সোমা ঘোষের কবিতা
বৃত্ত
ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচ্যুড।
ঢলে পড়েছে মার্কেজের বিষণ্ণ বিকেল,
ফায়ার প্লেসের সামনে বসা কিশোরের হাত ময় বৃষ্টির সিম্ফোনি—
স্বপ্নের মধ্যে হেঁটে চলা শব্দের মতো
তুমি,
আমার চোখে কানে ঢুকে পড়ছে ঝুঁকে থাকা আনন্দরা।
অবাক হয়ো না,
দূরের সেসব তুচ্ছ গন্ধরা ঠিক চিনে রেখেছে আমায়—
ম্যাজিক রিয়েলিজম—
অবশ হচ্ছি না — একটুও না।
অথচ দ্যাখো,
চাঁদ জলে ভাসলে আমার ডুব দিতে ইচ্ছে হয়-
গভীর ডুব,
খুব গভীরে…
তুমি
যেটুকু জ্যোৎস্না ফেলে গেছো
কংসাবতীর বুকে,
উডেড হিলস – ঋতুর গ্রীনরম
সবুজ ফড়িং বাহারি টব আমার তেতলার বারান্দার কোণে,
বুঝি সুরকার ও ব্যবসা বোনে —
‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’…
হারিয়ে যাওয়ার আনন্দ। এলিজা কার্সন।
হাত বাড়িয়ে মরশুমী রোদ –
আঁচল টানে জল,
হেলানো কেদারা, ঝুঁকে লন্ঠন,
ঝাপসা কাঁচের অন্দরে,
তোমায় প্রথম দেখেছিলাম
অল্প শীতের আবদারে।
বিশ্বাসঘাতক
ঘুটঘুটে বাড়িটা একদিন জ্যোৎস্নায় ভিজেছিল,
সারারাত,
রুবাইয়্যাৎ,
খৈয়ামের সুর,
চুর হয়ে চাঁদ,
রঙ রঙ আরো রঙ,
শেষ রাতের আহ্লাদ।
সকাল হতেই,
সূর্য ধোঁয়া,
শুখা বাতাস,
আর্দ্র তারা,
চারদিক,
জল জল আরো জল,
পুরনো বট অশ্বত্থ।
বিপুল এ বৈভব,
শরীর আর জ্যোৎস্না দুই বিশ্বাসঘাতক।