শীতল চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
গড়া
রাতের মাঝে অনেক আলো জ্বললেও
উজ্জ্বল হয়না তোমার মতো ৷
প্রতিদিনের নিতান্ত নিরুপায়ী রাত
থাকার জন্য আসে , চলেও যায় অনুপায়ে ৷
জাগরিত দিবালোকে
স্রোতময় জনতা নদীর মাঝে ,
তোমার উড়ন্ত অস্তিত্বকে আবক্ষ করতে
নিমগ্নতার ছেনি চলে ৷
দিবালোকের থেকেও তোমাকে আলোকময় করতে
রোদ্দুর সামগ্রীতে চলে গড়া ৷
বাতাসের প্রলেপে স্পন্দিত করতে –
অক্লান্ত ছেনি, বিনিদ্র কলম , নিরলস তুলি আর
বিছানো অপলকের ওপর পেরিয়ে চলা
দিন-রাত , বৃষ্টি-ঝড়, ভোর থেকে আর এক ভোর ৷
এ সবের কততম প্রজন্মে তুমি স্বরময় হবে
তারাই জানবে শুধু ৷
একটা কলমও নেই
ভোরের পাখি হয়ে এসেছিল
একটা কবিতা ,
ফুলের গায়ে শিশিরে একটা কবিতা মাখানো ছিল
জানি তা ৷
তবুও তখন রেশন তুলতে যাওয়ার ব্যাগে
রাখতে পারিনি কবিতাকে ৷
রেশনে পাওয়া তিন কিলো মোটা চাল নিয়ে
ফেরার পথে –
অনেক খুঁজেও ওই কবিতাদের পাইনি আর ৷
কবিতা চলে গেছে,
এক টুকরো ছেঁড়া রোদ্দুর পাতায় লিখে গেছে
ভাতের চেয়ে আপন হতে পারিনি কোনোদিন ৷
তিন কিলো রেশনের চালের চেয়ে
কোনোদিন বেশি নয় কবিতার মূল্য ৷
তবুও ,কবিতার বলে যাওয়া কথাগুলো লিখে রাখবো বলে-
একটা কলমও নেই
রেশন কৃপা নির্ভর এই জীবন ঘরে ৷