ননীগোপাল দেবনাথের কবিতা

ননীগোপাল দেবনাথের কবিতা

সৈনিক

যদি মৃত্যু বরণ করি,সেই শ্রেয়
বিশ্বের যে কোনটি আগলে ধরে রাখছি
নাম বাংলাদেশ।
এর মাটি উর্বর,আরো উর্বর অবগুণ্ঠিত
বালি কণা,সেই কণা বাংলাদেশ ধারণ করে
তাকে রূপায়িত করে
আমাদের সচেতন করে,
তার দেয়া পুষ্প গুচ্ছ দিয়ে তাকেই ভালোবাসি
আমরা বেঁচে থাকি তার সুঘ্রাণে।
নদী-নালা বিধৌত
মহিমান্বিত রবি রেখায় উষ্ণ।
তার জন্য লড়াই করি
ভাবি,সকল মন্দ,অসৎ মোচন করি
এমনটা উদ্ভাসন,দৃষ্টিপাত,
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন শাশ্বত
কোন ঘাটতি নয়।
এমন ভাবের সঞ্চালনা
দিয়েছে বাংলাদেশ।
তার আকর্ষণীয় বস্তু দর্শন
সুললিত ধ্বনি
স্বপ্নিল প্রাতঃকাল প্রতিদিন।
সহাস্য বন্ধুর মিলন
সদাশয়তা,কোমলতা
হৃদয়ে প্রশান্তি,স্বর্গীয় বাংলাদেশ।

একাত্ম

এসো ভাইবোনেরা সব
আমাদের দেশ আমরাই কর্তৃত্বের অধিকারি,
যারা অবাঞ্ছিত,যারা লুটেরা
খুঁজে বের করে, পিঙ্গল আগুনে পোড়া ছাই মারি।
মিথ্যার বেসাতি আঁকড়ে যারা কথা বলে
মুখে কুলুপ দিয়ে দেবো যত্ত সব।

যেখানে পাও,যত্রতত্র
সাঁড়াশীর ন্যায় প্রবলভাবে মুচড়ে দাও
স্বীকার না হওয়া পর্যন্ত,
বেটারা সব,করবো শ্রাদ্ধ,
জনবল আমাদের অস্ত্র।
এসো আমাদের ঘোড়দৌড় আমরা উৎসাহিত করি
সুতরাং তারা কলুষ মুক্ত, নিখুঁত না হলেও
আগ্রাসনটা গুঁড়িয়ে দাও,
এসো আমরা ওদের এখানেই স্তব্ধ করি।
ধর্মের আবরণ ছেঁটে, পরিত্যক্ত
বেরিয়ে আস, এক ভাষায় কথা বলি
শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা নয়
আমাদের গুরুদায়িত্ব
কোথাও আমাদের জন্য অপেক্ষায়
এসো আমরা ঐক্যবদ্ধ হই,
আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি
হয়ে একাত্ম।

তোমার বাড়ন্ত ব্যথা

তোমাকে বলছি,
তুমি যদি আদর্শ বাঙ্গালী না হও
আমাদের সাথে নাচবে গাইবে
তা হওয়ার নয়,
বিষাক্ত হবে চলার পথ,জেনে নাও।

তুমি যদি স্বধর্মভ্রষ্ট,
বাংলাকে কলঙ্কিত কর
সংস্কৃতি এলোমেলো, ভাষা কর নষ্ট
আমাদের রক্তের ব্রত
প্রজন্মেরর হাতে হতেই হবে তোমাকে বিনষ্ট।

যদি লুটেরা ব্যাঙ্কার হও
অর্থনীতি ধ্বংস করে
গর্বিত প্রাচীন শিকারির মত
বাহাদুর হতে চাও,
এখানেই তোমার শেষ পদচিহ্ন
ধরে নাও,তোমার জীবনের সায়াহ্ন।

অভিনয় করবে না
মুখে মায়া কান্না,
সকল মায়ের জন্য।
নীচে কাউন্টারে
দর কষাকষি পণ্য বিক্রয়
আর চলবে না।

চিকিৎসাশাস্ত্রের কথা মানবিক
তোমরা শাস্ত্র বেচায় নির্ভীক
অনুসন্ধান কর মানুষের পকেট
যতটা সময় সজীব ত্বক
এমন কী ফেলে দেয়া সমস্ত আবর্জনা
যতটা পাও ততটুক।

তুমি খোঁজ রত্ন
শুয়ে বসে কায়দা করে,
নানা বাঁকা পথ, নানা অবাঞ্ছিত সঙ্গ
ভাব,এমন কোন প্রাণ নেই বুঝতে পারে।
নিজেকে মনে কর সুচতুর,
ঠিকঠাক চল দৃষ্টি যতদূর।
জেনে নাও তুমি ভ্রান্ত
অজ্ঞতা পরম সুখ, তা নয়
তুমি আনন্দদীপ্ত গণ্ডমূর্খ।
যখন দেখবে ফোলা ব্যথা বাড়ন্ত
যতই না কর চেষ্টা সযত্ন
হাঁটুগেড়ে প্রার্থনা করবে
নিরাময় হবার নয়।