আনোয়ার রশীদ সাগরের কবিতা
বাসনা পূরণ হলে
মানুষের বাসনাগুলো পূরণ হয়ে গেলে চিন্তার মগজে লালচে ধরে
যাকে বলে মরিচা পড়ে,
থেমে যায় জীবনের অদৃশ্য অস্পর্শ ছায়া;
সব আলো এক হয়ে সাদা হয়ে যায়
অনেকটা কাফনের মত।
জীবনটা জ্বলে জ্বলে জলে সাঁতার কাটে,
শঙ্খচিলের পাখায় চড়ে স্বপ্ন দেখে স্বর্গে যাওয়ার;
স্মৃতিকাতর প্রাণিগুলো উপনাসনায় বসে কাঁদে শুধু,
অনেকটা ঘোলা জলের স্রোতের মত।
উপবৃত্তের ছবি আঁকতে আঁকতে আঁকে নিজের প্রতিচ্ছবি,
দেখতে পায়, সব রঙ মিশে ফিকে হয়ে গেছে জীবনের
ভাঁজে ভাঁজে;
চোখ আর ত্বকের বিবর্ণ বেদনা, বাসি হতে হতে ভুলে যায় পৃথিবীকে
অনেকটা জ্ঞানহীন শাবকের মত।
চেয়ে চেয়ে চেয়ারের চাহিদা দেখে দেখে, জটাবাঁধা সন্নাসীর পথে হাঁটে
জীবনের উপন্যাসের উজ্জ্বল উপস্থাপিত জ্যোৎস্নাও
ভুলে যায়
ভুলে যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অতীত
অনেকটা অচেনা অপথে চলা নর্দমার মত।
মানুষের বাসনাগুলো পূরণ হয়ে গেলে-
বন্ধ হয় তার দৌড়ানো,ভাঙা-ভোরে ভিতর ভিতর আযান শোনে
অদ্ভুত অভিযোগ আর অভিমানে, অন্ধকারে শুধু একা হতে থাকে
অনেকটা নিঃসঙ্গ পুরানো ভাঙা বাড়ির মত।
বিবর্ণ কবিতা
দুঃখের অতন্দ্রপ্রহরীরা কীভাবে জেগে থাকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুঝতে পারি না,
বুঝতে পারি না নীরব ঘুণপোকার মত গহীনে গহীনে কীভাবে বাসা বাঁধে?
জীবন তো একটায়, কেন খোঁপাখোলা বেণুনীতে বয়ে যায় বিরহ বাতাস?-
অন্তর্বেদনাতে জল টুপটাপ সাঁতার কাটে কল্পনার নদীতে
বুঝতে পারি না-বুঝতে পারি না।
রমনীয় চরিত্রগুলো নাচে-নাচে, নেচে নেচে নীড় বাঁধে চেতনার অস্তিমজ্জায়,
প্রসারিত শরীরে ছায়াময় ছলছল ছলনায় চেয়ে থাকে আকাশের নীলে।
গাঢ় দৃষ্টিতে দুহাতে দীর্ঘসময় নিঃসঙ্গতার নীলে বাসা বাঁধে অভিসারে
নিম্নমুখী নিজস্বতায় নেচে-নেচে নাচায় নীরব নদীর বুকের সমুদ্রে।
আমি এক অভিমানী পুরুষ, জেগে থাকি রাতভর
জাগতে জাগতে কল্পনার পাখা গজায় ভিতরে ভিতরে
সে পাখায় উড়ি,শুধুই উড়ি চাঁদ ধরার প্রত্যাশায়।
অতঃপর অনুভবে অন্তর্জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে জ্বেলে রাখি
কবিতার খাতায় একঝলক জ্যোৎস্নালো,
বিচ্ছেদের বিবর্ণ বনভূমিতে খুঁজি সেই লবনাক্ত ঠোঁট।
ভূমিআকাশ
দুপুরের জানালায় চোখ রাখো পাখির ঠিকানায়
বিবর্ণ আকাশে রঙচটে রোজ সৌন্দর্যের গভীরতায়
ভোর ভেঙে ভনিতা করে দুপুর আসে অসময়ে।
আশ্চার্য এক জীবন!- জালিমের জালে জ্বলে স্নিগ্ধ ভোর
মরুভূমির মরিচিকায় মর্মর ঝরে পড়ে জ্যোৎস্না-সুর
দক্ষিণা দরজায় দীর্ঘ হয় বিষাদের ছায়া।
সন্ধ্যা ভেজা বৃষ্টিগুলো ডুবন্ত জীবনকে ডুবাতেই চায়,
ডানাকাটা আকাশটা আকাশেই ওড়ে
দুঃখ থৈথৈ নদীর বুকে স্রোতের কান্নাগুলো কেঁদেই বুক ভাসায়।
উপরের ছন্দ ছাড়া ছুঁতে পারে না দূর আকাশের স্বর,
নিম্নমুখী নিচের জীবনটা নিচেই থাকে নিত্য
কষ্ট ভাসা রৌদ্রগুলো ভাঙনের ধারে ভেঙে ভেঙেই বাঁধে ঘর।