধ্বস্ত
তুমি এলে
স্পর্শ করলে—
বিছিন্ন হলাম শরীর থেকে মন থেকে…
তারপর বাকিটা যে কেউ পড়তে পারবে
অনায়াসে।
কারণ, মহাকালের কাছে এ শব্দগুলো
হাস্যকর

অপেক্ষা

মৃতদেহ বাঁচিয়ে লাভ নেই…
জীবন্মৃত থেকে যাবে
প্রতিটি মুহুর্তে মরে গেলে
বাঁচিয়ে লাভ হয় না।
যে বাঁচতে জানে, ঘুমের মধ্যে ও জাগ্রত-
অনন্ত কাল ধরে
তুমি জানো না তাই মৃত বলো
তুমি জানো না তাই আয়োজন করো
তুমি জানো না তাই বিচ্ছিন্নতা ভাবো
তুমি উদাস চোখে তাকাও অথচ জানো না
উদাসীনতা বলে কিছু হয় না—
আসলে প্রতিটি মুহুর্তে শারদীয়া উৎসবের
আয়োজন
অথচ তুমি অপেক্ষায় থাকো