আবদুল বাতেনের কবিতা

আবদুল বাতেনের কবিতা

তোমাকে পাবোনা বলে, আসিনি

তোমাকে পাবোনা বলে, আসিনি-
দিয়ে
হামাগুড়ি আগুন গাঁথা রাস্তায়
ডিঙিয়ে
আঁধার আবাদী গ্রামের পর গ্রাম!

তোমাকে হারাবো বলে, আনিনি-
সিংহের থাবা থেকে ছিনিয়ে
প্রেম ও পরমায়ু
হাঙরের হাঁ মুখ থেকে কেড়ে
বিশ্বাস ও বেদনা।

তোমার জন্য প্রিয়তা,
বুনেছি বসন্ত
বেপরোয়া বৈশাখীর নির্মম নখরে ও ঠোঁটে।
জেনেছি-
প্রেমহীন সমস্ত উপাসনা অর্থহীন, জগতের।

যে জীবন প্রেমিকের ও পাগলের

থাকলে,
থাক কিছু ভুলচুক বাদুড়ের মত ঝুঁলে
অস্তিত্বের ডালপালায়।

অনুতাপ অগ্নিকান্ডে করিনা আর্তনাদ
খামচে ধরলে
প্রাত্যহিক পান্ডুলিপির লাইনে লাইনে
প্রশ্নবোধক কি বিস্ময় চিহ্ন কতিপয়।

চাইনি কখনো,
দেবতা দৃঢ় জীবন
বিশুদ্ধতার বীজ পুষে পুষে
অলৌকিক অশ্বত্থ হতে আহামরি!

পেয়েছি প্রকান্ড মহাবিশ্ব
মন্থন ও মদিরতা
এখানেই
যে জীবন প্রেমিকের ও পাগলের।

তোমার ওষ্ঠ আঙুর

তুলে তুলে নিই তোমার ওষ্ঠ আঙুর, পাশ বালিশে হেলে
মাতাল নবাব
সুরা-সাকিতে
পান করি জন্মদিনের মত স্নিগ্ধ-সজ্জিত তীব্র তোমাকেই।
তোমার স্তন রংধনু ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ি চিল, শখের শঙ্খ চিল
তোমার চাবুক
চিবুক বেয়ে
গড়িয়ে গড়িয়ে নামে ফাগুনের গনগনে আগুন, অদিতি গো।

খালি তুচ্ছ তুচ্ছ লাগে

খালি তুচ্ছ তুচ্ছ লাগে
তোমার সাথে কথা বলা শেষে
ব্রিটনি কি ম্যাডোনার গান
অপরা উইনফ্রের অনিন্দ্য উপস্থাপনা।

তোমার ঘুম ঘুম স্বর শ্যাম্পেনে
চুমুক দিয়ে দিয়ে
অনায়াসে উপেক্ষা করি
সিনেমা, থিয়েটার সার্কাস ও টিভি শোর শ্রেষ্ঠত্ব।

শ্রবণে ও মননে খামচে থাকেনা আর
জানালায়
রোদ বালিকার হ্যাগ ও হাসি
তুষারপাতের প্লাবিত সোলস।

সুকন্ঠী,
আট হাজার দুই শত চৌদ্দ মাইল সুদূরে থাকা
তোমার উত্তরাধুনিক স্পর্শবিহীন
আমার হৃদপিন্ডের হাজার ক্ষতস্থানে শুধু
তোমার স্বরের শুশ্রুষা দিও।