আশরাফ হাসানের কবিতা
মানুষের মিছিলে
আমি সাধারণের মধ্যবিত্ত-বোধ তুলে এনেছি
যাপিত দিনের ঠোঁটে
ভাঙা আর্তনাদের মতো নির্ঘুম রাত্রির ঔরসে l
বিবাগী পাখির কান্নার ওম
আমাকে আশৈশব শিখিয়েছে ব্যর্থদের পরিভাষা l
আমি স্বপ্নের চাষা শব্দের অজর প্রেমিকদের
ভাঙাচোরা শব্দের সাথে মিশে যেতে যেতে
কিছু অস্ফুট ফুলের ঘুম ভাঙাতে ভাঙাতে
সাধারণের ভেতর মিশে যাই সন্তর্পনে l
আমি সাধারণ মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস নিতে নিতে
অসাধারণ হয়ে উঠি…
মেঘের রাখাল কিংবা পরিযায়ী বলাকার
ঘামগন্ধ টেনে নিতে নিতে
দুহাতে উড়িয়ে দিই সম্প্রীতির প্রতীতি-পতাকা l
আমার পড়শী হয় শব্দের মজুর
ব্যর্থবর্ণে যারা বাঁধতে চায় হৃদয়সংসার
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুনতে চায় ভালোবাসার মায়াজাল
আমি তাদের সহপাঠী একজন l
বিশ্বাস করো এইসব স্বপ্নের রাজ্যপাট
গরিব নির্মাণশ্রমিক আজন্ম বাক-পরাধীন
বুভুক্ষু প্রেম-নাবিকদের ফেলে
আমি কোথাও যেতে পারবো না
উঠতে পারবো না কোনো অহমিকার স্বর্ণশিখরে l
নৈরাজ্যের সীমানা পেরোনো
কোনো আত্মমগ্ন মানবশিশুর মতো
আমি চিরকাল জেনেছি হতবঞ্চিতরাই আমার শ্রোতা;
কাগজের বুকে নিঃশব্দ কালির দহনের মতো
আমি আরো একবার মিশে যাই মানুষের মিছিলে l
কষ্টের ইশতেহার
নিরাকার কষ্টগুলো ক্রমশ দেহ ধারণ করে l
যারা এতদিন খাজনা না দিয়ে ভোগোন্মাদ
ডুবে গিয়েছিলো নেশার আফিমে
নির্মেদ প্রহরীর মতো তাদের পাহারা দিয়েছিলো
বেলালের মতো বুকচাপা আর্তনাদ
ঝরাপাতার হাওয়ার দাপট লেগেছে
তাদের স্বেচ্ছাচারের রুদ্র-উঠোনে l
না-জাগা ঝড়ো বিক্ষুব্ধতাকে
সামন্তিক আদিম শেকল কিংবা
শাদা চামড়া আর জাত্যাভিমানের জুয়ার
জলসা আটকে রেখেছিলো
শাঁ-শাঁ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস যেনো
তাদের বিকিনি-মেলায় ধেয়ে আসছে আক্রোশে l
দুঃখের আয়তন কিংবা আকার
পরিমাপ করতে নেই
তবে যারা এই আয়তক্ষেত্রকে
নিরেট সীমালঙ্ঘনের বাটখারা দিয়ে মাপতে চায়
তাদের কোম্পানিরাজ্যে
কষ্টগুলো হানা দেয় জানবাজ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে l
নৈর্ব্যক্তিক কষ্টগুলো শারীরিক মাপজোকে ব্যস্ত ভীষণ l
ম্যাগনেটপাওয়ার পাথর
পাথরের পাঠশালায় ভার উত্তোলন শেখানো হয়
পাথর বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা হয়
পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি মহরত দিতে দিতে
রুক্ষ্ণ ভাস্কর্যের মতো ইকোনোমি পলিসির
উপদেষ্টারা রুদ্রবেলায় বৈঠকে বসেন l
পাথর খোয়ারিতে চাকরির চারযুগ
মৃত হিজলের হলুদ পাতাদের সেলিব্রেট করে ;
পাথর বোঝাই করে নিয়ে যায়
মহাজনের ঘরদোর বেঁধে দিতে l
ভাসান নাওয়ে পানির দরে দেদারসে
হীরের মতো চিকচিক নুড়িপাথর বিক্রি হয় l
অনেক পুরোনো পাথর বিদ্যালয়
মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাথর-সঙ্গীত গায়
জলহীন চোখের ঝাঁকঝাঁক শঙ্খচিল ;
নাওগুলো নদীর বুক থেকে ম্যাগনেট
পাওয়ারের শত শত সাহসী পাথর কুড়িয়ে নেয় l