তৈমুর খানের কবিতা

মাছরাঙা বিকেল
আমার মাছরাঙা বিকেলটির কথা কাউকে বলিনি
রোদের নৌকায় ভেসেছি তীব্র জলে
স্রোত ছিল, স্রোতে এক কাহিনিও…
ভিরু দিন, মুখ ঢেকে এসেছিল কাছে
তার হাতে স্বপ্নমুকুল দিয়েছি সঁপে
কণ্ঠে জড়িয়ে গানের লতা
প্রাচীন মমির যুগ থেকে তুলে আনা উপমার ফুল
সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে দুই হাত মেলে ডাকা…
যদিও ভাষায় তত স্বয়ংক্রিয়তা ছিল না
যদিও রোদের পায়ে নূপুর ছিল না
বোধের ঝনাৎকার থেকে কিছু বিশ্বাস পেয়ে
ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সদর্থক ক্রিয়া
সেই বিকেলের মূর্খরা শোনো
তপস্যা ভঙ্গ হয়ে গেলে
আবার ফিরল পৃথিবীতে আদিম দেবতার দল
আর নষ্ট কারমাইকেলে তাদের চাউনির নীল পরোয়ানা
মিলল রমণীদের ঘরে প্রবেশের
সঙ্গম প্রবহমান হল পৃথিবীতে
কোথাও দেখি না হৃদয়
তোমার ভ্রমর কত দূর যায় ?
ডানার কম্পনে বসন্তের চিঠি
ঘুমঘোর স্বপ্নের উদয়
নির্বাসিত এইখানে ভাঙা সংসার
কচ্ছপের মতো দিন কাটে
নিজেরই গর্তের সীমানায় চেয়ে রই
সভ্যতার ইঁটগুলি একে একে খসে
ধ্বংসস্তূপ থেকে আলোর কন্যারা বেরিয়ে আসে
অসামান্য তাদের প্রতিভা —
প্রতিভা কি হৃদয় ধারণ করে ?
কোথাও দেখি না হৃদয়
সৈনিকের সতর্ক বাঁশি বাজে
লংমার্চ শুরু হয় যুদ্ধের মহড়ায়
নাম লেখাচ্ছি
নাম লেখাচ্ছি তোমার কাছে।
ও বিষাদ, আলো নেই আমার।
রাস্তা নেই । বাতিল জীবন।
ভাঙা দুর্গের এককোণে পড়ে আছি।
স্বপ্নবারুদ পুড়ছে আর পোড়া গন্ধ
নাচছে এসে।
ঘুম নেই। ঘুমের দেশে তীব্র জাগরণ।
একটু একটু বেহুঁশ সময় ধুলো উড়িয়ে চলে যাচ্ছে।
ও বিষাদ , হাত ধরো। তোমার ছায়ায় নিরবচ্ছিন্ন
সিঁড়ি খুঁজে উঠতে চাইছি। চাঁদ দেখব। চাঁদের আলোর মুহূর্ত…
কম্পন
কম্পন জেগে উঠল
বৃহৎ নিসর্গ পথে কম্পনের পাখি উড়ে গেল
বিপন্ন শুয়ে থাকার সময়
এক একবার রাত্রির মোহ
কথা বলে
জ্যোৎস্নার রহস্যপথে কথাদের যাতায়াত দেখি