মোহাম্মদ আন্ওয়ারুল কবীরের কবিতা
ভালোবাসার পরশে
যৌনকর্মীর কাছে শুধু ছলাকলা নয়, ভালোবাসার পরশও পেতে পারো –
প্রাচীনবৃক্ষ কীরা কেটে সেদিন বলেছিল, ‘ভূমিতেই শুয়ে থাকে ভালোবাসা,
তোমার ভূমি তুমি খুঁজে নাও’
অপাপবিদ্ধ বৃক্ষরা ভুল বকে না – ভূমি আর নারী, নারী আর ভূমি মিশে একাকার
রেড-জোনে রমণীর সাথে শুয়ে আমি ভালোবাসার চোখে আলো ফেলেছি
তাসের ঘরে
আমার নিজস্ব বলে কিছু নেই, আমিও আমার না
অথচ তুমি এলেই তাসের ঘরে ঢুকে পড়ে ঘূর্ণিবায়ু
ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে ভাবনার লজিক –
দখলিসত্বে চেয়ে চেয়ে আমি তোমাকেই দেখি
কনফেসনজ
দক্ষিণেশ্বরের সন্ন্যাসী বুড়োটার কথামৃত,
‘শুধু আমি, আমি, আমি … আমিটা ছাড় এবার,
অমৃতের স্বাদ পাবি’
ঢেউয়ের পর ঢেউ ভেঙে গেছে,
অস্তাচলে আমার আকাশ
ইগোর আরশে আজো বসে আছি
গরলে ঠোঁট রেখেই ভাঙ্গছি সময় …
গুরু, ধৃষ্টতা ক্ষমা করো, তোমাকেই শোনাই-
অমৃতের স্বাদ পেয়ে গেলে জীবন থেমে যায়
ভালোবাসার ব্যাকরণ
ভালোবাসার ব্যাকরণ বুঝো তুমি?
এসো, বর্ণপরিচয় দিয়ে শুরু করি … “
বলতে বলতেই ঠোঁটটা এগিয়ে আনে সে
তখন আমার কৈশোর, সেই আমার প্রথম
আমাকে যুগলভাসানের দিশা দিয়ে যে নারী হারিয়ে গেছে, ইচ্ছে হয় আজ তাকে বলি, “ভালোবাসার কোন ব্যাকরণ নেই, নিপাতনে সিদ্ধ ঈশ্বর আদৌ কি কিছু মানে? ঈশ্বর নিজেই জানে না কোন পথে হাঁটবে সে।”
নপুংসক
লাঙ্গল ফেলে দিয়ে একদিন কেরানী হয়ে যায় আমাদের পূর্বপুরুষ
আমরা ভুলে যাই ভূমিমায়া, ভূমিও সরে যেতে থাকে দূর হতে দূরে
অতঃপর সবুজ জমিনে নেমে আসে নাগরিক অন্ধকার –
সুলতানের সুঠাম পুরুষ নপুংসক হয়ে সেলাম ঠুকে দানবের পদতলে