পারমিতা রাহা হালদার (বিজয়া) এর কবিতা

পারমিতা রাহা হালদার (বিজয়া) এর কবিতা

আমার একলা আকাশ

এবং আমি! নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ না করে বুক পেতেছি,
উষ্ণ বাষ্প দূরত্ব মেপে চলে-
কিছু গল্প না বলা থেকে যায় স্বপ্নের পাতায়।
এখন অভিমানী বিকেল, রূপালী রাত আরশি মহল জুড়ে বিচলিত অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায়…

মেঘের উড়ো চিঠিও পথ হারিয়েছে অচিনপুরের সীমানায়,
কালো রাত আর একলা রাজপথ তখন
আমায় গল্প শোনায়,তাদের বাঁচার গপ্পো…

কবিতারা জন্ম নেয় মনের গহীন আঁতুর ঘরে-
যত মান-অভিমান,দুঃখ-সুখ ভাগ করে কলম-কালি জ্বলে ওঠে দাবানল হয়ে;
কতো স্বপ্ন চিতায় উঠেছে-
ভাষাহীন রুক্ষ পটভূমিতে নির্মিত হয় নিষ্ঠুর পথ প্রতিদিন;
ঝড়ের তাণ্ডবে অঙ্কুরিত মস্তক গেছে ভেঙে,
সভ্যতা হারিয়ে গেছে রঙ বদলের উল্লাসে!

দলছুট নই আমি,আমায় সফেদ কাগজ স্বাধীনতা দেয়;
হতাশায় জর্জরিত আমার দোয়াত-শরকলম বর্ষাফলক হয়ে গর্জে উঠতে চায়, আমাকে শেখায় বিদ্রোহী হতে…

জীবনের হারানো পাতা খুঁজে চলি-
অনেক দিন আগে ভেঙেছে মমত্ব, পুড়ছে সহমর্মিতা;ছিন্নভিন্ন হয়েছে ভালোবাসা; বেঁচেবর্তে রয়েছে ফর্মালিনের গন্ধ আর ভাইরাসে মোড়া দেহ,
চোখ বেয়ে ভাসে একুল-ওকুল,নেমে আসে অন্ধকার;দগ্ধতার যন্ত্রণায়।

হানাহানি, বিদ্বেষ গিলে খায় ভস্মীভূত ক্ষুধা, মৃত্যুকীট;একলা মানুষই;
সময়ের তরবারি আটকাতে পারেনি তাদের আগমন..!

শিরা উপশিরা বেয়ে খসতে থাকে আঁকড়ে থাকা ঠিকানা,
দূরে থেকেও কাছাকাছি থাকা, ক্লান্তি লগ্নে বিপন্ন যখন সভ্যতা,খসে পড়ে ভণ্ডামি।
আর আমি! নীরবতার মাঝে অরাজকতার বোঝা দেখে জবাব খুঁজি;

অপেক্ষা শুধু সময়ের…!!

আমিসত্ত্বা

একলা সাঁঝ জ্যোৎস্না ছুঁয়ে ভেজায় মন,
গোধূলি রাঙা আকাশ অচেনা হয়ে নামায় সন্ধ্যা ছায়া,
ঠিক তখনই আমার ইচ্ছা গুলো ডানা মেলে উড়তে চায়….!

প্রচন্ড বৈশাখী প্রখরতায় এক চিলতে শ্রাবণের মাখামাখি,
নয়তো বা ভরা বর্ষায় আবোল তাবোল চিন্তা পোড়ায় অভিমান।
রূপকথারা ভিড় করে চোখের ঝাপসা কাঁচে,
চোখের ভাষাতে আর প্রেম লিখি না,
মনটাকে অন্য এক বিছানায় রেখে খেলি প্রেম-অপ্রেম খেলা।

ফুলের বাসরে গুছিয়ে নিই জীবন রচনা ,
‘শেষের কবিতা’য় জীবন বোধ শিখি,পেন্ডুলামের এপাশ ওপাশ সময়ে….!
কবীর সুমনের, “শেষ পর্যন্তও তোমাকে চাই”- সুর ছড়ালো ধীর গতিতে আমার বিষণ্ণতা ঘেরা বিছানায়,
হঠাৎ এখন আমি যেন বধির,আমার চারিপাশ নিস্তব্ধ;
সত্বর অভিমানী বর্ষা এসে বাজাচ্ছে আমার ঘরের টিনের ছাদ…..!
সংলাপে ওড়ার স্বপ্ন ভাঙে,
আমি তখনও গল্প বেচে চলি আধপেটা একলা সাঁঝ শহরেই…!!

বাউলিয়া মন

প্রকৃতির মায়ায় প্রেম বিলোতে বিলোতে
আমার ফাগুন প্রেমিক বসন্ত আলিঙ্গনে জড়ায়,
ত্যাগের গেরুয়া সাজে…
চারিপাশ ছড়ানো ছিটানো ঝরা পাতা গালিচা পাতে শহরের আলপথ জুড়ে,
রোদ্দুর চুপিসারে ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় মিশে
ছুঁয়ে যায় কৃষ্ণচূড়ার আদুরী বাহার…
স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সুরকার কোকিলরাজ শিস্ দিতে দিতে
এপাড়া ওপাড়া ঘুরে রেওয়াজ জমায় মিষ্টি সুরে।

চিত্রকার চিত্রকল্পে এঁকে চলে কখনো বিবর্ণ বসন্তের নগ্নতা, আবার কখনো বা নৈপুণ্যে
আবির রাঙা রঙিন ভালোবাসা।

আমি বৈরাগী সাজে বসন্তের বোষ্টমী,
একতারা দোতারার তারে স্বরলিপি অনুসরণে বাউল সুর মিলিয়ে অপেক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পুরুষের।

সবারই একটা বড্ড দামী নিজস্বতা থাকে,
নিজের আমিত্ব,একলা ঘর,শূন্যতা,বুকচাপা কান্না,
হৃদয়ের রণাঙ্গন পোড়া ছাই হওয়া সুখ,
অঝোরে ঝরা অশ্রু…
আচ্ছা বসন্ত, নগর বাউল তুমি অন্ধ সেজে স্রোতে ভাসাও প্রেমময় বিহ্বলতা,
বোঝনা বৈষ্ণবীর অনুচ্চারিত আক্ষেপের অস্ফুট বোল!

মেঠো পথ ধরে চলা রাখালীয়া বাঁশিতে ফুঁ দিতেই ঠোঁটে ঠোঁট রাখা বৈষ্ণবী হাসির যন্ত্রণা একা লুকায়, সেটাও কি বোঝনা ..
হিয়ার মাঝেও তীব্র দাহে বসন্তর কাঙ্ক্ষিত অধরা প্রেম পোড়ে বৈশাখী প্রখরতায়,
বদলানো ৠতুর প্রাক্কালে বৈষ্ণবী গোণে প্রহর…

বসন্তের অপেক্ষায়-