জাহ্নবী জাইমার কবিতা
গীত বিতান
মৃত্যু আঘাতে মরতে মরতে
খড়কুটো হয়ে ঝঞ্ঝাবর্তে
ঘূন্যমান,
তবু যে খেলছি ভোঁ ভোঁ কানামাছি,
জেনেও দাড়িয়ে অতি কাছাকাছি
দিনাবসান,
এত যে দেখছি চুপিসার ঘুন,
এখানে ওখানে দ্রোহের আগুন
বহ্নিমান ,
প্রতিটি প্রহারে ক্ষত বিক্ষত
এই যে আমার ভীষ্মের মতো
শর শয়ান ,
তৃষ্ণার জল ক্ষিদের অন্ন ,
মাথা উচু করে রাখার জন্য
যে উপাদান-
সেদিনও যেমন , এখন ও সমানে
নিপুন অমোঘ শর সন্ধানে তুনীর
যিনি জোগান ,
জানি, ভরা তাঁর অশেষ তুনীর
তাই নিয়ে ফিরে তীর থেকে তীর
দৈবী যান ।
কীর্তি বোঝাই সে যে নৌকো
আমি শুধু বেছে নিয়েছি চৌকো
সোনার ধান ;
প্রতি তারে বাঁধা জীবনের বোধ,
ঘাতে প্রতি ঘাতে বাঁচার রসদ
গীতবিতান।
অমৃতকথা
আজ আমার এখানে আসার কথা নয়
তবু এসেছি,
পায়ের নিচে শ্যাওলা রোদ নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছি ডালপালাহীন
মৃত গাছের মতো।
সমুদ্রে যে পাখিরা খেলতে গেছে
তাদের অপেক্ষায় বসে আসি
অতলান্তিক দূরে…
ছেলে বেলায় মেঘ দিয়ে বাবার মুখ আঁকতাম,
আর বৃষ্টি হলেই ভেসে যেত সেই সব আনাড়ি ছবি।
তোমার মুখ আর মনে পড়ে না।
বহু শৈশব কৈশোর ফুরিয়ে যাওয়া…
অশীতিপর শাস্ত্রের মহাজনবৃন্দ
আমাকে ফেলে গেছে।
এক
স্মৃতিজীবি
সন্ততিহীন।