অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

মনে আগুন

এদিকে দিন কেটে যায় অসতর্কে, খানিকটা হয়তো
ভাবনাহীন দিশা। বাইরে থেকে সহনশীল,
নিখাঁজ চাদর পাতা, টানটান আস্তরণ তার,
অথচ এই শ্যাওলা, নীল অ্যালজির নিচে থাকে
এক বিষণ্ণ মাছ, ডুবে ডুবে ঘুরপাক,
পানাপুকুর জুড়ে এক নিমগ্ন সন্ন্যাসী।
এও এক ধরণের মুগ্ধতা।
তবে সে আর জাদুমুগ্ধ নয়, খানিকটা বিচক্ষণও।
দিন কেটে যায় অসতর্কে।
বেদনার অভিযান কিন্তু থেমে থাকে না, নিরলস তারা,
পুরনো ভুল থেকে শুধরে নেয় দাবি, কঠোর করে হামলা,
আরো প্রতিজ্ঞা, আরো কেড়ে নেবে দানাপানি, আনন্দের,
জলের সম্পদ, খনিজ রত্ন –
এদিকে আমি নিরুপায়, আমি হাত পা বাঁধা ভীরু, আমি
মীমাংসা জানি না সঙ্কটের,
কী করি আমি কী করি …

পাতা ঝরে, ঝরতেই থাকে

পাতা ঝরে, ঝরতেই থাকে আজ সকালে
উঠোনে জড়ো হয়, বাগানে, যেন হঠাৎ একটা
চমক পেয়েছে তারা, একটা প্রতিশ্রুতি,
যেন পতনকে কেউ ইনফ্লুয়েন্স করেছে
টিকটকে বা ইনস্টাগ্রামে,
অথবা একটা আশ্বাস যে ভরে যাবে পাঁজর
শীতটা একবার কেটে গেলেই। জয় আসবে দ্রুত, চিরন্তন
সবুজ শিরা ছড়াবে তালুকজুড়ে,
অথবা টানেল দিয়ে বসন্ত হঠাৎ,
সেও এক অবিভক্ত চমক। আমি সঙ্গী হই নাটকের,
মনে মনে ঝরাই জেদ, ধ্রুপদী অভিমান,
শ্লেট পরিষ্কার করে একটা নম্র ছদ্মবেশ। অল্পক্ষণের শান্তি এতে,
তাই নিরুপায় দাঁড়ায় আমার কারসাজি,
কারণ ঝরা একটা সম্পদ, ক্ষমাও,
অথচ তাতে আর যায় আসে না বিশেষ কারুর।
দুর্বিপাকে এ যেন কেমন একটা মানসিক শান্তি।

ফেরা

ফিরতে চাইলে বলে আমাকে সন্ধি করতে হয়
অথচ আসলেই কোনো যুদ্ধ ছিল না আমাদের
শুধুই একতরফা কলসীভাঙার শব্দ, জল গড়িয়ে যায়।
ভাগ্যের সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তি। এটুকু আমিও বুঝি,
ফেরা শব্দের ঝিঞ্ঝোটি রাগ যে বুঝেছি তা নয়,
আজও ঝাপসা লাগে ধুন, অথচ, জানো তো, একটা
লম্বা আকর্ষণ আছে এই মায়াবিনী শব্দটার,
ফেরা শব্দের আস্থায়।
ফিরে আসবে তুমি, অলস উচ্চারণে নয়,
নয় দর্পী বা লোকদেখানো আস্ফালন, শুধু ফেরা,
তার একান্ত, বলবান শ্বাস –
এ পর্বতে এখন তুঁষের আগুন গডেস, বাদামীর বাহুল্য,
আকাশ এখন ফেরায় সম্মতি জানাল। এসো, ফিরে এসো তুমি।
তোমাকেই মানায়।