তীর্থঙ্কর দাশ পুরকায়স্থের কবিতা
অন্নপূর্ণা উত্তরিলা
নদীর কিনারে তাকে
ডেকেছিল ,
উঠেছিল পারানি নৌকায়,
ঘরের মেয়ের গল্প
শুনিয়েছে,
খিটিমিটি, অভাবের দায়,
দুবেলা অন্নের কষ্ট,
স্বামীটির
উদাসী স্বভাব,
শ্মশানে মশানে ঘোরে,
নেশা করে,
অশ্রাব্য প্রলাপ।
সব কথা তার কাছে
বলা হল,
ততক্ষণে নৌকা লাগে তীরে,
শুনেছে সমস্ত মাঝি,
বুঝেওছে
সব দুঃখ প্রাণের গভীরে।
দেখেছে ঘরের মেয়ে
অন্নপূর্ণা
গায়ে কাঁথা-কানি,
মাঝিকে ভোলাতে
আজ সাজে
স্বর্গের শিবানী।
যতই স্বর্গের দেবী,
আসলে সে
ঘরেরই তো মেয়ে,
কোন মুখে লজ্জা দেবে
তাকে মাঝি
সোনা-দানা চেয়ে?
গরীব মেয়ের কাছে
কোন পিতা
বলো হাত পাতে?
চেয়েছে সন্তান তার
শুধু যেন
থাকে দুধে-ভাতে।
গরীব মাঝিটি, তার
নৌকা, আর
দুখিনী মেয়ের সেই ছবি
বেঁচে আছে, বেঁচে নেই
সেই নদী,
মধ্য-যুগের সেই কবি!