ফকির ইলিয়াসের কবিতা
যান্ত্রিক পদাবলি
১
ছাতার মতো অনেকগুলো ফাঙ্গাস গজিয়ে উঠলো
আমার চারিপাশে।এগুলো ধ্বংস করে দিল আমাদের
নখ,ত্বক,আঙুল।আমরা এন্টিসেফটিক ব্যবহার করেও
পরিত্রাণ পেলাম না এই মহামারী থেকে।পচে যাওয়া
দেহ’কে সঙ্গী করেই দৌড়ুতে থাকলাম।আমাদের পিছু
পিছু অনুসরণ করলো কয়েকটি কুনোব্যাঙ।
২
মানুষেরা সবসময় মানুষের সঙ্গী হয় না। সঙ্গী হয়
দানব,দৈত্য,দুর্বিপাক।সঙ্গী হয়,আষাঢ়ি ভাঙন।ভেদকথা
না জেনে যারা সমুদ্র সিঞ্চন করতে যায়,তারা ফিরে-
কীভাবে ফিরে; তা নিয়েও লেখা হয় ট্রাজেডিক উপাখ্যান
গল্পগুলো কেউ পড়ে।কেউ না পড়েই ঝাঁপ দেয় আবারও
সাগরে। সাগরই মহান- তার মহানুভবতার কোনো তুলনা
নেই, বলতে বলতে আরেকটি জাহাজ ডুবে সেই সমুদ্রেই।
৩
অপাত্রে অন্নদান করাটাই একটা অপরাধ। অন্ন দাও
অনাহারী’কে বলে যে সাধু এই বনেই হারিয়ে গিয়েছিলেন,
আমি তার পদছাপ খুঁজতে খুঁজতে এই ঘাটে আসি প্রতিদিন।
একটি খালি কলসি ভেসে যায়।ভেসে যায় নীল রঙের
একটুকরো কাপড়। অর্ধেক পচে যাওয়া ফুলগুলো আর দেখতে
চায় না কেউ! মানুষেরা আজকাল আর ফুলের অস্তিত্ব স্বীকার
করেনা। করতে চায় না।
৪
যা রেখে যাবো,তার নাম ঘৃণা। যা রেখে যাবো তার নাম
ধিক্কার। উপদ্রুত উপকূলে ডুবে থাকা রিলিফ প্রত্যাশী একদল
মানুষ যেভাবে রাখে তাদের ভাঙা বাহু এই মাটির উপর-
ঠিক তেমনি রেখে যাবো মৃত কোলাহল। যে ডাক কেউ
শুনে’নি কখনও; তাদের প্রতি অভিযোগ না রেখেই সমাপ্ত
করে দেব এই যান্ত্রিক ভ্রমণ। জানি,অনেক ভ্রমণকাহিনি’ই
লিখিত থাকে বৃক্ষের পাতায় আর সমুদ্রপৃষ্ঠায়।
৫
অভিযোগ অনেক কিছু নিয়েই করতে নেই।কিছু কিছু
পাপ আছে- যা মোচন হয় না।কিছু কিছু দাগ আছে,
যা মুছে যায় না কোনোদিন। কিছু কিছু মৃত্যু আছে
যা কাম্য হয়ে ওঠে। কত মানুষ অকালে চলে যায় আর
কত অমানুষ বেঁচে থেকে গৃহপালিত চোরের মাথায় তেল
দেয়, পকেটমার আর খুনিদের বশ্য বানিয়ে দেখায় খেল।
লাগ ভেলকি লাগ, বানরনৃত্যে মেতে উঠে শহর।বুড়োলোক
তালিয়া লাগাতে লাগাতে ললিপপ মুখে দিয়ে দিবানিদ্রা যায়।