আশরাফ হাসানের কবিতা
খুলে দাও দুয়ার নিসর্গনৃপতির
যদি পারো
রোদের মলাট খুলে দেখে নাও ভোরের রঙ
রাতজাগা চাঁদকে পাঠ করো প্রেমের বর্ণমালায়
বৃষ্টির দরোজায় কান পেতে শোনো ফসলের কান্না l
যদি পারো
স্মৃতির ভাঁজ খুলে ঘ্রাণ নাও বেদনার
বিবমিষায় বিষাক্ত করেছিল যারা জলজোছনা
নৃনন্দনে জেগেছিলো আকন্ঠ প্রাণতৃষ্ণা l
যদি পারো
আরেকবার ঘুরে এসো ঘুমিয়ে যাওয়া গ্রাম
দোয়েলের কণ্ঠ থেকে তুলে আনো সুরের বিতান
বুকের নিঃশ্বাস ঢালো আকাশের নীলে l
যদি পারো
আরেকটি স্লোগানে মুখরিত করো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
প্রেমিকার নিঃশ্বাসের মতো —
বিমুক্ত বাতাসে বদলে দাও নগরদূষণ
পোড়ে যাওয়া ঘাসের হৃদয় ;
যদি পারো
তবে খুলে দাও সবক’টি দুয়ার নিসর্গনৃপতির !
আগুনের জাতপ্রথা
আগুনেরও নাকি জাতপ্রথা আছে
জলের জাত যে দেখেনি কোনোদিন
রক্তলোলুপ অগ্নিজিহ্বায় তার
গ’লে যায় বোধ ও ভালোবাসার তরজমা l
তিনহাত মাটির ঘরে যে অর্বাচীন
দেদারসে পুড়ায় নিম্নবর্ণ নিম্নকণ্ঠ
দ্রাবিড় ভেঙে তৈরী করে রাইওত প্রজাপ্রদূষ l
মূলত মৌরুসি শ্বেতহস্তে নীলকর শিকার
এটা নাকি পলাশের তৃতীয় রঙ
তোমাকে অনুবাদ করতে যেয়ে
আমি আবিষ্কার করি
আগুনের মাদক-পা ও পায়ের উলঙ্গ দাহশিল্প !
অবরুদ্ধ মেঘ ও পৃথিবীর পোট্রেট
লিখে যাই আত্মসুখে l প্রতিযোগ কিম্বা অনুযোগের নার্সিসাস পতঙ্গ নেই l তারকাঝলকানির দেমাগ থেকে বেরিয়ে গেছে প্রত্যাশার পুরোনো খোয়াব l সেই কবে গ্যাছে…
স্পাইডার জালের মতো আকাশে ঝুলে আছে অবরুদ্ধ মেঘ ও বৃষ্টিজানালা l গাঙের গতর থেকে উদ্গীরিত হচ্ছে বাষ্পপ্রদাহ– যেনো তড়পাচ্ছে বড়শিলাগা মাছ l ঢেউয়ের শরীর ক্লান্ত হতে হতে ভুলে যায় লিরিকের গল্প l পৃথিবীর পোট্রেট থেকে হারিয়ে যায় স্বপ্নচাষি– এমনকি মোনালিসার মতো হাসি-কান্নার শেষ ঝিলিকটিও l