এবাদুল হকের কবিতা

এবাদুল হকের কবিতা

অপার্থিব রোষ

বাসনারা কাছে এসো,বসো একটুক্ষণ
বাতাস লেবুর গন্ধ মেখে বেরিয়েছে নগর ভ্রমণে
যদি জোটে ধনপতি, সরেস খদ্দের, অপ্রসর রুমালের সুগন্ধি আশ্রয়ে
কাটে তার সান্ধ‍্যকাল আর কোন অপরিচিত রাত্রির ভোজনে
আর এক উজ্জ্বল বাতাস বেরিয়ে আসে হাসপাতাল থেকে
নার্সের সিরিঞ্জ ভেঙে ড্যাটলের গন্ধে ভরপুর
বিকেলের রেস্টুরেন্টে সঙ্গ চায় ভুলে যাওয়া অতীত সঙ্গীর
একান্ত আপন মনে ফিরে আসে দূররৌদ্রে ডুবন্ত দুপুর।

বাসনারা কাছে এসো,দুজনেই আমাকে বিস্তর
দিয়েছে অতৃপ্ত সুখ চোখ মেলে অনন্ত সত্বর
চলে গেছে স্মিত হেসে আমি বসে ক্লান্তির কিনারে
কোটের পকেট থেকে বের করে কামুক খরগোশ
ছেড়ে দিই জনারণ‍্যে শতচ্ছিন্ন হৃদয়ের ঘাসে
সরোদের প্রগাঢ় মন্থনে যেন বেজে ওঠে অপার্থিব রোষ।

ঋণ

আমার হৃদয়খানি রাখতে চেয়েছিলাম
কোনো এক অপরাহ্নের কাছে,
মানুষ যেভাবে ঋণ করে সে ভঙিমায়
বিনম্র অথচ উদ্ধত লজ্জিত অহংকারী অনায়াস দ্বিধায় ;
দুই শব্দের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাকে আমি কী বলেছিলাম
আজ আর মনে পড়ে না, সব গিয়েছে মুছে
সমস্ত জল যেখানে এসে মেশে সেই সমুদ্রের গর্জনে।

আমি শুনতে পাই এক অশ্রুত মিশ্রণের ধ্বনি
কী এসে যায় যদি নাই থাকে তার মনে
যদি নাইবা হয় যাওয়া সূর্য ডোবার কাছাকাছি।

অনুভবের আগুন

দিনশেষে যদি দেখ স্বপ্নের ভেতর রক্তপাত
চিলেকোঠায় সূর্য অস্ত গেল অথচ রাত্রির মুখ ঢাকা
তাহলে নিশ্চিত জেনো তোমাকে খুঁজছে কেউ
অথবা প্রতীক্ষারত তুমি, বসে আছো স্মৃতির জঙ্গলে
ক্রমশ তোমার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে, ফিরে আসছে অনুভবে
স্পর্শের গভীর থেকে উঠে আসছে আরেক মানুষ।

যদিও অন্ধকারে পা রাখার জায়গা খুঁজে খুঁজে
পায়ের কথাই ভুলে গেছ, ভুলে গেছ ক্লান্তি ও হতাশা
রাত্রির সংগমরত নদী ঢেলে দিচ্ছে বিষজল
চতুর্দিকে সময়ের ভুক্তাবশেষ, মাকড়সার মত মৃত্যুসুখ।

দিনশেষে যদি দেখ করোটির ভেতর সূর্য ডুবছে
অদৃশ্য শিশির হিমে নিভে যাচ্ছে চিরব্রতী আগুন
প্রার্থনা করো, বুকে যে সামান্য তাপ ছিল
প্রলয় চিৎকারেও তার কোনো গান বন্ধ থাকেনি।