নাহার আলমের কবিতা

নাহার আলমের কবিতা

এদিক ওদিক

সেবার আগুন সময় তখন।
ছিলো বেদুঈন শ্বাসে জলের দহন।
এদিকে চলছিলো ’শান্তি’ শব্দের খরার মরসুম – থিতু বৈভবে
ওদিকে, গরবিনী ঘরানায় ক্যাসিনোতে বাড়ছিলো- নারী ও মদের ব্যাপক ধুম –
মৈথুন স্বভাবে!
শুনছিলাম বঞ্জুল বাতাসে ভেসে আসা কপট প্রেমিকের কুমির কান্নার মরা হুতাশ;
তৃষ্ণার্ত দুপুরে বিকিনির মতো মাত্র কয়েকফোঁটা বৃষ্টি জলে ক্রমাগত বেড়ে চলে অন্ধ চাতকিনীর দীর্ঘশ্বাস।

উলঙ্গ মুখ-পুস্তিকা জুড়ে এখন শুধু দেখি, অগণিত কীট আর আরশোলার বসবাস।
বিষণ্ণতারাও গোধূলির ওপারে চলে গ্যালো…
অন্তিমে- পশ্চিমে – ঈষাণে- নৈর্ঋতে- পুব-কিনারে- দক্ষিণের একেবারে সীমান্তে…
বুকে নিয়ে লজ্জা ও ঘৃণার কচি ঘাস।
এখন জানি, ছড়াবে না কোনোদিনও আর সুখ স্মৃতির মোহন সুবাতাস…

দাঁড়িপাল্লায় কিছু সমাচার

প্রযুক্তির দামে কিছু আবেগ কিনেছি আমি- বেশ দামি!
যাপনের খামে যত্নে তুলেছি কিছু অপ্রিয় মায়ার হেম- গেঁথে গ্যাছে মনের গহিনে মিথ্যে ছায়ার প্রীতি ও প্রেম।
সম্পর্কের মিহি জালে আটকে পড়া কিছু নিমানুষের মুখ, তাতে স্পষ্ট চিনেছি আমি।
আসল – নকলের দাঁড়িপাল্লায় বেশ কিছু বোধের ওজনও করা হলো ঠিক,
কাগুজে খেলনার মতো কিছু শব্দের পাতা কুড়োলাম– বেশ কিছু কাল
শ্বাসের খুব কাছে থেকে প্রিয় কারো মুখের ছবিটি যা এঁকেছিলাম এতোকাল – সব ভুল ভাষা হয়ে চাবুক হলো সে তুলি, আঁকার!
যার মুখ মনে করে কবিতায় ডুবে ছিলাম ভুলের আয়নায় – তা-ও ভেঙে চুরমার!

এসব কথার মানে টা, যে যা পারে সে-ই
বুঝে নিক।
নিজের বোকামোতে নিজেকেই দিই শতকোটি ধিক।

বয়েছিলো প্রথাগত দারুণ দাপটে কপট আর দোপাটির অভিজাত যুগ্ম শ্বাস;
খুঁজেছিলো তাতেই এক অন্ধ বাউল তার ভাঙা দোতারায়- ফেরারি সুখেরে, বারোমাস।
খরগোশের চতুরতা বোঝেনি কখনো আমাদের শ্বাস প্রতিমা ব্যস্ত অরণ্য,
মরুর মাধুর্যতায়, অদম্য রোদের রুক্ষতায়
লু- হাওয়ারাও আজ তাই এতোটাই বন্য!

ক্ষমার লাবণ্য আমার

সময়ের ভুল ইশারায় এইমাত্র কিছু কথা আর ব্যথারা স্মৃতি হয়ে গ্যালো—
নাদান তপস্যা, আহুতি আশা, প্রেমধন্য শ্রম, ফেরারি ক্ষতির সংখ্যাক্রম, আহত বিজয়, প্রাচীন অহং এর ক্ষত সমূদয়…

পাষাণ করাতে বেশ কিছু দায় হেলায় দলে গ্যালো—
সম্পর্কের ফাটল, পূঁজির স্বাস্থ্য, সকালের আহ্বান, নিষিদ্ধ আত্ম-জিজ্ঞাসা, রাতের তুলিতে নক্ষত্রের অপমৃত্যু, নদীর দূষণ,
শূন্য রেখায় পচাগলা লাশের সনাক্তকরণের চাপাপড়া রিপোর্ট…

নজর এড়িয়ে কিছু ইতিহাস মরেও বেঁচে রইলো—
করতোয়ার আত্মহত্যা, দুদকের নাটকীয় বাড়াবাড়ি, সিএনআর –এ অস্তিত্বের কাড়াকাড়ি, বিশ্বব্যাপী যাযাবরের ছড়াছড়ি, রাখি পূর্ণিমায় ঘটের কাড়াকাড়ি, ফুলনদেবীর অপহরণের ঝুলন্ত মামলা, রক্ষকের ধর্ষণকলার লালফিতের গুম হওয়া ফাইল, মশাবাহিত রোগের মহামারি…

মনের অজান্তে কিছু বোধ ফিরে ফিরে আসে, চলে গেলেও—
হেমন্তের দুপুরে গেরুয়া বাতাসে মৃত চন্দনের ঘ্রাণ, অদেখা প্রেমিকের ঠোঁট ছোঁয়া উড়ো চুম্বনের কলতান, সোহাগি রাতে প্রণয় তিয়াসী জোছনার জলপান, রক্তজমা গোধূলি বেলায় কাহারবার মুগ্ধ সুরের গান, উন্মুক্ত ঊরুতে স্বর্গ মায়ার কুহকী সুখটান…

ক্ষমার লাবণ্যে আমি শুধু কর গুনে
যোগ-বিয়োগের সংখ্যা লিখে রেখে যাই আমার শব্দবন্ধের ছেঁড়া পাতায়…