শরিফুজ্জামান পলের- কাব্যগ্রন্থ: হৃৎপিণ্ডের গহিনে পিরামিড

শরিফুজ্জামান পলের- কাব্যগ্রন্থ: হৃৎপিণ্ডের গহিনে পিরামিড

শরিফুজ্জামান পলের- কাব্যগ্রন্থ: হৃৎপিণ্ডের গহিনে পিরামিড
॥মৃধা আলাউদ্দিন॥

সাম্প্রতিক কাব্যচর্চার ভুবনে নতুন এক অতিথির নাম শরিফুজ্জামান পল। কাব্যকানননে নতুন নতুন ফুল ফোটাতে বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পল। হৃদয়ের লালিত স্বপ্ন ও স্বপ্নবাস্তবতার রূপায়নে নিপুণ কৌশলীর দক্ষতা অর্জনে তিনি সর্বদাই তৎপর। যাপিত জীবনের আশা-আকাংখা, প্রেম-ভালোবাসা সংসার-সংগ্রাম, সয়িষ্ণু বিবেকের অসহিষ্ণুতা কিংবা বেদনার্ত হৃদয়ের আহাজারিÑ সবই তুলে এনেছেন তার কাব্যপটে। শব্দ ও ভাবনার সমন্বয়ে সেইসব কথাই বলার চেষ্টা করেছেন ‘হৎপিণ্ডের গহিনে পিরমিড’ কাব্যগ্রন্থে। চেষ্টা করেছেন প্রাত্যহিক জীবন ও সমাজবাস্তবতাকে ধারণ করতে। প্রথম কবিতা ‘আমি প্রেমিক পুরুষ’ থেকে তা উদ্ধার করা যাক- ‘রাত-দিন, চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-বাতাস/জল-নদী, তরঙ্গ, পাহাড়-সাগর/জীবন-মরণ, সৃষ্টি-ধ্বংস/ উত্থান-পতন, ধনী-গরীব/ সব সমার্থক এবং বিপরীত জাতি/ আজ সব এক হয়ে গেছে।’
কবি জীবন ও জগতকে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন। ভাঙতে চেয়েছেন তার অন্তর্নিহিত দানবীয় পাথরগুলো। এই মহান কর্মযজ্ঞে তিনি একনিষ্ঠ সৈনিক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বোচ্চ চূড়ায়। দৃঢ় মনোবল আর আশা-আকাক্সক্ষার ঝা-া হাতে সম্মুখপথে ধাবিত হচ্ছেন, কেউ তাকে দমাতে পারবে না যেনো এই সাহস ও শক্তি অর্জনে নিজেকে পরিশ্রমী করতে একটু পিছপা নন তিনি। ‘রাত’ কবিতার পঙ্ক্তিগুলো স্মরণযোগ্যÑ ‘একটি রাত, সহ¯্র রাতের মতো/ ভেবেছি লম্বা দীর্ঘ রাত/স্বপ্ন নয়, শান্তি নয়, প্রেম নয়/ সবই আজ ক্ষুধার কাছে পরাজিত। তেরো হাজার রাত শুধু আঁধারের/আমি আঁধারের কাছে রাতের এক তীব্র প্রতিবাদ’। পৃথিবীকে সুন্দরভবে, সুস্থভাবে গড়ে তোলার প্রয়াস তার মননে স্থান নিয়েছে। বাসযোগ্য, যাপনযোগ্য ভুবন তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে তিনি সর্বদাই অগ্রগামী। এই পথ চলায় নেই ক্লান্তি, নেই কোনো অবসাদ, নেই কোনো ভ-ামী, নেই কোনো শয়তানি কারসাজি। শুধু সুন্দর ভাবনা লয়ে প্রতিনিয়তই তিনি বিচরণশীল। প্রাকৃতিক উপাদানের পাশাপাশি তিনি প্রাণিজ উপাদানে প্রতি অধিকতর গুরুত্বারোপ করেছেন। মানুষকে মানুষের কাতারে আর পশুকে পশুর স্থানে রাখার কাজটি তিনি সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছেন। নারী অরক্ষিত রাখতে তার দুর্বার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায় ‘ধর্ষিতার অনুরোধ’ কবিতায়Ñ ‘আমি ধর্ষিতা; লজ্জিত নই। বেহায়াদের সামনে/ আমি সম্মানিত ক্ষমা চাচ্ছি দুঃসংবাদ বহনের দায়ে/ আমি যে ধর্ষিতা তোমাদের সমাজে’ যদি না পারো বিচার করতে, যদি না হয় জাগ্রত বিবেক/কবিতায় আর নারী, প্রেমিকার বর্ণনা দিও না/ আমি সধর্ষিতা আরো বিখ্যাত হই।’
ধর্ষিতার এই আক্ষেপগুলো নিশ্চয়ই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। ঘুণে ধরা এই সমাজ ও জাতি নিশ্চয়ই অনুধাবন করবে একজন নারী শুধু মানুষ নয়, সভ্যতার উৎকর্ষসাধনে অপরিহার্য এক সত্তা। যে সত্তাকে সুষ্ঠুরূপে লাপন করতে না পারলে মানবজীবন ও মানবসভ্যতার ধ্বংস যারপরনাই নিশ্চিত। ধর্ষককে শুদ্ধ করে সুপুরুষরূপে সমাজে প্রতিস্থাপন করার পরামর্শ তিনি দিয়েছেন। নারীর প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা তার ভেতর জাগ্রত করতে চেয়েছেন। সকল অকর্ম আর লোলুপ দৃষ্টিকে ছিন্ন করে তৈরি করতে চান প্রেমময় একটি পৃথিবী।
‘প্রেমের রানি’ কবিতায় সেই ভাব সুষ্পষ্টরূপে ধরা দেয়-‘এক অবিশাস্য ভালোবাসার রং মিলে/ খেয়েছে মগজ আমার/ গুলিয়ে ফেলেছি সরল পৃথিবীর তোমার মাঝে। স্বর্গ-নরক সব হয়ে গেছে এক/ভালোবাসার দেবী তুমি, প্রেমের রানি। প্রেমের সুধা পান করবো আমি/ তোমার পেয়ালায় হে প্রেমের রানি।’ স্বপ্নময় একটি ভাবনা তিনি পুরুষ-সমাজে ছড়িয়ে দিতে চান। পুরুষকে ভেঙেচুরে নির্মাণ করতে চান। ধর্ষক নয় সুপুরুষরূপে নারী তাকে গ্রহণ করব- এই প্রত্যাশা তো করাই যায়। আসলে মাতৃভূমির প্রতি, জন্মভূমির প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা না থাকলে তাকে ধারণ করা বড়ই কঠিন। জন্মভূমির প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকার মানসিকতাকে লালন করতে কবি শরিফুজ্জামান পল সর্বদাই অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন। এক সঙ্গে পথ চলতে গেলে মানুষে মানুষে রেশারেষি, ঠোকাঠুকি লাগতেই পারে। কবি এ সমস্ত কার্যকালাপকে আমলে না নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রেমাসম্পদসহ এক সমাজ গঠনে বরাবরই তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেই পথেই হেঁটে চলেছেন বিরামহীন। ‘আপন পথ’ কবিতাটি প্রাসঙ্গিকÑ ‘পথেই স্বপ্ন দেখি হেঁটে হেঁটে/ আমি এখন বনে ফোটা বকুলÑ যেনো হাঁটছি পথে/ জন্ম থেকে জন্মান্তরে/বংশ থেকে বংশ পরম্পরায় সারা জীবন কাটে এই পথে/ জীবন মানেই জীবনের পথে চলা।’ জীবন-যন্ত্র, বা লাঞ্ছনা-গঞ্জনাকে অতিক্রম করতে কে না চায়। মানুষ স্বভাবতই সুখপিয়াসী যাপিত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিগাতকে সে কাটিয়ে উঠতে উন্মুখ। কবির স্বপ্নাচারী মন ও এক্ষেত্রে অগ্রগামী। গতানুগতিকতার বাইরে এক জীবনকে প্রকৃতির কাছাকাছি প্রতিস্থাপন করতে চান তিনি। প্রকৃতির অকৃত্রিম মায়া আর আবেশকে জীবনে জড়িয়ে নিতে পারলেই যেনো সুখের সেই পরম পাথরটি পাওয়া গেল। এ যেনো অন্তিম সুখের জীবন যা স্বর্গ থেকে উদ্ভুত হয়ে জীবন ও জগতে জড়িয়ে গেছে। ‘শুধু দুজনে’ কবিতায় সেই আভাস লক্ষ করা যায়Ñ ‘জটিল-কূটিল ও সহস্ত্র বিন্যাসে বিন্যাস্ত/ তোমাদের তৈরি কথিত আধুনিক সমাজ থেকে/ কোটি মাইল দূরে সুখের সংসার সাজাবো/ প্রকৃতির তৈরি যমুনার বালুচরে মাটির ঘরে। প্রকৃতিকে ভালোবেসে বাস করবো আজীবন।’ কবির এই চাওয়া অমূলক নয়’- পার্থিব কোনো চাহিদা মানুষকে সুখী করতে পারে না। অঢেল সম্পদ ও মানুষের সব আকাক্সক্ষা পূরণ করতে পারে না। কেননা মানুষ মূলত রক্তমাংসের সুখ-শান্তির প্রত্যাশী। যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে কবি তাই প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দিতে চান। ওই কবিতায় তিনি দ্বিধাহীনভাবে উচ্চারণ করতে চানÑ ‘কাঁচা ঘরে মাটির খাটিয়া বানাবো/ দূর্বাঘাসের চাদর আর পাতার চশমা/পুঁইশাক বীচির আলতা পায়ে দিব’। কবি এই চাওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত শৈশব-কৈশোরে ফিরে গেছেন। সেই সময়ের নির্ভেজাল জীবনকে তিনি মনে মনে লালন করেন। এতটা পথ পাড়ি দেবার পরও কবি তৃপ্ত নন; তার কাছে মনে হয়েছে শৈশবের সোনালি সেই দিনগুলোই আসলে প্রকৃত জীবন। এই উত্তম চিন্তা যখন ধারণ করেন তখন তিনি জীবন থেকে জীবনেই বিচরণ করেন না জীবনের বাইরেও যে আরেকটি জীবন আছে, আরেকটি জগৎ আছে সেই জগতে রাজা-বাদশার মতো পদার্পণ করেন। কিন্তু সেই জীবনের কাছে যাওয়া এত সহজ নয়। তাই তো কবি নস্টালজিক হয়ে পড়েন কোনো কোনো সময়। ‘হারানো আষাঢ়’ কবিতার চারণগুলো দৃষ্টিযোগ্যÑ ‘আমার যৌবন ভরা মেঠো পানির নদী নেই/ ছোট ছোট ঢেউ খেলার জলকেলি নেই/ নদীতে গোসল করার দাবি নেই/ মাঠে বৃষ্টিতে বেলা চুক্তি ফুটবল খেলা নেই/ সব হারিয়েছি আমি সময়ের ব্যবধানে’/ পঙ্্ক্তিগুলো যেনো নিবিড়ভাবে হৃদয়কে স্পর্শ করে। কবি শরিফুজ্জামান পলের কবিতার উপমা-উৎপ্রেক্ষা চিত্রকল্পÑ সবই তৃষ্ণিত হৃদয়কে সুপেয় পানির মতো তৃপ্ত করে। কবির কাব্যভাষাও প্রসংশার দাবিদার। একজন কবির মূল শক্তি হলো তার শব্দের ব্যবহার। ভাবনাগুলোকে যথাযোগ্য শব্দে উপস্থাপন করতে কবি নিরন্তর সাধনায় রত। সেই সাধনা তখনই সিদ্ধি লাভ করে যখন পাঠক হৃদয়ে তার শব্দগুলো, শব্দের কারুকাজগুলো পাঠকের মনের কোণায় দাগ ফেলে যায়। কবি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে ভাব-কল্পনাকে শব্দে রূপদান করতে। ভাবের গভীরে প্রবেশ করে কবিতার রূপ, রস আস্বাদন করার পথ খুলে দিয়েছেন। অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এগুলো সর্বজন সাদরে গ্রহণ করেছেন। কবি তাই কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়। ‘ধন্য আমি’ কবিতার চরণগুলো এক্ষেত্রে পাঠযোগ্যÑ ‘চাহনিতে অগ্নিরশ্মি বিচ্ছুরিত হয়/ গলে যায় হৃৎপি-/ ঝরে আবার রক্তের বন্যা অবিরত/ কেন এলে আবার শুনতে ঝড়ের গান/ সহ¯্র বছর পর আমার হয়ে?’/ শুধু তাই নয়Ñ গতানুগতিক সমাজ ব্যবস্থা ও মানুষের মানসিকতার যে শূন্যতা তা খ-ন করার জন্যই কবির এই কলম যুদ্ধ। মা, মাটি, জন্মভূমির প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা বা তিনি প্রতিটি পঙ্ক্তিতে ব্যক্ত করেছেন। ধর্ম-বর্ণগত ও জাতিগত সকল অন্যায়-অবিচার রুখতে কবি সোচ্ছার। জীবন জগতের রূঢ় বাস্তবতা ভেদ করে দেখাতে চান আকাক্সিক্ষত এক পৃথিবী। মানব ইতিহাসের স্বর্ণোজ¦ল অধ্যায়গুলোও পাঠ করতে চান নিরঙ্কুশ হৃদয়ে। নিছক শব্দের পর শব্দ সাজানোই কবির কাজ নয়। সংবেদনশীল ভাবনাগুলোর প্রাণ তৈরি করাটাই তার মূল লক্ষ্য। ‘মিথ্যে পরাজয়’ কবিতার চরণগুলো তাই বলেÑ ‘স্বপ্নের রাক্ষস আর খোক্ষসরা/ জমিনে নেমেছে পঙ্গপালের মতো। দলবেঁধে কুটি কুটি করছে/ মানব সভ্যতার আবাসস্থল/ আমার হৃদয়’/ এভাবেই কবি পাঠক-হৃদয়ে স্থান করে নেন তারপর সেই হৃদয়ের ঐকান্তিক ইচ্ছাগুলোকে পরিমার্জিত করে উচ্চমনের ভাবনার দ্বারপ্রান্তে হাজির হন। যেনো যুক্তি কষ্টিপাথরে ঘর্ষণ লেগে হৃদয়টা নির্বাণ লাভ করেছে অতি সহজেই। আগুনে পুড়ে পুড়ে সোনা যেমন খাঁটি হয় তেমনি হৃদয়টাকে তিনি পোড়াতে চান জটিল কোনো লক্ষ্যে। ‘শূন্য’ কবিতায় সেই আলোই যেনো চিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছেÑ ‘শূন্য মানুষের কেন এত চাওয়া/ তোমাদের সীমানা নেই আমার জানা/ আসলে তোমরাই ভিখারি/ ইশ^রই তেমাদের সহায়?/ আমি শূন্য থেকে এসেছি/ শূন্যের দিকেই হাঁটছি/ স্বার্থের দুনিয়ায় চাই না আমার স্থান।’ নীতি-নৈতিকতার ধ্বব্জাধারী মানুষগুলোর মতোই তার উচ্চারণ। যুগে যুগে, কালে কালে যেভাবে পীর-মুর্শিদগণ মানুষকে দিব্যজ্ঞানে গুণান্বিত করে আলোর পথ দেখিয়েছেন, বুদ্ধের মতো জ্ঞানীগুণী মানসিকতাকে লালন-পালন করেছেন। খুব সহজভাবে কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করেছে ‘জীবনের খোঁজে’ কবিতায়Ñ ‘এখন শুধু উড়তে জানি। দিন-নিশিতে/ অভিমানের সব স্মৃতি ফেলে দিয়ে নতুন জীবনের খোঁজে/ ফিরে যাব একদিন/ অর্জিত সব কিছু নিয়ে তোমাদের বাতায়নে’/ পঙ্ক্তিগুলো পাঠ করে আত্মতৃপ্তি তো লাভ হয়। পামাপাশি ভাবনারও দুয়ার খুলে যায়।
যদিও এ ধরনের ভাবনা-চিন্তা সেই অনাতীকাল থেকেই বহমান। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই কবির এই প্রয়াস। কবি শরিফুজ্জামান পল মূলত কবিতাকেই ধারণ করতে চেয়েছেন। যে কবিতা, মানবিকবোধগুলোকে লালন করেÑ সেই সাথে দেশ, মাটি, মানুষের অন্তরের অন্তরে জায়গা করে নেবার তীব্র আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। ভাব, ভাষা, ছক, উপমা দ্বারা তা পরিশোধিত? পরিমার্জিত করে পাঠক সমাজে নিজেকে দাঁড় করানোর একটা চেষ্টা রয়ে গেছে। ‘ক্ষুদ্র অভিবাসী’ কবিতায় সেই স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছেনÑ ‘হাজার কোটি বছর আমি ছিলাম/ আমি থাকবো বিশ^ব্রহ্মা-ের এক ক্ষুদ্র অভিবাসী’/ এমন অনেক সুপাঠ্য ও সুচিন্তার চিহ্ন কবি শরিফুজ্জামান পল। আলোচ্য কাব্যগ্রন্থ ‘হৃৎপি-ের গহিনে পিরামিড’ কবির কাব্যচেতনা আর ঐকান্তিক ইচ্ছার ফসল। দূরপ্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষাভাষি কবিতাপ্রেমীদের পাঠ-তৃষ্ণা মেটাতে তার এই কবিতা-কর্ম সত্যিই প্রসংশার দাবিদার
দূর দেশে থেকেও দেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনাকে যেভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং তা লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তা তার প্রচারে দেশপ্রেমেরই পরিচয় বহন করে। ধীরে ধীরে সেই প্রেম পিরামিডে রূপ নেবেÑ এ আশা অমূলক না। কাব্যমোদী মহলে ‘হৃৎপি-ের গহিনে পিরামিড’ ব্যাপকভাবে আলোচিত হোক ও প্রসারিত হোক। কবি, কবিতা ও কবিতা-পাঠকের মেলবন্ধনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নিশ্চয়ই।