জয়ন্ত দত্তের কবিতা
তবু ও জীবিত
কেটে যায় সময়,নাকি বয়ে চলে?
কিছুই জানি না
আমি আঁকতে থাকি
আমাদের বেঁচে থাকা।
আরো কিছুক্ষণ
ভুলগুলো পাথরে পিষে
গোটা শরীর রঙ মাখে
আর
সময়ের পরিবর্তন অবিরাম খেলা করে
ঐ সংখ্যালঘু প্রত্যাশা কিংবা
অচেনা বিরতি।
তবুও
নরম হাতে দেহ বিছিয়ে
চিৎকার করে বলেছিলাম
আমি জীবিত!
কখনো একান্তে
একদিন
সবাই ঘুমিয়ে পড়ে
আমিও ঘুমবো ব্যথার ভারে
নুয়ে পড়া এক রাতে
আমার একটা পূর্ণিমা মধ্যদুপুর
আছে,কচি-কচি ডালপালা ছড়ানো
একটি বৃষ্টি বেলা আছে
আমার উঠোনজুড়ে কেবল
দিনমান হলদে বিকেল নাচে..
দিল-দরিয়ায়
১.
অনেকদিনের অদর্শনে
তোমায় দেখার তাগিদ বড়
তুমিও ঠিক শীতের মত
‘আসছি’–বলে দেরি করো।
২.
আসবে যখন এম্নি করেই এসো
ভিজে চুলে আদরগন্ধ মেখে
চুল চুঁইয়ে জলের ফোটাগুলো
সোহাগ মেখে ঝরুক আমার বুকে।
৩.
হাতেনাতে পড়বে ধরা
উল্টোপথে যতই হাঁটো
দিল-দরিয়ায় ডুববে তুমি
যতই ভালো সাঁতার কাটো।
বেজে ওঠে নিঃসঙ্গতা
টুপটাপ বৃষ্টির মতো
নিঃসঙ্গতা
ঢুকে পড়ে দৈনন্দিন ঘরে
আমাকে রেখে আমি বহুদূর হেঁটে যাই
অসীম নির্জনতায়…
অনেক হৈ হৈ ছিল যেখানে একদিন
কিছুদূর…তারও পরে দেখি
বটের শাখার মতো মেলে আছে
দুঃখের ডালপালা…
ধুলো জমেছে অযত্নের ডাকবাক্সে
সিঁড়ি পথে মাকড়সা জাল বুনছে
আর আমিও
ঘড়ির কাটার লেজ কেটে
সময়ের প্রতারণা দেখছি
ঠিক সদর দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে
গাঙচিলের ডানায় ভর করে
একটি চিঠি আসার কথা ছিল
যত্নহীন পোস্টবক্সে
আবারও
পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
ঐ আদিম যুগে
শুনেছি সেখানেও নাকি
বালির ঘড়ি এপিঠ ওপিঠ করে!