আদনান সহিদের কবিতা
অবিশ্বস্ত হাত
হাত দু’টি আজ
আমার কাছে সবচে বেশি
অবিশ্বস্ত,সন্দেহজনক!
ঠিক যেমনটি ঈশপের গল্পে-
হরিণটি তার
নোংরা,অকর্মণ্য পা দুটিকে ঘৃণা করত।
অবশ্য-
বাঘের থাবা থেকে দৌড়িয়ে বাঁচার আগ অবধি।
অথচ-
এই ক্ষুদ্রকণিকা সংক্রমণের
মাত্র কিছুদিন আগেও
হাত দুটি ছিল
আমার সবচেয়ে
বিশ্বস্ত সুহৃদ,প্রধান সহচর।
হরিণটি তার সুশোভিত শিংগুলোকে
নোংরা পায়ের চেয়ে প্রাধান্য দিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত যদিও
তার শিঙগুলোই লতায় আটকে
বাঘের নাগালে চলে এসেছিল সে।
কী অদ্ভূত!
আজ হাত দুটিই যুগপৎ
আমার শিং ও পা!
বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দোলাচলে ছুটছে
বাঘরূপী নাক,মুখ ও কানের
সংস্পর্শ এড়াতে!
মন-শূন্য-সমীক্ষণ
(সাগর সঙ্গমে
সাঁতার কেটেছি কত
কখনোতো হই নাই ক্লান্ত
তথাপি মনের মোর প্রশান্ত সাগরের
উর্মিমালা অশান্ত…
-ভূপেন হাজারিকা)
কাটা মুরগীর মতো ছটফটে এ প্রাণ আর-
মায়ের জঠরে পরিপক্ক যে ভ্রুণ
চোখ খোলেনি দুনিয়ায়,
মা-ই জানে তার টান।
আমার কী?
তবু তার মানে জানতে গিয়েছি
হাজার বার বিব্রত হয়েছি
জন্ম নাকি এর নাম!
আর বেঁচে থাকা?
কাটা মুরগীটিই মাত্র বুঝতে পারলো তা।
আমার কী?
তবু এর মানে জানতে গিয়েছি
হাজার বার অশান্ত হয়েছি!
একটুকু থামে নি প্রাণ
যেনো-
মায়ের ভ্রুণ,কাটা মুরগীর জান।
আমার কী?
আমার শুধু-
সাগর সঙ্গম,অক্লান্ত মন,অশান্ত উর্মিমালা!
তোমার কী?
আপনার কী?
তোর কী?
একাকিত্ব
কতোটা একা তুমি বলো আমায়।
এক ঘরে একা তাই নির্জন বাস?
শিমুল ফুলে মধুপোকা?শোষণের নির্যাস?
স্মৃতিগুলো হাতড়ে কেঁদে বেড়ায়?
মৌনপুরীর দেয়ালে সেঁটে দাঁড়ায়?
বলো …বলো…
হঠাৎ কি একাকী রক্তকরবী ফুটে ওঠে?
নন্দিনীসম ব্যথা তাই হৃদয় করপুটে?
শোনো …শোনো…
একা একা বহুল যায় না থাকা ‘একা’
তখন ভেবে মরো যারে সে এসে দেয় দেখা!
সবার মাঝেই বরং কিঞ্ছিৎ একা থাকো তুমি
জাগিয়ে তুলে বুকে এক বিরান দীর্ঘ ভূমি!