চ্যাটার্জী অমলের কবিতা

চ্যাটার্জী অমলের কবিতা

প্রশ্ন

চমৎকার…, খুব ভালো বলেছো
এই নাহলে ভালোবাসা ?
দু’ বুক বিশ্বাসে গড়া সম্পর্কের ঠোঁট গড়িয়ে নেমে এল
সন্দেহের মস্ত থাবা, পঞ্চতাল লয়ে আমার চরিত্রে পেলে
চরিত্রহীনের বুনো গন্ধ , নির্মম চাবুকের নধর আঘাতে
বুক চুরমার।

একদিন যার দীঘল চোখের গভীরে পেতাম ভরাট
আর্যসুখ , রাতভোর অনুভবের মুগ্ধতায় দেখতাম
বিরতিহীন দুটি আত্মার দামালপনা,পার ভাঙা আবেশের
মাদকতা চোঁয়ানো শীৎকারের প্রতিটি ছন্দে উঠতো
প্রাণের উত্তাপ ।

অকস্মাৎ আগ্ৰাসী বাতাসের গজদাঁতের চেয়েও
ভয়ংকর সম্পর্কের অন্তরমহল থেকে বেরিয়ে এলো
সন্দেহের আকর, সম্পর্ক না রাখার দু’হাত উল্টানো
কেউটে ঝড়ে তোলপাড় ওঠে আমার জীবন সত্তায়,
প্রণয়ের বাঁকে তুমি হারানো তাল লয়হীন বিচ্ছেদের
নীরব দুর্ভিক্ষে বিষন্নতার কামড়।

অথচ কি আশ্চর্য দেখো…
সাগরের উত্তাল উচ্ছ্বাসের মতো জড়িয়ে ছিলে
আমার জীবনের প্রতিটি পলে অনুপলে , প্রতিশ্রুতির
ডানায় ভাসিয়েছিলে দ্বৈত সংগীতের ইমন কল্যাণ,
বুকের রাজপথে চারুদৃষ্টিতে এঁকেছিলাম অনুভূতি রঙে
তোমার জলছবি।

দিনশেষের আলপথে বিশ্বাসের সৎকারে চলেছে বিমূর্ত
মূহুর্তগুলো । হৃদয়জোড়া ভালোবাসার বুনিয়াদ কত
সহজেই অঙ্কের চূড়ান্ত গণনায় পৌঁছে যায় শূণ্যের কোটায়।
বলতে পার…?
সত্যিই কি জীবনে প্রিয় মানুষ বলে কিছু হয় ?
অলঙ্কার সমেত ঘৃণাই কি ভালোবাসার একমাত্র জানাজা ?

নিজের খেয়াল রেখো

ইদানিং পারিপার্শ্বিক অবস্থা খুবই ঘোরতর, আমিষ গন্ধে
ভরপুর পরিবেশ,শান্তির গোলায় ফসলের মাপ হয়
কষাইয়ের বাটখারায় । কোথাও বেরুবার আগে
কালো বাক্সটা একবার বাজিয়ে দেখে নিও,
জংধরে কোথাও হিংসুটে ছ্যাঁদা বেরুলো কিনা।

স্বপ্নের রাজ্যপাটে অস্বাভাবিক দৃশ্য সামনে এলে
বুড়ো ব্রম্ভাও গুটি গুটি পায়ে সপার্ষদ যাবে অন্তরালে।
তখন দেখবে চেনা পথিকের হৃদয়েও নেকড়ের স্বভাব,
দু’চোখে কামনার আগুনে পেতে চায় তোমার উত্তল ভূভাগ ।

চলমান জীবনে পুঁজিবাদী ইচ্ছেদের মালিকানায়
চাকচিক্যে মোড়া বাঁকা চোরা বিশ্বাসের আত্মকথা।
রাজনীতির আখড়ায় রঙীন পাত্রে জাবর কাটে
মূল্যবোধের বর্ণমালা। নূহের পৃথিবীতে পরিবার পরিজন
সহ মধুবিলাসী দোলনায় ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় ছিনাল সমাজ।

কর্পূর সুখের আমন্ত্রণে সীমান্ত রেখা বরাবর সিঁদুরের দাগ
মুছে তুমি যখন যাবেই, জীবনের লড়াই লড়তে লড়তে
আমার বিধিলিপি যতই নীলাম্বরী হোক বুকের
বাম পাশের যন্ত্রণা চেপে ধরেও হাসিমুখে বলবো
ভালো থেকো যেখানেই থাকো। শিরদাঁড়ায় স্বতন্ত্রতা
বজায় রেখে নিজের খেয়াল নিজেই রেখো।

নব জীবনের নব অধ্যায়

অপুষ্টিতে ভোগা না-বালক স্বপ্নগুলোর অনাস্বাদিত
যৌবন কোন এক ফাগুনী মাহেন্দ্রক্ষণে সঁপে ছিল
তোমার হাতে। ভাবনার সাঁতারে ছিল একটু স্পর্শের
আকুতি তোমার প্রশান্ত প্রকোষ্ঠে।
শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে বিরহে জবুথবু কাঙাল হৃদয়
দিনলিপির তসবি ঘুরিয়ে বিভোর স্বপ্নে খোঁজে মৌসুমী
আবেগ ।যেখানে দুই মনের সুড়ঙ্গে হবে আকণ্ঠ মিলনের
মহা অধিবাস।উলঙ্গ ঠোঁটের উষ্ণ চুম্বনে লাজে রাঙা হবে
তোমার নিখিল।
প্রণয়ের সচ্ছল রোয়াকে ঠাঁই হয়ে থাকবে তোমার
অদৃশ্য স্পর্শ, টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতির অবয়ব, আর
প্রশান্তিক গভীরতায় প্রেমের আদরমাখা বুকের গন্ধ।
আর থাকবে,মেঘলা দিনের নান্দনিক দুপুরে শরীর ও
আত্মার যুগলবন্দি। সেখানে দেহাতি রাগের সাথে
অন্তরায় গলা মেলাবে বৈরাগী রাগিনী । অঙ্কুরিত হবে
নব রাগে নব ছন্দে নব জীবনের নব অধ্যায়।