সুতপা ব‍্যানার্জী রায়ের কবিতা

সুতপা ব‍্যানার্জী রায়ের কবিতা

অবাক পৃথিবী

কুলুপের তুলে রাখা প্রাণে পাবে কি বাতাসের ঘ্রাণ,
জানলায়,ঘুলঘুলির রোদে, সিক্ত হবে রয়ে যাওয়া প্রাণ,
ক্ষয়ে যাওয়া প্রাণের কোন বার্তা পৃথিবীতে ছড়াবে না,
ছড়াবে রক্তলোলুপের চাহনিতে জেগে থাকা কান্না
রক্তের বাদলে লাগবে মরণদোলা, সমর্পণের বাণী,
যুগ যুগ ধরে একপেশে, চিরকেলে, উল্টোটাও মানি,
পাথরের মর্মরে, ইতিহাসে মাথা কুটে জেগে আছে,
খোলা বাতাস লাগিয়ে দিই ইচ্ছের প্রাণে, যাই কাছে,
স্পষ্ট দেখতে পাই অধরা ছায়ামূর্ত্তিদের আনাগোনা,
নতুন কালে, নতুন বেশে আজো আছে, যায় শোনা,
রোদ লাগা প্রাণে কবে জাগবে বদলে যাওয়ার কথা,
প্রত‍্যাশার গলুই ছাইতে যাব মেঘরঙা নদী আছে যেথা,
বাধার প্রাচীর ভেঙে বা টপকে এ আমার অনন্ত জিজ্ঞাসা,
প্রতীক্ষায় আছি, শিবিরে জেগে থাকা অদেখার আশা,
ডুবুরীর ছেনে নেওয়া মুক্তোরা উল্লাসে পাখা মেলবে,
ভাবের ঘরে চুরি করা বন্ধ হলে, নিশ্চয়ই তা হবে,
চোখেতে দূরবীন লাগিয়ে খুঁজে ফিরি সেই সে দিনটি,
বীরাঙ্গনার বন্দনার আড়ালে ধর্ষিতার দুর্বিপাকের ক্ষণটি
মিটবে নিশ্চয়ই, আরো অনেক প্রতিবাদীর ঘামে ভিজে,
মোমবাতির নরম আলোয় নয়, জারানো সূর্যের তেজে।

ডাক

উনবিংশের শতাব্দীর কীর্তিমানেরা
হেঁটে যায় জীবন সীমানার
দড়ি হাতড়ে, উঁকি মারি আমরা,
ছেনে নিই ওদের গর্ব গাথা,
তাতেই খুশি, কি রেখে যাব
একবিংশের শেষে,কোন গ্রহ রত্ন?
আছে শুধু তারকার মেলা-
অনুকরণীয় চরিত্ররা প্রাচীন থেকে প্রাচীনতর,
আগামীর লিপির খোদানো সারিতে
একবিংশের কোন ঘরছাড়া খ‍্যাপা নেই,
যে ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিনব চিন্তার প্রকাশে,
দর্শন, ভাবুকতা এখন বিলাস মাত্র,
সৃষ্টির আদির উন্মাদনা ডেবিট কার্ডে বন্দী,
অধরা জীবাণুরা তাই খ‍্যাপার নাচনে মেতে,
ব‍্যতিক্রমী চাওয়ারা বর্জিত, না চাওয়ার সারিতে,
হাঁক দিয়ে যাই অবেলার ডাকে-
আয় রে খ‍্যাপা, আধমড়াদের ঘা মারার
স্পর্ধা নিয়ে, দুরন্তের সাধনায়,
অভাবীর বেদনার রাঙা লিপি হয়ে
বেঁচে থাক, কালের গর্ভে লীন হওয়ার
একটা,-একটা সুস্পষ্ট পদচিহ্নের প্রত‍্যাশা।

বিশ্বাস

বিশ্বাসের ভিতটা নাড়িয়ে দিতে পারে অবিশ্বাসের ঘোর,
দারিদ্রের গহনে যার বাস, এর ওর কানাকানিতে ধন ওর,
ফলত উল্টোচিত্রের প্রতিচ্ছবিতে হাহাকারের বঞ্চনা বাড়ে,
জীবনের দীর্ঘশ্বাসেরা বেড়ে বেড়ে ঢাকে প্রতিদিনের ধারে,
ওদিকে ধনীর আবাসে যোজনার মূর্ছনা দ্রুত ধরা পড়ে,
কানাকানিতে হয়েছে দরিদ্র সে ভীষণ অতএব ত্রাণ ঘরে,
এই দিনলিপির শেষ এখানেই নয়,দাতা হতে পারে কৃপণ,
কৃপণের বাঁধানো নেমপ্লেটে ঝুলতে পারে দাতার ব‍্যাকরণ,
ছবির ফিকিরে দাতার দানের ঔদার্য বাড়ে যে আরে,
নিঃশব্দ চারণে তোমার অস্ফুট শব্দেরা খাটো বহরে,
গোমড়া মুখের আমলারা বাড়াতে পারে ভার জীবনের,
খোলা হাসির দায়িত্বেরা সংক্ষিপ্ত দোলনায় অবহেলার,
দুকলম লিখতে পারাটা হতে পারে মারাত্মক উপহাসের,
যদি না থাকে ঝলমলে আলো অবিরত, নিখুঁত প্রচারের,
কানাকানির ফাঁক গলার উল্টো জীবনও আছে প্রচ্ছন্নে,
যেখানে ভালবাসার রোদ্দুররা থাকে স্পর্শের শরণে,
হাত না ছাড়া ভরসার শকটে মসৃণ যাত্রাপথের অস্তিত্ব,
কথার পিঠে কথা বলার সতর্কতাহীন আনন্দের রাজত্ব,
তাই তো পুবের আকাশে উদিত সূর্যের থাকে আহ্বান
আবার দিনশেষে অস্তরাগের শান্তির কোমলতার গান।