অনুপ মণ্ডলের কবিতা

অনুপ মণ্ডলের কবিতা

গর্জন

হাতেপায়ে শব্দের সাড়া।শীর্ষদেশে ভাষ‍্যপাঠের ঘট
পেতলের
ঝকঝকে করে মাজা,ইতিহাস বিমোচিত

ঘটের জলে মাত্র একটাই অবকাশ
একক তারার
ইস্পাত-নীল স্থিরতায়
দুঃখবোধ,মহেঞ্জোদারোর মতো কঠিন

জলে মৃদু কম্পন,মোটেই জটিল ছিল না

গন্তব‍্যের বোধগম‍্যতায় প্রাচীন অতি
প্রস্তরীভূত লবণাগার
লবণলিখিত আত্মকথায় নদীর অবিসংবাদী গর্জন

মহাসাগরিক

ঢেউ এবং সমুদ্রের মধ‍্যে কোনও তফাৎ নেই

সামনে সহজ সমীকরণ,ভাঙা দরজা
ঈষৎ ফাঁক হয়ে দাঁড়িয়ে

উঁকি দিয়ে দেখেছি
পেছনে কোনও ঘর নেই
দোতলায় ওঠবার সিঁড়ি নেই
মৃদু ঠেললেই খুলে পড়বে নৌকোর ইহলোক
যেখান থেকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
পড়ে যাওয়ার মধ‍্যে কোনও বিরাম চিহ্ন নেই

ঈষৎ ফাঁকটুকুই
আমার দুঃখে পরমতত্ত্বের সম্ভাবনা নির্দেশ করছে

দুধ

শ‍্যাওলার নীচে প্রত্ন শিলালিপি।অশোক+পারমিতা
কিছুদিন অন্তর অন্তর
একটা করে নুড়িপাথর গড়িয়ে যায়

গাছেরা স্তন খুলে ঝুঁকে আসে
পার্কের বেঞ্চে
মরা ইঁদুর ফেলে রেখে চলে গেছে কেউ

দুধের বাজারে
পাখিরা বেশি বেশি নিরিবিলি দাবী করছে
দুধ কী জিনিস কী করে জানবে
বাচ্চা কেঁদে উঠলে
ময়নামাসি একটা একটা করে বোতাম খোলে

দুধবাজারে কাউকে আমি মা বলে ডাকতে শুনিনি

মোরগ

অন্ধকারে অন্ধকারে ত্রিমাত্রিক শব্দ মসৃণ হয়ে ওঠে

উল্টোদিকে একটা দুমুখখোলা পাতি সংসার
১০২°জ্বর
ল‍্যাম্পপোস্টে ল‍্যাম্পপোস্টে কাত হয়ে ঝুলছে
ক্লিনিক‍্যাল থার্মোমিটার
বিজ্ঞাপনের ফারেনহাইট মেয়ে

মাঝের রাস্তাটাকে আমরা সংকটকাল বলি
একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা একটু লব্ধকাম

হাওয়ার ভালো আছে হাওয়ার মন্দও হয়
আবহাওয়া দপ্তরের সদর দরজা বন্ধ হয়ে গেলে
যে কোন দিকেই মুখ করে মোরগ ডেকে উঠতে পারে

গাছ

গাছের মন খারাপ।ছায়ায় ভ‍্যাপসা ভ‍্যাপসা গন্ধ
আজ একটাও পাখি নেই
পাতায় পাতায় অক্ষর বসত করে
ঠোঁটফেরৎ চিঠিটা
মগডালে লাজুক হয়ে আটকে গেছে

কথামত আমি সঠিক গাছের নিচে

মোবাইল টিপেটিপে ঘড়ি দেখছি
ঝরাপালক
গান বাজাচ্ছে মিহি সুরে।রোশনি বাঈয়ের
পায়ের পায়েল
কাঁধের ওপর ঝুঁকে পড়ে গাছ পড়ে নিচ্ছে আমাকে