ইলা সূত্রধরের কবিতা
সত্যিই একদিন হারিয়ে যাব
এভাবেই যদি আঘাতের পর আঘাত করতে থাক
তবে একদিন পাথর হয়ে যাব আমি
আমাকে আর চিনতেই পারবেনা
এখনও বুক বেঁধে রাখি তমালের ডালে
নিরুদ্বেগে বয়ে চলেছি যত কালশিটে দাগ
পাড় ঘেঁষে ঘুর ঘুর করে সাদা সারস
সব আলো নিভিয়ে দিয়ে আজও
খুঁজি জোনাকির মৃদু দীপাবলি
এই যে আরও সুন্দর আরও স্মার্ট হচ্ছি প্রতিদিন
আমার সর্বাঙ্গ চকচক করছে তোমার আলোয়
এসবের আকাঙ্ক্ষা ছিল হয়তো কোথাও সুপ্ত
তবুও আমার স্বভিমান চুরি হয়ে গেলে
তোমার ভালোবাসায় দূর্গন্ধ ওঠে
যতই তোমার মুক্ত আকাশে আমার ওড়না উড়ুক
আজও সলাজ আঁচলে গা ঢেকে রাখি
এ আমার স্বর্গভূমির আর্দশ
সবকিছু জেনেও নানান অশ্লীল সাজে
বারবার সাজাও আমাকে
এভাবেই যদি ভুল বুঝে দূরে রাখ
পুরোনো ছেঁড়া ক্যালেন্ডারের মত
তবে সত্যিই একদিন হারিয়ে যাব।
একটু খানি সময় দিও
একটু সময় দিও ওগো দূরের সমুদ্দুর
ঝড়ের দাপট থিতিয়ে যাবে থামবে কলরব
মেঘের চাদর সরিয়ে দেবে সোনালী রোদ্দুর
তোমার জন্য রেখেই দিলাম আগামী উৎসব
গর্জে গর্জে উঠছে প্রহর অগণিত ঢেউ
অভিমানের মিথ্যে সোহাগ বাড়াচ্ছে অসুখ
কে কার কাছে যন্ত্রণা পায় বুঝবে কি তা কেউ
তবুও বাঁধে ঘর পরিবার সংসার সমুখ
কাছে যাওয়ার ইচ্ছে পুষি সমাজ গোলযোগ
স্বপ্নগুলো অটুট রাখো নীরব অভিলাষ
উষ্ণ ছোঁওয়া মেখে দেবে অন্তরে সংযোগ
প্রতীক্ষাতে প্রাপ্তি ঘটায় বসন্ত বিলাশ
একটু খানি সময় দিও যেমন আছো আজ
সেদিন নাহয় ভুলেই যেও গাঢ় প্রলয় ঝড়
হৃদয় জুড়ে ভালোবাসার উদার মহারাজ
বুকের ভেতর সাজাও এসে অন্য সুখচর
নৈসর্গিক ব্যালকনি
পাকদণ্ডী বেয়ে আসে যে মেয়েটি
কলসী মাথায় জল নিয়ে যায় দূরের বস্তিতে
ওর স্বাধীনতা আমার ভিতর নাড়া দিয়ে যাচ্ছে
ডুকরি পিঠে আদিবাসী মহিলারা চলেছে
ধি তাং ধি তাং মাদলের তালে
জনজাতির গান গাইছে চা-বাগানের মহল্লা জুড়ে
এই প্রকৃতির মুক্তির স্বাদে ডুব দিতে চাই
প্রতিদিন নীল আকাশ স্পর্শ করছে বুগিয়াল
বানজারা রমণী মেষপালনের মধ্যে স্বপ্ন বুনছে
সেই যাপনের কাছে একবার নতজানু হয়ে বসি
বাইরে কি সুন্দর বিস্তীর্ণ মখমলি ঘাসের আস্তরণ
তার ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
একদিন হয়তো চলে যাবো পাহাড়তলীর গাঁয়ে
তাইকি পুরুষ তোমার কাঙ্খিত সুখের জন্যে
আন্তিগোনের মতো অনুশাসনে বেঁধেছো আমায়
মমতাময়ী নারীকেই ক্ষমতা দেখাও
তোমার কাছে আর কিচ্ছু চাই না
শুধু একটি ঝুলন্ত বারান্দা চেয়েছি
অর্ধেক রেলিংয়ে নুয়ে পড়বে আমার সোহাগ
সাদা মেঘেরা এসে শরীরকে ছুঁইবে
পাখিরা শিষ দিতে দিতে চলে যাবে
ওই দূর পাহাড়ের কোলে
সবুজ উপত্যকার ঢালে
আলপনা আঁকবে একটি ঝর্ণার নদী
ঠিক তখনই আমি আমাকে খুঁজে পাবো
চিত্রাঙ্গদা হতে চাইনি কোনদিন
কিংবা রাজনন্দিনীও নয়
ভোরের সূর্য ওঠা নাইবা দেখা হলো আর
বন্দীদশা কাটিয়ে মাতঙ্গিনী হলে
কতটা রক্তাত্ব হবে অন্তরমহল
ঝুলি থেকে বিদুরের ক্ষুদটুকু দাও যদি
তোমার ভালোবাসায় একটুও কমবেনা
অথচ এই উদার ও মানবিক হতে গিয়ে
নারীর জীবন আজ অসহায় ভঙ্গুর
দুদন্ড শান্তির জন্য বিকোচ্ছে এ জীবন
তাই তুমি অবলা তকমা সেঁটে দিয়েছো মননে
অপরাহ্নের বলাকারা ভেসে যাচ্ছে দিগন্তে
উড়ন্ত ডানায় মেলে ধরেছে রামধনুর মায়াবী রঙ
ওদেরকে চিৎকার করে বলি
ওগো বেলাশেষের পাখি যাও তুমি চলে যাও
যেটুকু বাকি রইল পরজন্মের অপেক্ষায় রইলাম
আমাকে কোন অলঙ্কারে অলঙ্কৃত করোনা
দামী আভরণও নেই প্রয়োজন
অর্থ কেবলই অনর্থক হয়ে যাচ্ছে
পিতা পুত্র প্রেমিক এসে প্রজন্মের পাহারা দেয়
পরাধীনতার বেড়িটা খুলে দেবে একবার
পারলে একটা নৈসর্গিক ব্যালকনি এনে দিও