পারমিতা রাহা হালদার বিজয়ার কবিতা
তোমারই অপেক্ষায়
অপেক্ষা শব্দটা স্মৃতির খাঁজে চুঁইয়ে পড়া স্বপ্নের আনাগোনা অথবা মন খারাপের অপেক্ষিক না পাওয়া সকরুণ সুর!
কোন এক শীত দুপুরে গালিচায় বসে কলম ছুঁয়ে আর লেখা হয়নি সেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার রূপকথা!
এখন,যখন গা পুড়ে যায় আমার জ্বরে তখন তোমার হাতের তালুর স্পর্শ খোঁজা হয়না আর। অভ্যাসটা বদলে গেছে অনেকটাই।
তুমিও নিশ্চয়ই রোদ-ঘামে আমার আঁচল খুঁজে বেড়াও না ঠিক আগের মতো করে!
ভুলে গেছো কখন মনের অজান্তেই…তাই না?
এক লহমায় গল্পেরা হারিয়েছে জীবন সাধনার পূর্ণতার স্বাদ।
শুধু বেদনার মাঝে অনেক জমাট অভিমানে থমকে গেছে-
ছোট্ট ছোট্ট হাসি, খুশির ফেলে আসা দিন,
দুজনের গায়ে লেগে থাকা স্বপ্নসুখ, সংঘর্ষ, অনুভূতির ছোঁয়া।
এলোমেলো বাতাস উঠানময় ছড়িয়ে গেল যেদিন;
ধুলোকণায় সেদিন গভীর ঝড়ে ধূসর ধূলির পথ…!
বাঁশির সুরে আর বাজেনি জীবন ছন্দের শব্দ-প্রতিশব্দ;
এক পশলা সুখের ক্ষনে কিংবা তীব্র দুঃখে ভাসছে শুধুই তানহারা ছিন্ন ভিন্ন সেতারের হারানো সুর।
আর অপরিণত ভালোবাসার নির্বাক নিস্তব্ধতা,
আমার কবিতার দেশে মেঘরাশি,
আজও অশ্রু জড়িয়ে শুধু….
শুধু তোমারই অপেক্ষায়।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়…
তোমার সভায় আমি আজ নিঃস্ব, রিক্ত, সর্বহারা…
কিন্তু তুমি কি পেয়েছো খুঁজে সে ছিন্নবীনা?
শুভ দিনের অপেক্ষায়
বন্ধ জানালা খুলে দিয়েছি-
দেখছি আকাশ কালো করা কাজলা মেঘ, বাতাসে ধুলোকণা,এদেশের বে-তাল আর পাড়ার মোড়ের জনতার হরতাল।…
রাষ্ট্রের বুকে হঠাৎ রঙের বদল, এই শতাব্দীর অপার্থিব রাত্রিময় আকাশের গোমড়া মুখ, ক্ষুধার্ত রাতের হাহাকার,চিৎকার!দেখছি নীরবতায়…
একলহমায় অসহায় চোখে কত মৃত্যু দেখছি ,মৃত হয়েছে এখন নিজেই মিছিল,
নিষ্প্রাণ গ্রহে পড়ে আছে শুধু একলা শহরের ইতিকথা আর আহত সভ্যতা।
ঝুল বারান্দার রেলিং বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে কুয়াশা,লজ্জা-ব্যথা আর উপেক্ষার আকাশ,হেমন্তর শীতও বড্ড সফেদ ফ্যাকাশে এখন!
নিস্তব্ধ রাতের গভীর দীর্ঘশ্বাস, মানবতার সঙ্গে লড়াই এখন অতিমারীর,
কিছু ভাঙছে, কিছু খসে পড়ছে, বাতাস কখনো থমকে দাঁড়াচ্ছে,শ্বাস নিতে!…
জ্যোৎস্না রাতে নক্ষত্রদের স্থান বদলাতে দেখছি আমি-
এখন আমার শান্ত দুচোখ স্তব্ধ লাখো নারীর ধর্ষণ দেখে।
কত ক্ষুধাহীন দেহ মাটিতে পড়ে নিথর,শ্মশান থেকে শ্মশানে;
হাজার দ্রারিদ্রতার কাহিনীতেও আমি দেখছি এক মুঠো ভাতের গন্ধের লড়াই…!
হাড়পোড়া গন্ধের আমোদে মেতে উঠেছে দেখি তটভূমি। পতনের শব্দ নেই, ইতিহাস আছে।
জানলায় একলা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি আমি-
আজও প্ররোচিত পূর্ণিমার আদিম আঁধারে নিখাদ সুখভরা হাসি হাসছে’ ভালোবাসার ঈশ্বর,
আমাদের পাপের প্রসাদীর হরিরলুট মানুষের তালুতে তালুতে; অনাহুত সভ্যতার নিঃস্বতার ছায়ায় নকুলী প্রসাদের স্বর্গীয় স্বাদের উচ্ছিষ্ট কুড়িয়েছে বিশ্ব সংসার!
কৃষকের ঘ্রাণে ক্ষয়, হাড় মোচড়ানো মেদ,নিলাম হচ্ছে শ্রম, মজুরের জঠর জ্বালায় চোখের জল, নিঃশব্দেই দেখছি আমি!…
ফুটপাতে আধভেজা জ্যোৎস্নায় মাখামাখি ক্ষুধার্তেরা, রাম-রহিমের ভূখা পেটের যন্ত্রণায় মিশে গেছে জাত-ধর্ম আর নগ্নতা আঁকা প্রগতির লড়াই!….
এখন জানালার পেছন ফিরে দেখছি আমি ,
শৃঙ্খলা বদ্ধ সংসার- সংসার খেলায় মেতে নিজ সত্ত্বার বিসর্জন,
আর বাঁধন ছিঁড়ে কবিতার পাতায় সযত্নে লিখেছি মানব সভ্যতার ইতিহাসের চিত্র, প্রাচীন ভবিষ্যত।
শুভদিনের অপেক্ষাতে প্রহর গুনছি,মানবতার ঋণ শোধ করবে কোন’ এক একলা শহর,
ওঁম তৎসৎ প্রার্থনায় জ্বলে উঠুক চেতনা,
সব কিছু শুভ হোক, ফিরে আসুক পৃথিবীর চেনা গন্ধ,শুভ হোক বিশ্ববাসীর,জেগে উঠুক শুভ চেতনায় আমার প্রিয় দেশ-মাতৃভূমি- শহর,,,,
নীলাকাশের উড়ো মেঘ আর বাতাসের ধুলোকণার… সব কিছু শুভ হোক।….
ঝলমলে বড়দিন
উৎসব বড়দিনে কেক চাই কাটতে
পড়ালেখা ছুটি চায় মিঠে রোদ মাখতে।
হিমপাত কুপোকাৎ শিশির আর কুয়াশা
সোয়েটার,টুপি,মোজা দুর্ভোগ হতাশা।
বন্ধুরা জোট বাঁধে পিকনিক ভোজেতে
খিঁচুড়ি,মাংস,পোলাও রকমারি স্বাদেতে।
রোশনাই আকাশে চাঁদ তারা মিটমিট
ঝুলি ভরে স্যান্টা দিয়ে যায় কত গিফট।
রোদভেজা অবেলায় মেঘ চিরে রোদ্দুর
মানুষ বেশে ঈশ্বর ঘোরেন রাতদুপুর।
উলঙ্গ যীশু দেখি ক্ষুধার্ত ফুটপাতে
কেক-পেস্ট্রি,চকলেট নেই তার পাতেতে।
আলোকিত চারিধার,প্রার্থনা গীর্জায়
আহারে বাহারে প্রাণ,উৎসবে প্রাণ