সুনীল শর্মাচার্যের কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতা

তাই লিখি চিঠি

তুমি ঠিক কতদূরে বুঝতে পারি না:
তাই লিখি চিরকুট পাখিদের ডাকে—
জাঁকিয়ে বসেছে কথা,কাকে চাই কাকে?
উড়ো মন উড়ে চলে কিছুতে থামে না!

আকাশে বাতাসে ঢেউ মনে দেয় দোলা
ভালো আছি,ভালো নেই,বুকে যন্ত্রণা,
অহরহ কুরে খায় নানা মন্ত্রণা—
তবু হাঁটি পথ রোজ খুশি দিল্ খোলা!

ভৌতিক চাঁদের আলো রাত হলে দেখি—
আমার ঘরের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে,
টেলিফোনে কথা বলি হাত-পা বিছিয়ে—
তোমার মুখের ছবি ছায়া ধরে সে-কি?

জানি না বুঝি না ঠিক তাই লিখি চিঠি
এখানে ওখানে যাই মেলে রাখি দিঠি!

মুখশ্রী তোমার

তোমার মুখের দ্যুতি চুপ হয়ে দেখি…
হঠাৎ চমকে চোখ— গভীর অতল,
বিস্ময়ে অবাক তবু ভাবি সব মেকি
অদৃষ্টে ঘটনা কত হয়েছে বিকল।

মনের কুঞ্জে মঞ্জরী ফুটেছে শুভ্রতা
অমৃত স্বাদে ক্ষুধায় দুরন্ত হয়েছে…
শরীর ছোঁয়া বাতাসে উড়ে যায় কোথা?
ভাবছি মনের পথে ছায়া ফেলে গেছে!

দিগন্তে সরল মেঘ স্মৃতির কঙ্কাল
এ-সব ভাবনা,কথা, তোমাকেই চিনি,
তোমার মুখের মতো কাউকে দেখিনি!
তির্যক বিদ্যুৎ হানে নিত্য মহাকাল।

বেদনা বিস্ময়ে আমি দেখেছি আঁধার,
ছায়া ফেলে পাখা মেলে মুখশ্রী তোমার।

স্বপ্ন ঘুমে

কেউ যেন ফিরে এলো প্রেতযোনি বেয়ে
নির্বাক দাঁড়ালো এসে পীড়নের ছলে,
মাংস নেই,অস্থি নেই, শুধু আসে ধেয়ে
কী কথা বলতে চায়,চোখ তার জ্বলে।

অতীত বিস্ময় যেন ছিন্ন করতলে
ভাগ্যরেখা ভাবি মনে দেহ ওঠে কেঁপে,
সরল অঙ্কের মতো মিশে পদ্মদলে
শীতল পরশ দেয় দিনক্ষণ মেপে।

স্বপ্ন ঘুমে গাঢ় রাত,জাগি শূন্য ঘরে
ধূসর বিবর্ণ ছবি চোখ জুড়ে ভাসে,
শ্বাসবায়ু বয় ধীরে নাসিকায় নড়ে
কথা বলে কেউ যেন মুখ টিপে হাসে।

নিথর শরীর নিয়ে চুপে শুয়ে থাকি
আশ্চর্য আবেগে মুখ শিহরণে ঢাকি!