দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
নিরুপায়
ঘুমের ভেতর চলাফেরা মেঘেদের
যন্ত্রণা জন্ম দিচ্ছে এক একটা মৃত নক্ষত্র
আর কখনও রাত্রির কোল
জেগে উঠছে জোনাকি সুবাসে
একটি শহর এভাবে পাতাঝরা
শব্দে
তলপেটের ব্যথা টের পায়
রেলব্রিজের নীচে রক্তের আবহমান কবিতা
অথচ কি নির্বিকার চলমান ট্রেন
নির্মাণ করে নিজস্ব শিস্
পাথর আর লোহার কথোপকথন
পেরিয়ে চলে এসেছি অনেকদূর
রাস্তার শিরা উপশিরায়
শীতল ঝরণার জল
জ্বর ভাঙতে ভাঙতে অবর্ণনীয় বিস্বাদ
কিছুতেই ফিরতে দিচ্ছে না বিশ্বস্ত ডাঙায়
হঠাৎ
তোমাকে চিনতে পারি ছোটো গ্রাম ভেঙে
জোৎস্নার বহুতল
লাবণ্যের ছাদ
গান যেন ভিজে গেল
বিষাদ কাটিয়ে
মুখোমুখি
ফোটে রজনীগন্ধা
তার চোখে জাগা ভাষা
সাদা হাঁসের পালক নয়
সামুদ্রিক লিপি
নারী। ঝিনুক। নতভঙ্গিমায়
স্পর্শ করছে লবণাক্ত জল
লম্ব। বৃত্ত। জ্যামিতিক প্রতিচ্ছবি
ঝাউয়ের পাতায় রোদের ফলন
নাম না বললেও বুঝে নেয় । সমুদ্র।
মুদ্রাদোষ। বেরোতে দেয় না কিছুতেই
ইন্দ্রিয়। দশ। ক্রমশ বিজয় পতাকা হাতে
বালুর শঙ্খ কুড়িয়ে ফুঃ দিলে
লেখার কালিতে ঢেউ আর ঢেউ
বিকেল গড়িয়ে গেলে
১.
বিকেলের গায়ে এক ঘরবাঁধা আফসোস থাকে
হাজার শালিকের জোকার পেরিয়ে
চোখ খুঁটে নেয় এক পাগলকে
ওখানে আকাশ সিঁদুর পরে হাততালি দেয়
সূর্যাস্ত টুপ হয় অন্ধ মেয়ের কুলুঙ্গিতে
২.
নির্জনতা সন্ধ্যার প্রিয় নাম
সুরের আঙুল ছুঁয়ে মায়াবী প্রদীপ
কেঁদে আগুন লাগায় এক বেহালা
নেশা ধরে গেলে লেখার টেবিল
বিলের গভীর দেশে খোঁজে মাছের চোখ আর ক্রমশ আঁশগন্ধ উসকে
দিচ্ছে ঝিঁঝিঁদের সহবাস ও শীৎকার