অহনা নাসরিনের কবিতা
বিশ্বাসের ঠিকানা
পুরো আকাশ কিনতে চেযেছিলাম, যৎসামান্য বায়না ও করেছিলাম
নক্ষত্ররা তুমুল হল্লা জুড়ে দিলো,
ফিরে এসেছি সমুদ্রে; ভাবলাম মন্দ কি! নোনা জলের জলকেলি,
ঝিনুকের দল বসালো তুমুল অনশন
হনহন করে ছুটে গেলাম কাশবন,
বেদখল বহু আগে; ভাবলাম যাই অরণ্যে
বৃক্ষের ছায়া পেলে মন্দ কী!
হরিণ শাবক বললো- ফিরে যাও
অরণ্য তোমার নয়; সমুদ্র তোমার নয়;
আকাশ-বৃক্ষ ওসব কিছু ই তোমার নয়
মাটির বুকে খোঁজ, পাবে বিশ্বাসের ঠিকানা।
মাটির কলস
কুষ্ঠরোদে পোড়ে যাচ্ছে অন্তর,
ওষ্ঠযুগল তোমার তৃষ্ণায় শীতল পানীয়জল
তুমি ছাড়া তৃষ্ণা মিটে না,
খাঁ খাঁ মরুভূমি তাতে বর্ষার মেঘ হয়ে আসো
দাবানলে গোলাপ ফোটাব
তোমায় অমৃত দিয়ে সংসারের সমস্ত বিষ
শুষে নেব।
চাঁদের ঘরে মাটির কলস হয়ে এসো।
আবীর হবে
বসন্ত এলে উতল হওয়ায় মন কেন দোলে?
কোকিল বলে- এই যে তুমি উতলা বলতে চাও কথা
প্রাণ খোলে;
বসন্ত কি এসে গেছে?
কৈলাস থেকে মা আসছে বাবার বাড়ি বেড়াতে
কাশবনে যুগল বক ওড়াউড়ি খেলে,
শালিক পায়ে পায়ে হাঁটে
শিউলি ফুলে থালা সাজিয়ে মন্ডপে মন্ডপে
এ পাড়ার ওপাড়ার দিদিরা, মাসিরা
লাল পাড়ে শাড়ি পরে আমিও আসবো দশমীতে
রঙধনুর সাত রঙে রাঙাতে চাই নীল আকাশ
তুমি আবীর হবে?
ধ্রুপদী গান
গোলাপ কখনো সুধায়নি কেন তাকে ভালোবাসি?
পাহাড় জানতে চায়নি তার বুকে কি সুখ খুঁজি?
সমুদ্র জানতে চায়নি কেন নোনা জলে স্নান করি?
আজ তুমি জানতে চাইলে- কেন ভালোবাসি?
তুমি তো হতে পারতে-
রক্ত গোলাপ। আমার খোঁপায় গুজে নিতাম
হতে পারতে পাহাড়। বুকে মাথা রাখতাম
হতে পারতে পূর্ণিমার চাঁদ। চেয়ে চেয়ে দেখতাম।
বলছি না প্রেমিক হও;
বলছি না আমি,, “ভালোবাসো”, শুধু বলছি-
কিছু কষ্ট মনে দাও; কিছু দুঃখ হৃদয়ে দাও
কিছু পাওয়ার আনন্দে মন নেচে উঠুক
কিছু পেয়ে কিন্নরীর হৃদয় গেয়ে উঠুক ধ্রুপদী গান।