মৌসুমী ভৌমিকের কবিতা
সময়ের ফাঁদ
বাইরে থেকে দেখি এক ঝলক
ভেতরে ঢুকে দেখি পুরোটা
মাঠের মাঝে পুরনো গাছের চেহারা
দেখলেই বোঝা যায় বাকিটা…
অগণিত প্রাণোচ্ছল জীবনের সাক্ষী হয়ে
সময়ের সাথে সাথে বেড়েছি বহরে
আজ আমি নিশ্চুপভাবে দাঁড়িয়ে
জানালার কাছে একলা ভীষণ দিনে
অবোধ্য ভাষায় আপন কথা শোনাই…
অনেককাল আগে গাছ কেটে সাফ করে
ছোট চারচালা ঘর হিসেবে আমার জন্ম
আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ হয়নি তখনও
এলাকার নামে প্রচার পেতে পেতে
সেটি নাম হয়ে যায় কোনমতে
ভাবনা যায় আমার
দুপুরে গরমে একমাথা ঘাম নিয়ে
ওরা শ্রম করেছিল স্থাপনা ভূমিতে
আমারও যে দায় ছিল নিয়েছি কাঁধে
সবকিছু শুরু হলো হাওয়ার বেগে
এত কোলাহল সারাদিন আমাকে ঘিরে
সব কান পেতে শুনেছি
আমার ক্লাসঘর-চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চি
আমার ব্ল্যাকবোর্ড-খাতা-বই-আলমারি
আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আরো যা কিছু
সব কেমন করে হয়ে গেল আপন
সবের ছোঁয়াতেই আমি হয়ে উঠি দামি
দিনগুলো নিত্যনতুন হয়ে ওঠে
হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়ে হই গর্বিত
তারা বেশ কিছু বছর যায় কাটিয়ে
চলে যায় বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে
ভালো থাকার মত ভালোই ছিলাম
আজ আর নেই যা ছিল কাল
নেই সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
ঝড়ে চারপাশ আঁধার হয়েই এলো
রয়ে যাই আলোর প্রতিক্ষায়।
অস্থিরতা
হেঁটে যাই …
অনাদিকাল থেকে
ক্রমাগত ঐ অনন্তের দিকে…
ইচ্ছে হয় ফিরি …
পথ ভুলে ক্লান্ত পথিকের মত
আবার যাপিত জীবনের মায়াজালে…
আমার হিসেব মেলে না …
সত্যকে উপলব্ধিতে স্পর্শ করাতে গিয়ে
সত্তার গহিনে জেগে উঠেছে আরেকটা সত্তা…
যাপিত জীবনের গল্প
আশ্চর্য স্থাপত্য!
উল্টানো কলসীর মত
লতাপাতা দিয়ে বোনা ঘর,ওইত
শূণ্য নীলে সূর্যশোভিত
তালগাছে,এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত
দখিনা বাতাসে দুলত
অশান্ত ঝড় সবটা কেড়ে নিত।
তবুও ওরা উড়ত,ঘুরত
শিল্পের মায়াজাল বুনত
কত সুরেই না গান গাইত
সারা দুপুর,সারা বিকেল যেত।
দিনের আলো নিভত
কলোনিতে জোনাক জ্বলত
শূণ্য নীলে নক্ষত্রক্ষচিত
আকাশে,এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত
আবার ভোর হত
উন্মুখ জীবন ছুটে বেড়াত
ভালবাসায় স্বপ্ন গড়ত।
আজ আগুনের মত জ্বলন্ত
সে সব গাছ জুড়ে পোড়া ক্ষত
পোড়ানোর দরকার নেই অত
পুড়েও মরা যায় যত্রতত্র।