বিকাশ চন্দ’র কবিতা
জন্মের হৃদপিণ্ডে জীবন আঁকি
অন্ধ রাত্রি আসে গ্রাম শহর বস্তিতে পূর্ণিমা দৃশ্যের জোয়ার
কুশলী কথাগুলো ভেসে আসে জোনাকি আলোর সাথে,
অসম্ভব সকল স্বর্ণ কুমারীর গায়ে তখন কুয়াশা
নিঃশব্দে আলো মাখে বট অশ্বত্থের শাখা পাতা পাখি,
রাত শেষে নিশ্চিহ্ন দৃশ্য সব জানে জীবনের সহ্য মায়া কত।
গ্রাম শহরের অহংকারী কথাচার দৃশ্য বদলের ধ্বনি
অনূঢ়া প্রেম ভিজে যায় গড়িয়ে যায় জল শয্যায়,
অসম্ভব ঘূর্ণি মাতাল হাওয়া তছনছ সংসারী ক্ষত
উড়ে গেছে ছাউনি ভালোবাসা স্বপ্নেরা সবুজ ক্ষেতের রঙে,
ধারে কাছে উধাও পাখিদের হঠাৎ সমাগমে উৎসব
বুকের খাঁচা খুলে উড়ে গেল সব মুখ ফুলেদের মহার্ঘ্য মিছিলে,
কতক ফিরে আসে মেয়েলি চুম্বনে ঠোঁটে জড়ায় সন্ধ্যা রাগ
শেকড়ে বাকড়ে দীর্ঘ বনভূমি ঘিরে আছে জন্ম অন্ধকার।
জলতল ছুঁতে গেলে বারে বারে জন্ম মন্দিরে চৈতন্য হৃদয়
ব্যর্থ স্বপ্নেরা মুখের আড়ালে খোঁজে প্রতিশ্রুতি মুখ,
দেশজুড়ে অসহ্য বেদনা শব্দ অক্ষরে অজস্র বিষের স্খলন
রক্ত রাগের আলো আঁধার নদী খাল বিলে জলের ভাঙন—
শব্দ শপথে অক্ষর শরীর ছুঁয়ে জন্মের হৃদপিণ্ডে জীবন আঁকি।
দৃশ্যপট
দগ্ধ সময় প্রণম্য মাটি ছুঁয়ে সূর্য স্নানে জাগে
তারাও তো ছায়া হয় অলস বাতাসে ওড়ে বৃষ্টির অক্ষর
বাতাসে শ্মশানের ছাই ওড়ে স্বপ্ন পোড়ে
বন্ধ্যা প্রহরে সান্ত্বনার হা মুখ হৃদপিণ্ডের শব্দ শোনে।
চৈতন্যময় বোবা ঈশ্বর অন্তিম প্রহর গোনে গাছ ফুল পাখি
প্রেম যৌবন পূন্যি কথা বোঝে মানুষের বাঁচার কোরক,
অবকাশ পেলে খুলে যায় অজ্ঞাতবাসের পোশাক
বিষ নীলে নির্মমতা সামাজিক ঝড় সাজায় রজনীগন্ধা,
মুণ্ডুহীন পাষাণ দেবতার পায়ে মাথা কোটে কবন্ধ যৌবন
ব্যাস্ততার মুহূর্তগুলি জ্বলে ওঠে আগুন আরাধনায়।
কালো মেঘের শরীর ফুঁড়ে এক ঝাঁক গাঙচিল
দুরন্ত ঝড়ের মহিমায় ক্যানভাসে ধ্বংসের ছবি,
বর্ণ মাখা শরীরে আঁকা তো সেই কালো হিংসুটে থাবা
বুদ্ধি জীবী মানুষ খেলার ভেতরে দেখে মুক্ত আকাশের ছবি,
আরো যারা অপেক্ষায় অনুপ্রেরণায় মগ্ন দিঘির অতলে
উত্তরনে একদিন এদেরও ছোঁবে অশরীরী হাওয়ায় অতল টান,
সেবা ঘরে মহার্ঘ্য উপহার ঘেরা লাল আগুন শলাকা
ফাঁপা শরীর এখন শান্তি জল খোঁজে জলধোয়া দৃশ্য পটে।
আগুন ফসল
কৃষ্ণা রাতের শুকনো পরিসর জানে রাত জাগা নদী নারী
সমস্ত চাঁদের আলোর অন্তর গহীনে রেখেছে কলঙ্কতিলক—
এখন তো হাহাকার নিশ্চিত জীবন আর সুস্থ বসবাসে,
হয়তো বা গ্রহান্তরে শূন্যতা নেমেছে শরীরহীন শহর জঙ্গল
সবেদন ব্যাকুলতা ভেঙে শূন্য বুকে পাখিরা অতীন্দ্রিয় পথে।
ক’দিন আগেই দিনের অন্ধকারে সূর্যের গ্রহণ বিলাপ
পঞ্চ ইন্দ্রিয় জানে রক্তের আবিরে রাস রঙ্গ নৌকা বিলাস,
কাল গর্ভ খুলেছে অচেনা মুখে খেলেছে আনন্দ দ্যোতনা
ক্রোধ ধ্বস্ত আত্মার অবরোধ বদল হয়নি রক্ত ধারা,
অন্নদাতা অন্নদাত্রী জানে ত্রিভুবনে মানুষের নিয়তি
আবারও খোঁজে মাছের চোখ মুখের আড়ালে বাসুকি ফণা।
বেলাভূমি জানে শ্মশানচারী সকল বিশুদ্ধতা
একই জন্ম চিহ্ন ঘিরে আছে নিসর্গ হাসি ভেজা দুটি ঠোঁট,
পারলে ভাঙো ভূস্বর্গের প্রাণোচ্ছল নিদেন দুটো আখরোট
বেদনায় বিলাসে কস্তুরি গন্ধে চলকে আদিম স্রোত।
কেউ কেউ শরীর ফেলে পালক ছড়িয়েছে ময়ূরের মতো
নিষেধের বিপন্নতা ভাঙে অন্ধকার আঁতুড় ঘরের আলো,
অসীম ত্রিজগৎ কোথাও ঈশ্বর কংবা শয়তান পরস্পর
অস্তাগ্নি থমকে নিঃস্বর তখন এক বুক রক্তে আগুন ফসল।