কাঞ্চন রায়ের কবিতা
যদি আবার সুস্থ হয়ে ওঠো পৃথিবী
অতিমারি পার হয়ে গেলে ভাবব—
তোমাকে কতটা ভালোবেসেছে স্থাবর বিকেলগুলো;
কতটা ব্যাকুল হয়েছে পশ্চিমের প্রতিটি লাল,
তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে সম্পৃক্ত হবে বলে।
এই শহরের প্রতিটি একলা রাস্তা,
আবার ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেলে জীবন,
দেখে নেব— অবেলার হৈমন্তী আকাশ বিস্তৃত ছায়াপথ
কি ভাবে ডিঙিয়েছে তোমার ওই দু’প্রহরের জানলা?
আমাদের শব্দ-স্মৃতিগুলো মিশে গেলে একতারার তারে—
কোন এক নীড়-ঘন কাগজি ফুলগাছের নীচে
তোমার সবুজ ঘাস হয়ে যাওয়া
ওড়নায় শুয়ে ভাবব—
কি করে এতগুলো নুড়ি পার হয়ে চলে গেল,
আমাদের আঙুলে বাধাঁ নৌকা
স্থির হয়ে যাওয়া সময়ের সেতু কাঠ পেরিয়ে? …
বিগত কবিতার পঙক্তি
যে কবিতায় ভালোবাসা জন্ম নিত,
যে পঙক্তিতে ঝরে পড়তো
তোমার কল্পিত মুখাবয়বের লাবণ্য,
যে শব্দরাশির স্তবকে স্তবকে
তোমায় ছুঁয়ে দেখার আকুলতা —
জন্ম দিত মেঘ ছোঁয়া রজঃ স্ফীতি;
তারা এখনও ছিনে জোঁকের মত
আঁকড়ে ধরতে চায় অতীত।
সৌখিন পর্যটকের রোমাঞ্চ-মথ
বুনতে থাকে, পরিকল্পিত রেশমের সুতো;
পাহাড়ি ঝর্ণার ফেলে আসা স্মৃতিপটে।
কিন্তু ভালোবাসা আজ দেহতত্ত্বে বিশ্বাসী!
ক্যানভাসে কাটা দাগ
ক্যানভাসের ছবিগুলো কল্পনাতেই থাক…
আঁকতে গেলে বীভৎসতাই ভেসে ওঠে আজকাল!
আকাশের গায়ে একটা লম্বালম্বি কাটা দাগ,
কঙ্কালসার দেহখান ধরা দেয় আয়নায়!
শরতের শিউলি ফুল কুড়িয়ে নেওয়ার হাতগুলো,
গরাদের কালশিটে মাখা জানলার মুখ চেয়ে,
বসে থাকলে থাক!
রং তুলি নিয়ে বসলে পরে,
ঠোঁটে লাগে শুকনো রক্ত দাগ।
তারচেয়ে বরং ক্যানভাসটা অনভ্যাসেই থাক!
প্যালেটে যে লাল নীল রং —
তার আড়ালে ঝুলে আছে আধখানা ছেঁড়া ক্ষুধার্থ জীবন ;
আনকোড়া ক্যানভাসে তা সাদা মেঘে বিমূর্ত,
খড়ের গাদায় ওই ভিখারি বিকেল গুলো,
আর না হয় নাইবা রংতুলিতে ফুটিয়ে তুললাম!